বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের পরিবার কাঠামো ও সামাজিকীকরণ
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
নবম শ্রেণির ছাত্র সায়মের পাড়ায় সমবয়সী কয়েকজন বন্ধু আছে। তারা প্রতিদিন বিকেলে একসাথে ফুটবল খেলে এবং পরীক্ষার আগে একসাথে পড়াশোনা করে। খেলার সময় মাঝে মাঝে তাদের মধ্যে ঝগড়া হলেও তারা নিজেরাই তা মিটিয়ে ফেলে। সম্প্রতি দলের দু-একজন বন্ধু সায়মকে স্কুল পালিয়ে ঘুরতে যেতে উৎসাহ দিচ্ছে। সায়মের বাবা বিষয়টি টের পেয়ে তার ওপর নজর রাখছেন।
- ক)(1)
অন্তরঙ্গ বন্ধুদল কী?
- খ)(2)
বিদ্যালয়কে শিশুর সামাজিকীকরণের আনুষ্ঠানিক মাধ্যম বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে সায়মের বন্ধুদলের মাধ্যমে সে কী কী গুণ অর্জন করছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শেষ অংশের ঘটনাটির আলোকে সায়মের সামাজিকীকরণে বন্ধুদলের প্রভাব মূল্যায়ন করো এবং এক্ষেত্রে পরিবার ও শিক্ষকের করণীয় বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সমবয়সী শিশু-কিশোরদের যে দলের সদস্যদের আচার-আচরণ প্রায় একই প্রকৃতির এবং যাদের নিজস্ব মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও রীতিনীতি রয়েছে, তাকে অন্তরঙ্গ বন্ধুদল (Peer Group) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম, পাঠ্যক্রম ও শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে সুপরিকল্পিতভাবে শিক্ষা দেওয়া হয়। এখানে শিশু জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি শৃঙ্খলাবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, শ্রদ্ধাবোধ ও সহযোগিতার মতো সামাজিক আদর্শ শেখে। শিক্ষক, সহপাঠী ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধের সংস্পর্শে এসে তার আচরণ গড়ে ওঠে। এ প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট কাঠামো ও নিয়মের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় বলে বিদ্যালয়কে আনুষ্ঠানিক মাধ্যম বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে সায়মের বন্ধুদলটি একটি অন্তরঙ্গ বন্ধুদল বা পিয়ার গ্রুপ। এ দলের মাধ্যমে সে নানা গুণ অর্জন করছে।
প্রথমত, একসাথে ফুটবল খেলা ও পড়াশোনার মাধ্যমে সে সহযোগিতা ও সহমর্মিতা শিখছে। দ্বিতীয়ত, খেলার সময় ঝগড়া হলে তারা নিজেরাই তা মিটিয়ে নেয়। এর ফলে সায়ম সমস্যা সমাধান ও দ্বন্দ্ব নিরসনের কৌশল আয়ত্ত করছে। তৃতীয়ত, দলগত খেলায় সে নেতৃত্ব ও সহনশীলতার গুণ অর্জন করছে। এছাড়া বন্ধুদের প্রশংসা ও সমালোচনা থেকে সে সমাজের কাঙ্ক্ষিত আচরণ সম্পর্কে ধারণা পাচ্ছে।
অতএব, বন্ধুদলের মাধ্যমে সায়ম সহযোগিতা, সহনশীলতা, নেতৃত্ব ও দ্বন্দ্ব নিরসনের কৌশল অর্জন করছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে সায়মের সামাজিকীকরণে বন্ধুদলের ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় প্রভাবই লক্ষ করা যায়।
ইতিবাচক দিক: বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা ও পড়াশোনার মাধ্যমে সায়ম সহযোগিতা, নেতৃত্ব ও দ্বন্দ্ব নিরসনের কৌশল শিখছে। এ দলের প্রভাবে শিশু সমাজস্বীকৃত মূল্যবোধ গ্রহণ করতে পারে।
নেতিবাচক দিক: দলের কয়েকজন বন্ধু তাকে স্কুল পালাতে উৎসাহ দিচ্ছে। এটি শৃঙ্খলাবোধ ও নিয়মানুবর্তিতার পরিপন্থী। পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়া ও অন্য খারাপ অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এতে তৈরি হয়। পাঠ্যবইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী বন্ধুদলের প্রভাবে শিশু সমাজের খারাপ দিকও গ্রহণ করতে পারে।
পরিবার ও শিক্ষকের করণীয়: সায়মের বাবা তার ওপর নজর রাখছেন, যা সঠিক পদক্ষেপ। তবে শাসনের পাশাপাশি বন্ধুসুলভ আচরণ করে তাকে ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝাতে হবে। শিক্ষককে স্কুলে তার অনুপস্থিতির কারণ খোঁজ নিয়ে অভিভাবককে জানাতে হবে এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে তাকে যুক্ত রাখতে হবে।
সুতরাং বন্ধুদলের প্রভাব সায়মের জন্য মিশ্র। পরিবার ও শিক্ষক সচেতন থাকলে খারাপ প্রভাব এড়িয়ে তার সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ নিশ্চিত করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও