জীববিজ্ঞান • রেচন প্রক্রিয়া
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
একজন সুস্থ ব্যক্তির রক্ত, গ্লোমেরুলার পরিস্রুত তরল ও মূত্রে গ্লুকোজ এবং ইউরিয়ার পরিমাণ নিচের সারণিতে দেখানো হলো:
| নমুনা | গ্লুকোজ | ইউরিয়া |
|---|---|---|
| অ্যাফারেন্ট ধমনির রক্ত | আছে | আছে |
| বোম্যান্স ক্যাপসুলের পরিস্রুত তরল | আছে | আছে |
| নিকটবর্তী প্যাঁচানো নালিকার শেষে | নেই | আছে |
| মূত্র | নেই | বেশি পরিমাণে আছে |
- ক)(1)
আল্ট্রাফিলট্রেট কী?
- খ)(2)
গ্লোমেরুলাসকে ছাঁকনির সাথে তুলনা করা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সারণিতে নিকটবর্তী প্যাঁচানো নালিকার শেষে গ্লুকোজ না থাকার কারণ কী? নেফ্রনের কার্যপ্রণালির আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সারণির তথ্য অনুযায়ী মূত্র গঠনের ধাপগুলোতে নেফ্রনের বিভিন্ন অংশের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর গ্লোমেরুলাস ছাঁকনির মতো কাজ করে রক্ত থেকে যে পরিস্রুত তরল উৎপন্ন করে, তাকে আল্ট্রাফিলট্রেট বলে। এটি বোম্যান্স ক্যাপসুলে জমা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর গ্লোমেরুলাস একগুচ্ছ কৈশিক জালিকা দিয়ে তৈরি এবং অ্যাফারেন্ট আর্টারিওল থেকে রক্ত এতে প্রবেশ করে। এই জালিকার সূক্ষ্ম প্রাচীর দিয়ে রক্তের পানি, গ্লুকোজ, ইউরিয়া ও লবণ বোম্যান্স ক্যাপসুলে ছেঁকে যায়। ছাঁকনি যেমন ক্ষুদ্র কণাকে ছেঁকে আলাদা করে, গ্লোমেরুলাসও তেমন রক্ত থেকে তরল অংশ আলাদা করে। তাই একে ছাঁকনির সাথে তুলনা করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বোম্যান্স ক্যাপসুলের পরিস্রুত তরলে ইউরিয়া ও অন্যান্য বর্জ্যের সাথে প্রয়োজনীয় গ্লুকোজ ও খনিজ লবণও থাকে। এই তরল রেনাল টিউবিউলের নিকটবর্তী প্যাঁচানো নালিকা দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় শোষণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। এখানে গ্লুকোজ ও প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ নালিকা থেকে আবার রক্তে ফিরে যায়। দেহের জন্য প্রয়োজনীয় গ্লুকোজ অপচয় হয় না বলে নালিকার শেষে এবং মূত্রে গ্লুকোজ পাওয়া যায় না। ইউরিয়া বর্জ্য পদার্থ বলে তা শোষিত না হয়ে নালিকায় থেকে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সারণি অনুযায়ী রক্ত ও পরিস্রুত তরলে গ্লুকোজ ও ইউরিয়া উভয়ই আছে, কিন্তু মূত্রে গ্লুকোজ নেই এবং ইউরিয়া বেশি। এই পরিবর্তন নেফ্রনের বিভিন্ন অংশের কাজের ফল। ভূমিকাগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. গ্লোমেরুলাস ও বোম্যান্স ক্যাপসুল: অ্যাফারেন্ট আর্টারিওলের রক্ত গ্লোমেরুলাসে ছাঁকা হয়ে বোম্যান্স ক্যাপসুলে আল্ট্রাফিলট্রেট তৈরি করে। তাই এই ধাপে গ্লুকোজ ও ইউরিয়া উভয়ই পরিস্রুত তরলে আসে।
২. নিকটবর্তী প্যাঁচানো নালিকা: এখানে গ্লুকোজ ও প্রয়োজনীয় লবণ রক্তে ফিরে যায়, ফলে নালিকার শেষে গ্লুকোজ থাকে না।
৩. হেনলির লুপ ও প্রান্তীয় প্যাঁচানো নালিকা: এসব অংশে প্রয়োজনীয় পানি শোষিত হয় এবং আরও শোষণ ও নিঃসরণ ঘটে। পানি কমে যাওয়ায় ইউরিয়ার ঘনত্ব বেড়ে যায়।
৪. সংগ্রাহী নালিকা: সবশেষে ইউরিয়াসমৃদ্ধ তরলটি, অর্থাৎ মূত্র, সংগ্রাহী নালিকার মাধ্যমে পেলভিসে পৌঁছায়।
এভাবে নেফ্রনের ছাঁকন, পুনঃশোষণ ও নিঃসরণের সমন্বিত কাজের ফলেই দেহের প্রয়োজনীয় পদার্থ রক্তে থেকে যায় এবং বর্জ্য ঘন মূত্র আকারে বের হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও