জীববিজ্ঞান • সমন্বয় (co-ordination)
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
৭০ বছর বয়সী দাদুর হাত ও পায়ে ধীরে ধীরে কাঁপুনি শুরু হয়েছে। চেয়ার থেকে উঠতে ও হাঁটা শুরু করতে তাঁর কষ্ট হয়, কথা বলার সময় মুখ প্রায় অনড় থাকে। ডাক্তার বললেন, তাঁর মস্তিষ্কের একধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরিকারী কোষ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে তাঁর নাতি নবম শ্রেণির ছাত্র রিমনের মাঝে মাঝে হঠাৎ খিঁচুনি দিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার সমস্যা আছে।
- ক)(1)
ডোপামিন কী?
- খ)(2)
এপিলেপসি রোগীকে জলাশয় ও আগুন থেকে দূরে রাখতে হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে দাদুর রোগটি কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে দাদু ও রিমনের রোগ দুটির মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করো এবং দাদুর জীবনযাপনে কী কী সতর্কতা প্রয়োজন তা লেখো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ডোপামিন হলো স্নায়ুকোষ কর্তৃক তৈরি এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ, যা শরীরের পেশির নাড়াচড়ায় সাহায্য করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আগুন বা পানির সাথে এপিলেপসির লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু রোগাক্রান্ত অবস্থায় রোগী হঠাৎ কাঁপুনি ও খিঁচুনি দিয়ে মাটিতে পড়ে যায়। কোথাও পড়ে গেলে সে নিজ শক্তিতে উঠতে পারে না। জলাশয় বা আগুনের কাছে পড়ে গেলে তাই ডুবে যাওয়া বা পুড়ে যাওয়ার মতো বিপদ হতে পারে। এজন্য এসব রোগীকে বিপজ্জনক স্থান থেকে দূরে রাখতে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর দাদুর উপসর্গ হাত-পায়ের কাঁপুনি, নড়াচড়ায় কষ্ট এবং মুখ অনড় থাকা দেখে বোঝা যায় তিনি পারকিনসন রোগে আক্রান্ত। এ রোগ সৃষ্টির প্রক্রিয়া হলো: স্নায়ুকোষ বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে, যার একটি ডোপামিন। ডোপামিন পেশির নাড়াচড়ায় সাহায্য করে। পারকিনসন রোগে মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। ডোপামিনের অভাবে স্নায়ুকোষ পেশিকোষে সংবেদন পাঠাতে পারে না, ফলে মাংসপেশি কার্যকারিতা হারায়। এ রোগ সাধারণত ৫০ বছর বয়সের পরে হয় এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে পেশি আরও অকার্যকর হয়ে ওঠে। তাই দাদুর চলাফেরা ও কথা বলায় সমস্যা হচ্ছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর দাদুর রোগটি পারকিনসন এবং রিমনের রোগটি এপিলেপসি বা মৃগীরোগ। দুটিই মস্তিষ্কের রোগ হলেও এদের মধ্যে পার্থক্য আছে: ১. লক্ষণ: পারকিনসনে হাত-পায়ের কাঁপুনি, নড়াচড়ায় ও হাঁটতে শুরু করায় অসুবিধা এবং মুখ অনড় থাকে। এপিলেপসিতে হঠাৎ শরীরে খিঁচুনি বা কাঁপুনি দিয়ে রোগী অনেক সময় অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। ২. কারণ: পারকিনসনে ডোপামিন তৈরির কোষ ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। এপিলেপসির মূল কারণ এখনও সম্পূর্ণ জানা যায়নি; স্ট্রোক, মাথায় আঘাত, ম্যানিনজাইটিস, এনসেফালাইটিস, জন্মগত মস্তিষ্কের বিকৃতি ও টিউমার থেকেও হতে পারে। ৩. বয়স: পারকিনসন সাধারণত ৫০ বছরের পর হয়, আর এপিলেপসি যেকোনো বয়সে হতে পারে। ৪. প্রকৃতি: পারকিনসন ধীরে ধীরে প্রকটরূপে দেখা দেয়, এপিলেপসিতে হঠাৎ আক্রমণ ঘটে। দাদুর জন্য সতর্কতা: ডাক্তারের পরামর্শে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি নেওয়া, পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করা এবং সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করা। এতে তিনি অনেকটা সুস্থ থাকতে পারবেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও