সাহিত্য পাঠ • ছবি

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

চিত্রশিল্পী মাহিনের একক প্রদর্শনীতে একাত্তরের একটি জ্বলন্ত গ্রামের ছবি টাঙানো হয়েছে। দর্শকেরা ছবির গাঢ় লাল রঙের প্রশংসা করছেন। মাহিন বিনীতভাবে বলেন, “আমি কেবল রঙ মাখিয়েছি। প্রকৃত রঙ ঝরেছিল সেদিন মানুষের শরীর থেকে। আমার ছবি তো সেই ঘটনার একটি অনুকরণ মাত্র।” তাঁর কথা শুনে সবাই নীরব হয়ে যায়।

  1. ক)

    ভ্যান গগ কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    “ভ্যান গগ কখনো এমন গাঢ়তা দ্যাখেননি”—কবি কেন এ কথা বলেছেন?

    (2)
  3. গ)

    “অথচ দেখুন, এই বিশাল ছবির জন্যে ব্যবহৃত সব উপকরণ অকৃত্রিম”—উদ্দীপকের আলোকে চরণটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “মাহিনের ছবি ও কবির কল্পিত ‘ছবি’র মধ্যে মূল পার্থক্য উপকরণ ও স্রষ্টার ক্ষেত্রে।”—উক্তিটি যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ভ্যান গগ ছিলেন বিশ্বখ্যাত ডাচ চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট উইলেম ভ্যান গগ (১৮৫৩-১৮৯০), যিনি পোস্ট-ইম্প্রেশনিস্ট শিল্পী হিসেবে পরিচিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ভ্যান গগ গাঢ় রঙ ব্যবহারে অসাধারণ কুশলী ছিলেন, তিনি যেন আকাশ থেকে নীল আর শস্য থেকে সোনালি রঙ তুলে আনতেন। কিন্তু কবির কল্পিত ‘ছবি’ অর্থাৎ বাংলাদেশের রঙ শহীদদের রক্তে সৃষ্ট। এ রঙের গাঢ়তা কোনো শিল্পীর তুলিতে আনা সম্ভব নয়। তাই কবি শপথ করে বলেছেন, ভ্যান গগও এমন গাঢ়তা কখনো দেখেননি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘ছবি’ কবিতায় কবি স্বাধীন বাংলাদেশকে একটি বিশাল ছবি হিসেবে কল্পনা করেছেন। সাধারণ শিল্পীর ছবিতে ব্যবহৃত রঙ-তুলি কৃত্রিম, কারণ শিল্প বাস্তবের অনুকরণ। কিন্তু কবির মতে বাংলাদেশ নামের ছবির উপকরণ অকৃত্রিম, কারণ এর রঙ ত্রিশ লক্ষ শহীদের প্রকৃত রক্ত, আর এ ছবি সত্যিকারের আত্মত্যাগে গড়া। উদ্দীপকে মাহিন একাত্তরের জ্বলন্ত গ্রামের ছবি এঁকেছেন। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে তাঁর ছবি অনুকরণ মাত্র এবং প্রকৃত রঙ ঝরেছিল মানুষের শরীর থেকে। মাহিনের এই উপলব্ধিতে শিল্পের কৃত্রিমতা ও যুদ্ধের অকৃত্রিম রক্তের পার্থক্যটি ফুটে উঠেছে। কবিতার অকৃত্রিম উপকরণ বলতে ঠিক এই প্রকৃত রক্ত ও আত্মদানকেই বোঝানো হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। মাহিনের ছবি ও কবির কল্পিত ‘ছবি’র মূল পার্থক্য উপকরণ ও স্রষ্টার ক্ষেত্রেই। উদ্দীপকে মাহিন একজন শিল্পী, যিনি রঙ-তুলির সাহায্যে একাত্তরের ঘটনার ছবি এঁকেছেন। তাঁর ছবির লাল রঙ কৃত্রিম, যা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। ফলে তা বাস্তবের অনুকরণ। সেখানে স্রষ্টা একজন ব্যক্তি-শিল্পী এবং ছবিটি দর্শকের প্রশংসার বস্তু। অন্যদিকে ‘ছবি’ কবিতায় ছবিটি হলো স্বাধীন বাংলাদেশ। কবি এর স্রষ্টা হিসেবে ‘ত্রিশ লক্ষ কারিগর’ অর্থাৎ ত্রিশ লক্ষ শহীদের কথা বলেছেন, যাঁরা নয় মাস দিনরাত আত্মদানের মাধ্যমে এ ছবি গড়েছেন। এর উপকরণ অকৃত্রিম, কারণ এর রঙ প্রকৃত রক্ত এবং ‘নরমুণ্ড’ প্রকৃত আত্মদানের প্রতীক। তাই এ ছবির গাঢ়তা ভ্যান গগের রঙকেও ছাড়িয়ে যায়। মাহিনের ছবি ঘটনার স্মারক হলেও কবির ছবি স্বয়ং ঘটনা। পার্থক্য সত্ত্বেও এক জায়গায় মিল আছে: দুজনই বোঝেন, প্রকৃত সত্য শিল্পের চেয়ে অনেক বড়। সুতরাং স্রষ্টা ও উপকরণের দিক থেকেই দুটি ছবির মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও