সাহিত্য পাঠ • সুখ
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
ডা. সালমা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে অবসর নিয়ে নিজ গ্রামে ফিরে এসেছেন। শহরের আরামদায়ক জীবন ছেড়ে তিনি গ্রামে একটি ছোট্ট ক্লিনিক খুলেছেন, যেখানে গরিব রোগীরা বিনা পয়সায় চিকিৎসা পায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি রোগী দেখেন, নিজের বিশ্রামের কথা ভাবেন না। কেউ সুস্থ হয়ে হাসিমুখে ফিরে গেলে তাঁর মুখেও প্রশান্তির হাসি ফোটে।
- ক)(1)
কবি কায়কোবাদের জন্ম কোথায়?
- খ)(2)
“‘আমিত্ব’কে বলি দিয়া স্বার্থ ত্যাগ কর যদি”—কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
ডা. সালমার আচরণে কবির কাঙ্ক্ষিত ‘আমিত্ব’ ত্যাগের কী পরিচয় মেলে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“সকালে বিকালে সাঁঝে”—চরণাংশটির তাৎপর্য উদ্দীপক ও ‘সুখ’ কবিতার আলোকে আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবি কায়কোবাদ ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘আমিত্ব’ বলতে অহমিকা বা ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রতি আসক্তিকে বোঝানো হয়েছে। কবি বলতে চেয়েছেন, মানুষকে নিজের অহংকার ও আত্মকেন্দ্রিকতা বিসর্জন দিতে হবে। নিজের সুখ-সুবিধার চিন্তা বাদ দিয়ে পরের হিতের জন্য কাজ করার মনোভাবই এখানে স্বার্থত্যাগ। এই ত্যাগের মাধ্যমেই মানুষ নিরহঙ্কারী হয়ে প্রকৃত সুখের পথে এগোতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ডা. সালমার আচরণে কবির কাঙ্ক্ষিত ‘আমিত্ব’ ত্যাগের সুস্পষ্ট পরিচয় মেলে। ‘সুখ’ কবিতায় কবি বলেছেন, ‘আমিত্ব’কে বলি দিয়ে স্বার্থ ত্যাগ করলে এবং নিজ সুখ ভুলে পরের কথা ভাবলে মানুষ প্রকৃত সুখ পায়। উদ্দীপকে ডা. সালমা শহরের আরামদায়ক জীবন, অর্থাৎ নিজের সুখ-সুবিধা ত্যাগ করে গ্রামে ফিরে এসেছেন। তিনি বিনা পয়সায় গরিব রোগীদের চিকিৎসা দেন এবং নিজের বিশ্রামের কথা ভাবেন না। এখানে তাঁর অহংবোধ ও ব্যক্তিগত স্বার্থ গৌণ হয়ে গেছে, পরহিতই মুখ্য হয়েছে। রোগীর সুস্থতায় তাঁর মুখে যে প্রশান্তির হাসি ফোটে, তা কবির বর্ণিত আত্মার ভিতরের সুখ। তাই বলা যায়, ডা. সালমা ‘আমিত্ব’ ত্যাগের মাধ্যমে কবির আদর্শ বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘সুখ’ কবিতার “বিদুরিলে পর দুঃখ সকালে বিকালে সাঁঝে” পঙ্ক্তিতে ‘সকালে বিকালে সাঁঝে’ কথাটি দ্বারা কবি দিনের সকল সময়কে, অর্থাৎ সারাজীবনকে বুঝিয়েছেন। এর তাৎপর্য হলো, পরহিত কোনো সাময়িক বা একদিনের কাজ নয়; জীবনের প্রতিটি প্রহরে নিরবধি অন্যের দুঃখ ঘোচানোর চেষ্টাই প্রকৃত সুখের পথ। কবি এই আহ্বানের পাশাপাশি স্বার্থত্যাগ এবং ‘আমিত্ব’ বিসর্জনের কথাও বলেছেন। উদ্দীপকে ডা. সালমা এই আদর্শের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। তিনি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রোগী দেখেন এবং নিজের বিশ্রামের কথা ভাবেন না। অবসর গ্রহণের পরও তিনি আরামের জীবন বেছে নেননি, বরং বিনা পয়সায় চিকিৎসার ব্রত নিয়েছেন। এতে বোঝা যায়, তাঁর সেবা কোনো ক্ষণিক আবেগ নয়, তা জীবনের নিরন্তর সংকল্প। এই নিরবচ্ছিন্ন পরহিত থেকেই তিনি আত্মিক প্রশান্তি পেয়েছেন, যা কবির মতে প্রকৃত সুখ। সুতরাং ‘সকালে বিকালে সাঁঝে’ চরণাংশটির তাৎপর্য উদ্দীপকে ডা. সালমার জীবনচর্যায় যথার্থভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও