হিসাববিজ্ঞান • হিসাববিজ্ঞান পরিচিতি

হিসাববিজ্ঞান প্রশ্ন

জনাব সেলিম একটি মুদি দোকানের মালিক। তিনি কোনো হিসাবের বই রাখেন না। বছর শেষে তিনি দেখলেন, দোকানে প্রচুর বিক্রয় হলেও হাতে টাকা কম। তিনি বুঝতে পারছেন না লাভ হয়েছে না ক্ষতি, কোন খাতে বেশি খরচ হচ্ছে এবং কত টাকা বাকিতে আটকে আছে। একজন কর্মচারী টাকা সরিয়েছে কি না তাও তিনি প্রমাণ করতে পারছেন না। তাঁর বন্ধু জনাব রফিক হিসাব রেখে ব্যবসায়ে ভালো করছেন।

  1. ক)

    আর্থিক অবস্থা নিরূপণের জন্য কোন কোন বিষয়ের পরিমাণ নির্ণয় করা হয়?

    (1)
  2. খ)

    হিসাববিজ্ঞান ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কীভাবে সহায়তা করে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের জনাব সেলিম হিসাববিজ্ঞানের কোন কোন উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জনাব রফিকের মতো হিসাব রাখলে জনাব সেলিমের ব্যবসায়ে কী কী পরিবর্তন আসতে পারত? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আর্থিক অবস্থা নিরূপণের জন্য প্রতিষ্ঠানের সম্পদ, দায় ও মালিকানা স্বত্বের পরিমাণ নির্ণয় করা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর হিসাববিজ্ঞানের মাধ্যমে ব্যবসায়ের যাবতীয় ব্যয় সঠিকভাবে হিসাবের বইতে লিপিবদ্ধ করা হয়। এতে কোন খাতে কত খরচ হচ্ছে তা স্পষ্ট জানা যায়। ফলে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত ব্যয় চিহ্নিত করে তা কমানো সম্ভব হয় এবং অপচয় রোধ হয়। এভাবে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জন করা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর হিসাব না রাখার কারণে জনাব সেলিম হিসাববিজ্ঞানের একাধিক উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন।

    ১. লেনদেন সঠিকভাবে লিপিবদ্ধকরণ : হিসাববিজ্ঞানের প্রথম উদ্দেশ্য লেনদেনসমূহ সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে হিসাবের বইতে লিখে রাখা। সেলিম কোনো বই রাখেন না, তাই এ উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি।
    ২. আর্থিক ফলাফল ও আর্থিক অবস্থা নিরূপণ : আয় ও ব্যয় লিপিবদ্ধ না থাকায় তিনি লাভ-ক্ষতি নির্ণয় করতে পারছেন না। আবার সম্পদ, দায় ও মালিকানা স্বত্ব জানা না থাকায় আর্থিক অবস্থাও বুঝতে পারছেন না।
    ৩. ব্যয় নিয়ন্ত্রণ : কোন খাতে বেশি খরচ হচ্ছে তা না জানায় তিনি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না।
    ৪. প্রতারণা ও জালিয়াতি রোধ : কর্মচারী টাকা সরিয়েছে কি না প্রমাণ করতে না পারা থেকে বোঝা যায়, এ উদ্দেশ্যও অর্জিত হয়নি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জনাব রফিক হিসাব রেখে ভালো করছেন। জনাব সেলিমও একই পথে চললে তাঁর ব্যবসায়ে নিচের পরিবর্তনগুলো আসতে পারত।

    ১. লাভ-ক্ষতি স্পষ্ট জানা যেত : যাবতীয় আয় ও ব্যয় লিপিবদ্ধ থাকলে বছর শেষে সহজে লাভ বা ক্ষতি নির্ণয় করা যেত। এতে ব্যবসায়ের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেত।
    ২. বাকির পরিমাণ জানা যেত : দেনা-পাওনার হিসাব থাকলে কত টাকা বাকিতে আটকে আছে তা জানা যেত এবং আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া যেত। এতে হাতে নগদ টাকার সংকট কমত।
    ৩. ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হতো : কোন খাতে বেশি খরচ হচ্ছে তা ধরা পড়লে অপচয় কমিয়ে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জন করা যেত।
    ৪. তছরুপ রোধ হতো : নিয়মিত ও যথাযথ হিসাব থাকলে কর্মচারীর টাকা সরানো ধরা পড়ত। শাস্তি ও দুর্নামের ভয়ে প্রতারণার প্রবণতাও কমত।
    ৫. বছরে বছরে তুলনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ : একাধিক বছরের আর্থিক বিবরণী তুলনা করে উন্নতি-অবনতির দিক চিহ্নিত করা যেত। প্রয়োজনে ব্যাংক ঋণ নেওয়া বা বিক্রয়মূল্য নির্ধারণেও এই হিসাব কাজে লাগত।

    উপসংহার : সঠিক হিসাব রাখলে সেলিম ব্যবসায়ের ভালো-খারাপ দিক জেনে সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করে আর্থিক সচ্ছলতা অর্জন করতে পারতেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও