বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

সোনাপুর ইউনিয়নের দুই গ্রাম কুমিরপাড়া ও চাঁদপুর। ইউনিয়নের মোট পাট বিক্রির আয়ের সিংহভাগ আসে কুমিরপাড়া থেকে, অথচ সেই আয়ের বেশিরভাগ খরচ হয় চাঁদপুরের উন্নয়নে। পাঁচ বছরের উন্নয়ন বরাদ্দ ও স্কুল স্থাপনের চিত্র নিচে দেওয়া হলো:

বিষয়চাঁদপুরকুমিরপাড়া
উন্নয়ন বরাদ্দ৫০০ লাখ টাকা১১৩ লাখ টাকা
নতুন স্কুল৫টি১টি

এ কারণে কুমিরপাড়ার মানুষ ক্ষোভ ও আন্দোলনের পথে হাঁটছে।

  1. ক)

    পূর্ববাংলার একটি প্রধান রপ্তানি পণ্যের নাম লেখো।

    (1)
  2. খ)

    পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তানে মধ্যবিত্তের বিকাশ মন্থর হয়ে পড়েছিল কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে পাকিস্তান আমলের যেসব বৈষম্যের প্রতিফলন ঘটেছে তা ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে শুধু অর্থনৈতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রের বৈষম্য ফুটে উঠেছে। পাকিস্তান আমলে বৈষম্য কি কেবল এই দুই ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পূর্ববাংলার একটি প্রধান রপ্তানি পণ্য পাট।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে পূর্ব পাকিস্তান অর্থনৈতিক সুবিধা, চাকরি ও শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। বাজেট বরাদ্দ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প উৎপাদনে পশ্চিম পাকিস্তান এগিয়ে থাকে। প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীতে বাঙালিদের নিয়োগ কম ছিল। ফলে বাঙালিরা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হতে থাকে এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রের বৈষম্যের প্রতিফলন ঘটেছে।

    অর্থনৈতিক বৈষম্য: পূর্ববাংলার পাট, চা, চামড়া রপ্তানি করে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় হতো। ১৯৫৫-৫৬ থেকে ১৯৫৯-৬০ অর্থবছর পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান পায় মাত্র ১১৩ কোটি টাকার কিছু বেশি, আর পশ্চিম পাকিস্তান পায় ৫০০ কোটি টাকা। ১৯৬০-৬১ থেকে ১৯৬৪-৬৫ পর্যন্ত বরাদ্দ ছিল যথাক্রমে ৬৪৮ কোটি ও ২২৭০ কোটি টাকা। উদ্দীপকে কুমিরপাড়ার আয়ের বেশিরভাগ চাঁদপুরে খরচ হওয়া এবং বরাদ্দ ১১৩ ও ৫০০ লাখ টাকা হওয়া এই বৈষম্যের অনুরূপ।

    শিক্ষা বৈষম্য: পাকিস্তান সৃষ্টির পর শিক্ষা বাজেটে পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানের দ্বিগুণেরও বেশি বরাদ্দ পেত, ফলে সেখানে নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। উদ্দীপকে চাঁদপুরে ৫টি ও কুমিরপাড়ায় ১টি নতুন স্কুল স্থাপন একই বৈষম্যের প্রতিচ্ছবি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর না, পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য কেবল অর্থনীতি ও শিক্ষায় সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও সমাজজীবনেও তা ব্যাপক আকারে বিদ্যমান ছিল।

    প্রশাসনিক বৈষম্য: ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্সির সচিবালয়ে পূর্ব পাকিস্তানের অংশ ছিল ১৯%, প্রতিরক্ষায় ৮.১%, স্বরাষ্ট্রে ২২.৭%, শিক্ষায় ২৭.৩%, অথচ পশ্চিম পাকিস্তানের অংশ ছিল সব ক্ষেত্রে এর চেয়ে অনেক বেশি। ফলে প্রশাসনে বাঙালির ভূমিকা ছিল অতি নগণ্য।

    সেনাবাহিনীতে বৈষম্য: ১৯৫৬ সালের দৈনিক ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী জেনারেল, মেজর জেনারেল ও ব্রিগেডিয়ার পদে পূর্ববঙ্গের কেউ ছিল না, কর্নেল পদে ছিল মাত্র ১ জন। পশ্চিম পাকিস্তানে কর্নেল ছিল ৪৯ জন ও মেজর ৫৯০ জন, অথচ পূর্ববঙ্গে মেজর ছিল মাত্র ১০ জন।

    সামাজিক বৈষম্য: এসব বৈষম্যের কারণে বাঙালিদের মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ মন্থর হয় এবং তারা অর্থনৈতিকভাবে আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

    এভাবে অর্থনীতি, শিক্ষা, প্রশাসন, সামরিক বাহিনী ও সমাজ প্রতিটি ক্ষেত্রেই বৈষম্য ছড়িয়ে ছিল। এই সর্বব্যাপী বৈষম্যই বাঙালিকে প্রতিবাদ ও আন্দোলনের পথে ঠেলে দেয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও