জীববিজ্ঞান • জীবের বংশগতি ও জৈব অভিব্যক্তি

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

নাসির ও শিউলি মামাতো-খালাতো ভাইবোন এবং স্বামী-স্ত্রী। বিয়ের পর রক্ত পরীক্ষায় ডাক্তার জানালেন, তাঁদের দুজনেরই লোহিত রক্তকোষ তৈরির একটি জিনে ত্রুটি আছে। তবে তাঁরা নিজেরা সুস্থ। ডাক্তার সন্তান নেওয়ার আগে তাঁদের পরামর্শ নিতে বললেন।

  1. ক)

    থ্যালাসেমিয়া কী?

    (1)
  2. খ)

    থ্যালাসেমিয়া মেজর ও থ্যালাসেমিয়া মাইনরের মধ্যে পার্থক্য কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের দম্পতির সন্তানদের মধ্যে সুস্থ, বাহক ও আক্রান্ত সন্তানের সম্ভাব্য অনুপাত পানেট স্কয়ারের মাধ্যমে নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    নাসির ও শিউলির প্রথম সন্তান থ্যালাসেমিয়া মেজরে আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসা ও দম্পতির করণীয় সম্পর্কে তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তজনিত রোগ, যাতে লোহিত রক্তকোষ নষ্ট হয়ে যায় এবং রোগী রক্তশূন্যতায় ভোগে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর থ্যালাসেমিয়া মেজরের ক্ষেত্রে শিশু বাবা ও মা উভয়ের কাছ থেকে থ্যালাসেমিয়া জিন পায়। ফলে সে রোগের লক্ষণ প্রকাশ করে এবং জন্মের প্রথম বছরেই জটিল রক্তশূন্যতায় ভোগে। অন্যদিকে থ্যালাসেমিয়া মাইনরের ক্ষেত্রে শিশু শুধু বাবা অথবা মায়ের একজনের কাছ থেকে জিনটি পায়। এ অবস্থায় কোনো উপসর্গ দেখা যায় না, শিশু কেবল জিনের বাহক হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর থ্যালাসেমিয়া একটি অটোসোমাল রিসিসিভ রোগ। সুস্থ জিনকে R এবং থ্যালাসেমিয়া জিনকে r ধরলে নাসির (সুস্থ বাহক) ও শিউলি (সুস্থ বাহক) উভয়ের জিনোটাইপ Rr।

    নাসিরের গ্যামেট: R, r
    শিউলির গ্যামেট: R, r

    পানেট স্কয়ার:

    Rr
    RRRRr
    rRrrr

    সন্তানদের জিনোটাইপ: RR : Rr : rr = 1 : 2 : 1।
    অর্থাৎ 25% সুস্থ (RR), 50% সুস্থ কিন্তু বাহক (Rr) এবং 25% থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত (rr)। এটি সম্ভাব্যতা নির্দেশ করে, প্রতিটি সন্তানের ক্ষেত্রেই আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা 25%।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আক্রান্ত সন্তানের জিনোটাইপ rr, অর্থাৎ সে বাবা ও মা উভয়ের কাছ থেকে ত্রুটিপূর্ণ জিন পেয়েছে।

    চিকিৎসা: থ্যালাসেমিয়া মেজর রোগীর শরীরে ত্রুটিপূর্ণ লোহিত রক্তকোষ উৎপন্ন হয়, তাই নির্দিষ্ট সময় পর পর রক্ত দিতে হয় এবং নির্দিষ্ট ঔষধ খাওয়াতে হয়। বারবার রক্ত দেওয়ার ফলে শরীরে লৌহ জমতে থাকে, তাই রোগীকে লৌহসমৃদ্ধ ফল বা ঔষধ দেওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত লৌহ জমলে যকৃৎ নষ্ট হয়ে জন্ডিস এবং অগ্ন্যাশয় নষ্ট হয়ে ডায়াবেটিস হতে পারে। এসব সমস্যা শুরু হলে রোগীর ৩০ বছরের বেশি বাঁচার সম্ভাবনা কমে যায়।

    দম্পতির করণীয়: প্রতিটি গর্ভধারণে সন্তান আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা 25%। তাই পরবর্তী সন্তানের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষা নেওয়া উচিত। মামাতো-খালাতো ভাইবোনের মতো নিকট আত্মীয়ের মধ্যে একই ত্রুটিপূর্ণ জিন থাকার সম্ভাবনা বেশি, তাই এ ধরনের বিয়ে এড়ানো এবং বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করে বাহক শনাক্ত করা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সুতরাং নিয়মিত রক্ত ও ঔষধের মাধ্যমে চিকিৎসা চালানো এবং ভবিষ্যৎ সন্তানের ঝুঁকি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই দম্পতির জন্য যুক্তিসংগত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও