সাহিত্য পাঠ • তোমার আপন পতাকা
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
হাওরপাড়ের গ্রামে হঠাৎ বন্যায় বাঁধ ভেঙে গেলে কৃষক করিম, জেলে নাসির, তাঁতি গোপাল আর কুমার হারান মিলে মাটি কেটে বাঁধ মেরামতে নেমে পড়ে। তাদের ডাকে গ্রামের সবাই একে একে যোগ দেয়। শুধু শহর থেকে আসা চাকরিজীবী মাহতাব সাহেব ঘরের বারান্দায় বসে হিসাব কষেন—এ কাজে তাঁর কী লাভ। শেষে ছেলেমেয়েদের উৎসাহ দেখে তিনিও কোদাল হাতে নেমে আসেন। সবার কাজে ভাঙা বাঁধ আবার মাথা তুলে দাঁড়ায়।
- ক)(1)
‘সংশপ্তক’ শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
“মধ্যবিত্ত অনড় আবিল”—বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের কৃষক-জেলে-তাঁতি-কুমারদের একত্র হওয়ার দিকটি ‘তোমার আপন পতাকা’ কবিতার কোন অংশের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“মধ্যবিত্তের স্থবিরতা কাটিয়ে সকলের একত্র হওয়াই উদ্দীপক ও ‘তোমার আপন পতাকা’ কবিতার মূল সুর।”—মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘সংশপ্তক’ শব্দের অর্থ হলো এমন যোদ্ধা, যে শপথ নেয় হয় যুদ্ধে জয়ী হবে, নয়তো মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও লড়াই চালিয়ে যাবে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শ্রমজীবী মানুষের লড়াকু মানসিকতার বিপরীতে কবি মধ্যবিত্ত শ্রেণির স্থবিরতা ও আপসকামিতা প্রত্যক্ষ করেছেন। ‘অনড়’ বলতে সংগ্রামে এগিয়ে না আসার জড়তা এবং ‘আবিল’ বলতে মনের দ্বিধা ও স্বার্থচিন্তার মলিনতা বোঝানো হয়েছে। মধ্যবিত্ত শ্রেণি নিজের নিরাপত্তা ও সুবিধার হিসাব কষে সহজে মিছিলে নামতে চায় না। কবি এই দুর্বলতাকেই ‘অনড় আবিল’ বলে চিহ্নিত করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের কৃষক, জেলে, তাঁতি ও কুমারদের একত্র হয়ে বাঁধ মেরামতের দিকটি ‘তোমার আপন পতাকা’ কবিতার সেই অংশের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ, যেখানে কবি শ্রমজীবী মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চিত্র এঁকেছেন।
কবিতায় কবি দেখেছেন, কারখানার রাজা, লাঙ্গলের নাবিক, মাল্লাদল এবং কামার, কুমোর, তাঁতিরা সবাই ‘মেহনতের প্রভু’। তারা একে একে সকলকে মিছিলে নামায় এবং ‘আপামর ভাই বোন’কে ডেকে নিয়ে নিশ্ছিদ্র শিলাদৃঢ় পাহাড় গড়ে তোলে। কোটি হাত এক হাত হয়ে যায়।
উদ্দীপকেও কৃষক করিম, জেলে নাসির, তাঁতি গোপাল ও কুমার হারান নিজেদের উদ্যোগে কাজে নামে এবং তাদের ডাকে গ্রামের সবাই যোগ দেয়। সম্মিলিত শ্রমে ভাঙা বাঁধ আবার দাঁড়ায়। এভাবে শ্রমজীবী মানুষের নেতৃত্বে সকলের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের দিকটিই উদ্দীপক ও কবিতায় সমানভাবে ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি আংশিকভাবে যথার্থ। উদ্দীপক ও কবিতা উভয়েই মধ্যবিত্তের স্থবিরতা কাটিয়ে সকলের একত্র হওয়ার চিত্র আছে, কিন্তু কবিতার মূল সুর এর চেয়ে ব্যাপক।
উদ্দীপকে মাহতাব সাহেব প্রথমে নিজের লাভ-লোকসানের হিসাব কষে বারান্দায় বসে থাকেন। পরে ছেলেমেয়েদের উৎসাহ দেখে তিনি কোদাল হাতে নামেন। ‘তোমার আপন পতাকা’ কবিতায়ও কবি ‘মধ্যবিত্ত অনড় আবিল’ বলে এই শ্রেণির আপসকামিতার কথা বলেছেন। শ্রমজীবী মানুষ ‘একে একে সকলকে নামায় মিছিলে’ এবং এভাবে সব শ্রেণির মানুষ অভিন্ন লক্ষ্যে মিলিত হয়। এ জায়গায় উদ্দীপক ও কবিতার মিল স্পষ্ট।
কিন্তু কবিতার পটভূমি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, যুগে যুগে বহিঃশত্রুর আগ্রাসন ও একাত্তরের মুক্তিসংগ্রাম। কবিতায় ‘ক্রূর পদাতিক’ ও ‘অশ্বারোহী’ দ্বারা বাংলার লাঞ্ছনার ইতিহাস, ‘সাত কোটি সংশপ্তক সন্তান’ এবং লাল-সবুজ পতাকার প্রতীকে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও দেশমাতৃকার সৌন্দর্যের বন্দনা ফুটেছে। উদ্দীপকে এসবের কোনো প্রতিফলন নেই; সেখানে একটি স্থানীয় সংকট মোকাবিলার কথা আছে।
সুতরাং মধ্যবিত্তের জড়তা কাটিয়ে সম্মিলিত শক্তির জাগরণ উভয় রচনার সাধারণ দিক হলেও কবিতার মূল সুর স্বদেশের মুক্তি, ঐতিহ্য ও পতাকার প্রতীকে জাতীয় আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ। তাই মন্তব্যটি পুরোপুরি নয়, আংশিক যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও