জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
একটি তৃণভূমির প্রতি বর্গমিটারে বছরে উৎপাদকেরা ৪০,০০০ kJ শক্তি আহরণ করে। এখানে ঘাস → ফড়িং → ব্যাঙ → সাপ এই খাদ্য শৃঙ্খল বিদ্যমান। অন্যদিকে একটি বিশাল বটগাছে ১টি গাছ, ২০টি পাখি ও ৫০০০টি পরজীবী পোকা বাস করে। গাছের বায়োমাস সবচেয়ে বেশি, পাখির বায়োমাস তার চেয়ে কম এবং পরজীবী পোকার বায়োমাস সবচেয়ে কম।
- ক)(1)
শক্তি প্রবাহের দশমাংশ নিয়মের প্রবর্তক কে?
- খ)(2)
শক্তির পিরামিড সবসময় সোজা আকৃতির হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
দশমাংশ নিয়ম অনুযায়ী উদ্দীপকের তৃণভূমিতে ব্যাঙ ও সাপ স্তরে শক্তির পরিমাণ নির্ণয় কর এবং এক স্তর থেকে পরবর্তী স্তরে যাওয়ার সময় মোট কত শক্তি পরিবেশে হারিয়ে যায় তা বের কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের বটগাছ ও তৃণভূমি এই দুই বাস্তুতন্ত্রে সংখ্যার পিরামিডের আকৃতি পরস্পর ভিন্ন হলেও শক্তির পিরামিড একই ধরনের থাকে— উদ্দীপকের আলোকে যুক্তিসহ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শক্তি প্রবাহের দশমাংশ (১০ শতাংশ) নিয়মের প্রবর্তক হলেন লিন্ডেম্যান (Lindeman, ১৯৪২)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর খাদ্য শৃঙ্খলে শক্তি এক খাদ্যস্তর থেকে পরবর্তী স্তরে যাওয়ার সময় শ্বসন, তাপ উৎপাদন ও বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে বেশিরভাগ শক্তি ব্যয় হয়ে যায়। দশমাংশ নিয়ম অনুযায়ী মাত্র ১০ ভাগ শক্তি পরবর্তী স্তরে স্থানান্তরিত হয়। তাই উৎপাদক স্তরে শক্তি সবচেয়ে বেশি এবং ক্রমান্বয়ে কমতে কমতে সর্বোচ্চ খাদকে সবচেয়ে কম থাকে। এ কারণে শক্তির পিরামিড সবসময় সোজা আকৃতির হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর দশমাংশ নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি স্তরে পূর্ববর্তী স্তরের ১০ ভাগ শক্তি স্থানান্তরিত হয়।
ঘাস (উৎপাদক) = ৪০,০০০ kJ
ফড়িং (প্রাথমিক খাদক) = ৪০,০০০ × ১০% = ৪,০০০ kJ
ব্যাঙ (সেকেন্ডারি খাদক) = ৪,০০০ × ১০% = ৪০০ kJ
সাপ (টারশিয়ারি খাদক) = ৪০০ × ১০% = ৪০ kJ
অতএব ব্যাঙ স্তরে ৪০০ kJ এবং সাপ স্তরে ৪০ kJ শক্তি থাকে।
স্তরগুলোর মধ্যে স্থানান্তরের সময় হারানো শক্তি:
ঘাস → ফড়িং: ৪০,০০০ − ৪,০০০ = ৩৬,০০০ kJ
ফড়িং → ব্যাঙ: ৪,০০০ − ৪০০ = ৩,৬০০ kJ
ব্যাঙ → সাপ: ৪০০ − ৪০ = ৩৬০ kJ
মোট হারানো শক্তি = ৩৬,০০০ + ৩,৬০০ + ৩৬০ = ৩৯,৯৬০ kJ। এই শক্তি তাপশক্তি হিসেবে পরিবেশে ফিরে যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর তৃণভূমির খাদ্য শৃঙ্খলে উৎপাদক ঘাসের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এবং পরবর্তী স্তরগুলোতে সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমে, ফলে সংখ্যার পিরামিড সোজা বা ত্রিকোণাকার হয়। কিন্তু বটগাছের ক্ষেত্রে উৎপাদক মাত্র ১টি গাছ, পাখি ২০টি এবং পরজীবী পোকা ৫০০০টি। অর্থাৎ নিচ থেকে উপরে সংখ্যা বাড়ছে, ফলে সংখ্যার পিরামিড উল্টানো আকৃতির হয়। সংখ্যার পিরামিডে জীবের আকার বিবেচনা করা হয় না, শুধু সংখ্যা দেখানো হয়, তাই একটি বিশাল গাছ ও একটি ক্ষুদ্র পোকাকে একই গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ কারণে সংখ্যার পিরামিড সবসময় সোজা হয় না।
বটগাছের বায়োমাসের পিরামিডে গাছের বায়োমাস সবচেয়ে বেশি, তার ওপর নির্ভরশীল পাখির বায়োমাস কম এবং পরজীবী পোকার বায়োমাস সবচেয়ে কম। তাই এখানে বায়োমাসের পিরামিড সোজা, সংখ্যার পিরামিডের বিপরীত। তবে পরজীবী খাদ্য শৃঙ্খলে বায়োমাসের পিরামিড উল্টাও হতে পারে।
অন্যদিকে শক্তির পিরামিডে প্রতিটি খাদ্যস্তরের জীব কর্তৃক ব্যবহৃত মোট শক্তি দেখানো হয়, সংখ্যা বা আকার নয়। উভয় বাস্তুতন্ত্রে শক্তি উৎপাদক থেকে খাদকের দিকে যাওয়ার সময় শ্বসন ও তাপ হিসেবে ক্ষয় হয় এবং দশমাংশ নিয়ম অনুযায়ী মাত্র ১০ ভাগ পরের স্তরে যায়। তাই উৎপাদকের শক্তি সবচেয়ে বেশি এবং সর্বোচ্চ খাদকে সবচেয়ে কম থাকে। ফলে শক্তির পিরামিড সবসময় সোজা বা ত্রিকোণাকার হয়।
সুতরাং সংখ্যার পিরামিড জীবের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে বলে বাস্তুতন্ত্রভেদে আকৃতি বদলায়, কিন্তু শক্তির পিরামিড শক্তি প্রবাহের একমুখী ও ক্ষয়ধর্মী প্রকৃতির কারণে সবসময় একই রকম থাকে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও