সাহিত্য পাঠ • গন্তব্য কাবুল

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

ইসরাত রাজশাহীর গ্রাম থেকে প্রথমবার ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে এসেছে। বাসে ওঠার পর থেকেই তার মন খারাপ, অচেনা শহরে সে একা। হোস্টেলে পৌঁছে পরিচয় হলো বড় আপা শাহনাজের সঙ্গে। তিনি ইসরাতকে তিন দিন নিজের ঘরে রাখলেন, শহর চেনালেন, পরে নিজে এসে বাসস্ট্যান্ডে বিদায় জানালেন। ফেরার পথে ইসরাত ভাবল, সব ভয় কি শুধু যাত্রার শুরুতেই থাকে?

  1. ক)

    আরবি প্রবাদ ‘ইয়াম উস সফর, নিসুফ উস সফর’-এর অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    “এখন মনে হলো ‘ভয়ংকর একা’।”- লেখকের এমন মনে হওয়ার কারণ কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ইসরাতের মানসিক অবস্থা রচনার লেখকের মানসিক অবস্থার কোন পর্যায়ের সঙ্গে তুলনীয়? আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উঠোন সমুদ্র পেরোলেই অর্ধেক মুশকিল আসান।”- প্রবাদটির তাৎপর্য উদ্দীপক ও রচনার আলোকে আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আরবি প্রবাদ ‘ইয়াম উস সফর, নিসুফ উস সফর’-এর অর্থ হলো যাত্রার দিনই অর্ধেক ভ্রমণ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর হাওড়া স্টেশনে লেখকের মনে হয়েছিল ‘আমি একা’। কিন্তু আহমদ আলীর বাড়িতে সাতদিন কাটিয়ে পেশোয়ার থেকে বাসে চড়ার সময় তাঁর মনে হলো তিনি ‘ভয়ংকর একা’। কারণ, তিনি যে নো ম্যানস ল্যান্ড ও খাস আফগানিস্তানের দিকে যাচ্ছিলেন, সেখানে মানুষ নিজের প্রাণ নিয়েই ব্যস্ত, কেউ কারও খোঁজ রাখে না। খুন-খারাবি হলেও দু-একদিন পুলিশ ঘোরাফেরা করে মাত্র। এই নিরাপত্তাহীনতা ও আত্মীয়-বন্ধুহীন পরিবেশের কারণেই লেখকের একাকিত্ব আরও ভয়ংকর রূপ নিয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ইসরাতের মানসিক অবস্থা ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনায় হাওড়া স্টেশন থেকে যাত্রা শুরুর সময় লেখকের একাকিত্ববোধের সঙ্গে তুলনীয়।

    রচনায় বলা হয়েছে, এতদিন লেখক পাসপোর্ট ও জামাকাপড় জোগাড় করতে এত ব্যস্ত ছিলেন যে অন্য কিছু ভাবার ফুরসত পাননি। কিন্তু গাড়ি ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর মনে প্রথম যে ভাবনা উদয় হলো তা ছিল অত্যন্ত কাপুরুষজনোচিত, তিনি একা। তাঁর ভ্রমণের উৎসাহ ক্রমেই চুপসে আসছিল। এমনকি ফিরিঙ্গিও তাঁকে গুম হয়ে শুয়ে থাকতে দেখে বলেছিল, “এত মনমরা হলে কেন?”

    উদ্দীপকে ইসরাতও ঢাকায় আসার পথে একই ধরনের অসহায়তা ও একাকিত্ব অনুভব করেছে। দুজনের ক্ষেত্রেই অচেনা পরিবেশ ও নতুন যাত্রার অনিশ্চয়তা মনের উৎসাহ কমিয়ে দেয়। তাই উদ্দীপকের মানসিক অবস্থা রচনার লেখকের যাত্রার শুরুর একাকিত্বের পর্যায়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রবাদটির তাৎপর্য হলো, যাত্রা শুরু করা এবং ঘরের উঠোনটুকু পেরোনোই সবচেয়ে কঠিন ধাপ; তা পার হতে পারলে অর্ধেক কঠিনতা কেটে যায়। রচনার লেখক আরবি ‘ইয়াম উস সফর, নিসুফ উস সফর’ প্রবাদের সঙ্গে পূর্ব বাংলার এই প্রবাদের মিল দেখিয়েছেন।

    রচনায় লেখকের ক্ষেত্রে ‘উঠোন’ হলো আহমদ আলীর বাড়ি। লেখক বলেছেন, আহমদ আলীর উঠোন পেরোতে তাঁর পাক্কা সাতদিন কেটে গেছে। অর্থাৎ পাঠানের আতিথেয়তা ছেড়ে বেরিয়ে আসাই ছিল যাত্রার প্রথম ও কঠিনতম বাধা। আটদিনের দিন আহমদ আলী নিজে লেখককে বাসে তুলে দেন। কিন্তু এরপর লেখক নিজেকে ‘ভয়ংকর একা’ বোধ করেন। কারণ নো ম্যানস ল্যান্ড ও আফগানিস্তানে মানুষ নিজের প্রাণ নিয়েই ব্যস্ত। এ থেকে বোঝা যায়, শুরুর বাধা পেরোলেও পথের ভয় ও অনিশ্চয়তা একেবারে কাটে না।

    উদ্দীপকে ইসরাতের ক্ষেত্রেও প্রথম বাধা ছিল গ্রাম ছেড়ে অচেনা শহরে আসার ভয় ও একাকিত্ব। শাহনাজ আপার সান্নিধ্যে তিন দিনে সে শহরের সঙ্গে পরিচিত হয়ে ওঠে। ফেরার পথে তার প্রশ্ন, সব ভয় কি শুধু শুরুতেই থাকে, প্রবাদের বক্তব্যের সীমা নিয়েই ভাবায়।

    অতএব প্রবাদটির মর্মার্থ হলো, যাত্রার সূচনা ও প্রথম বাধা অতিক্রম করাই কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ। রচনা ও উদ্দীপক দুই ক্ষেত্রেই এর সত্যতা মেলে, যদিও পরবর্তী পথের চ্যালেঞ্জ আলাদাভাবে মোকাবিলা করতে হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও