ভূগোল ২য় পত্র • বাণিজ্য

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে ধান ভালো হয়, আবার রংপুরে প্রচুর পাট জন্মে। এবার বন্যায় বাংলাদেশে অনেক ধান নষ্ট হয়ে যায়। সরকার বিদেশ থেকে চাল আমদানি করে সংকট মোকাবিলা করে। অন্যদিকে দেশের পাটজাত পণ্যের চাহিদা মিটিয়ে যে অতিরিক্ত পাট থাকে, তা বিদেশে রপ্তানি করে সরকার অর্থ আয় করে। আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে রংপুরের পাট উৎপাদক ও পাটজাত পণ্য নির্মাতারা মান উন্নত করতে এবং দাম কম রাখতে নতুন কলাকৌশল ব্যবহার করছেন।

  1. ক)

    রেমিট্যান্স কী?

    (1)
  2. খ)

    বৈদেশিক বাণিজ্য প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারে সহায়ক—ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বৈদেশিক বাণিজ্যের কোন কোন সুবিধা প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘বৈদেশিক বাণিজ্য উৎপাদনকারীর দক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং উৎপাদন ব্যয় হ্রাসে সহায়তা করে’—উদ্দীপকের রপ্তানিকারক অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর দেশে প্রেরিত প্রবাসীদের উপার্জিত অর্থই হলো রেমিট্যান্স।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে বিদেশি বাজারের সুযোগ নেওয়া যায়। ফলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে অধিক পণ্য উৎপাদন করা যায়। যেমন কাঁচা পাট দিয়ে ব্যাগ তৈরি করে বিপুল পরিমাণে রপ্তানি করা সম্ভব। এতে সম্পদ অব্যবহৃত পড়ে থাকে না এবং রপ্তানি দ্রব্যের বিস্তৃতি ঘটে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বৈদেশিক বাণিজ্যের দুটি সুবিধা প্রকাশ পেয়েছে: প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং উদ্বৃত্ত দ্রব্যের ব্যবহার।

    প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা: বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রচুর খাদ্যশস্য নষ্ট হয়। উদ্দীপকে বন্যায় ধান নষ্ট হলে সরকার বিদেশ থেকে চাল আমদানি করেছে। বৈদেশিক বাণিজ্যের কারণেই এভাবে দুর্ভিক্ষজনিত পরিস্থিতি থেকে দেশকে রক্ষা করা যায়।

    উদ্বৃত্ত দ্রব্যের ব্যবহার: অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বাংলাদেশে পাট বেশি উৎপাদিত হয়। উদ্দীপকে দেশের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত পাট বিদেশে রপ্তানি করে অর্থ আয় করা হয়েছে। এভাবে উদ্বৃত্ত দ্রব্য বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রংপুর অঞ্চলের পাট রপ্তানি করা হয়, অর্থাৎ উৎপাদকেরা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করে। এ প্রেক্ষাপটে উক্তিটি যথার্থ।

    উৎপাদনকারীর দক্ষতা বৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে হলে দ্রব্যের মান উন্নত ও দাম কম রাখতে হয়। তাই রংপুরের পাট উৎপাদক ও পাটজাত পণ্য নির্মাতারা নতুন নতুন কলাকৌশল ও আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। এই প্রতিযোগিতায় তাদের দক্ষতা বাড়ে।

    উৎপাদন ব্যয় হ্রাস: বিদেশে অধিক পণ্য বিক্রির সুযোগ থাকায় বড় আকারে উৎপাদন করা যায়, ফলে একক প্রতি ব্যয় কমে। এছাড়া ইপিজেডের মতো রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল স্থাপনের মাধ্যমে কম ব্যয়ে পণ্য উৎপাদন সম্ভব হয় এবং কম দামে ক্রয়-বিক্রয় করা যায়।

    অঞ্চলভিত্তিক বিশেষীকরণ: যে অঞ্চলে যে পণ্য ভালো হয়, সেখানে সেটিই উৎপাদন করায় রংপুর পাটে বিশেষত্ব অর্জন করেছে। এতে মোট উৎপাদন ও ভোগ বাড়ে।

    সুতরাং বৈদেশিক বাণিজ্য উৎপাদকের দক্ষতা বাড়ায় এবং উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়তা করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও