পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র • জ্যোতির্বিজ্ঞান

পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

বিজ্ঞান মেলায় তুহিন একটি বিশাল নক্ষত্রের সংকোচন নিয়ে প্রদর্শনী উপস্থাপন করল। নক্ষত্রটির ভর 4×1031 kg4 \times 10^{31}\ \text{kg}। সংকোচনের একটি ধাপে নক্ষত্রটির ব্যাসার্ধ 150 km এবং পরবর্তী ধাপে 40 km হয়। মহাকর্ষীয় ধ্রুবক G=6.67×10−11 N m2kg−2G = 6.67 \times 10^{-11}\ \text{N m}^2\text{kg}^{-2}, আলোর বেগ c=3×108 m s−1c = 3 \times 10^{8}\ \text{m s}^{-1} এবং সূর্যের ভর 2×1030 kg2 \times 10^{30}\ \text{kg}।

  1. ক)

    ঘটনা দিগন্ত কী?

    (1)
  2. খ)

    কৃষ্ণ বিবর দেখা না গেলেও এর উপস্থিতি অনুভব করা যায়- ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    নক্ষত্রটির শোয়ার্জশিল্ড ব্যাসার্ধ নির্ণয় কর।

    (3)
  4. ঘ)

    নক্ষত্রটির ব্যাসার্ধ 150 km এবং 40 km হলে প্রতিক্ষেত্রে এর পৃষ্ঠ থেকে আলো বেরিয়ে আসতে পারবে কি না তা বিশ্লেষণ কর। নক্ষত্রটির এ পরিণতি অবশ্যম্ভাবী কি না যুক্তিসহ মত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কৃষ্ণ বিবরের যে সীমানার ভেতর থেকে আলো বা কোনো বস্তু বা তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে না, সেই সীমানাকে ঘটনা দিগন্ত বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কৃষ্ণ বিবরের আকর্ষণ এত প্রবল যে এর ঘটনা দিগন্তের ভেতর থেকে আলোও বেরিয়ে আসতে পারে না, তাই একে সরাসরি দেখা যায় না। কিন্তু এর ভর থাকায় এটি আশপাশের বস্তুর ওপর মহাকর্ষীয় প্রভাব বিস্তার করে। যেমন সূর্য কৃষ্ণ বিবর হয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলেও পৃথিবী আগের মতোই এর চারদিকে ঘুরবে। এই মহাকর্ষীয় প্রভাব থেকে কৃষ্ণ বিবরের উপস্থিতি বোঝা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শোয়ার্জশিল্ড ব্যাসার্ধ Rs=2GMc2R_s = \frac{2GM}{c^2}। এখানে M=4×1031 kgM = 4 \times 10^{31}\ \text{kg}, G=6.67×10−11 N m2kg−2G = 6.67 \times 10^{-11}\ \text{N m}^2\text{kg}^{-2}, c=3×108 m s−1c = 3 \times 10^{8}\ \text{m s}^{-1}। সুতরাং Rs=2×6.67×10−11×4×1031(3×108)2=5.336×10219×1016=5.93×104 m≈59.3 kmR_s = \frac{2 \times 6.67 \times 10^{-11} \times 4 \times 10^{31}}{(3 \times 10^{8})^2} = \frac{5.336 \times 10^{21}}{9 \times 10^{16}} = 5.93 \times 10^{4}\ \text{m} \approx 59.3\ \text{km}। অতএব নক্ষত্রটির শোয়ার্জশিল্ড ব্যাসার্ধ প্রায় 59.3 km।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর গণনা অনুযায়ী নক্ষত্রটির শোয়ার্জশিল্ড ব্যাসার্ধ Rs≈59.3 kmR_s \approx 59.3\ \text{km}। প্রথম ধাপে ব্যাসার্ধ R1=150 km>RsR_1 = 150\ \text{km} > R_s হওয়ায় নক্ষত্রটি এখনো কৃষ্ণ বিবর হয়নি। এর পৃষ্ঠ থেকে আলো বেরিয়ে আসতে পারবে, তাই নক্ষত্রটি দৃশ্যমান থাকবে। দ্বিতীয় ধাপে ব্যাসার্ধ R2=40 km<RsR_2 = 40\ \text{km} < R_s। এ অবস্থায় সম্পূর্ণ ভর RsR_s এর ভেতরে আবদ্ধ, ফলে পলায়ন বেগ আলোর বেগের চেয়ে বেশি হয়। আলোসহ কোনো কিছুই বেরিয়ে আসতে পারবে না এবং নক্ষত্রটি কৃষ্ণ বিবর হিসেবে কাজ করবে। নক্ষত্রটির পরিণতি অবশ্যম্ভাবী, কারণ এর ভর =4×10312×1030M0=20M0= \frac{4 \times 10^{31}}{2 \times 10^{30}} M_0 = 20M_0, যা 3M03M_0 এর অনেক বেশি। এত বেশি ভরের নক্ষত্রের সংকোচন প্রতিহত করার মতো কোনো চাপ জানা নেই, তাই সংকোচন চলতেই থাকবে। অতএব এটি কৃষ্ণ বিবরেই পরিণত হবে। তুলনায় সূর্যের Rs=2×6.67×10−11×2×10309×1016≈2.96 kmR_s = \frac{2 \times 6.67 \times 10^{-11} \times 2 \times 10^{30}}{9 \times 10^{16}} \approx 2.96\ \text{km} এবং তার ভরও কম, তাই সূর্য কৃষ্ণ বিবর হবে না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও