সাহিত্য পাঠ • ভুলের মূল্য
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
একসময় চিকিৎসকেরা বিশ্বাস করতেন, পেটের আলসার কেবল মানসিক চাপ ও মশলাদার খাবারের কারণে হয়। কয়েক দশক পরে গবেষণায় এক ধরনের জীবাণুকে এর বড় কারণ হিসেবে পাওয়া গেল, ফলে চিকিৎসাপদ্ধতিই বদলে গেল। ডা. শামীম বলেন, “আমরা আজ যা নিশ্চিত সত্য মনে করছি, ভবিষ্যতে তা-ও পাল্টে যেতে পারে। তাই নিজের জ্ঞান নিয়ে অহংকার করা ঠিক নয়।”
- ক)(1)
‘উগ্রতাকে প্রশমিত’ শব্দবন্ধের অর্থ কী?
- খ)(2)
“আমাদের আজকার উদ্ধত অহংকার কালকার দিন লজ্জায় পরিণত হতে পারে।”—কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনা ও ডা. শামীমের বক্তব্যে ‘ভুলের মূল্য’ প্রবন্ধের মানুষের জ্ঞানের কোন সীমাবদ্ধতার কথা ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“নতুন জ্ঞানে পুরনো সিদ্ধান্তের ভুল ধরা পড়াই মানুষের অগ্রগতির সোপান।”—উদ্দীপক ও ‘ভুলের মূল্য’ প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘উগ্রতাকে প্রশমিত’ শব্দবন্ধের অর্থ রূঢ়তা বা তীব্রতাকে শান্ত করা বা নিবারণ করা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর লেখকের মতে মানুষের জ্ঞান অতি সংকীর্ণ। ক্রমে নতুন নতুন জ্ঞানভাণ্ডার খুলে যাচ্ছে এবং পুরনো জ্ঞানের অসম্পূর্ণতা চোখে পড়ছে। ইতিহাস, বিজ্ঞান, দর্শন প্রভৃতি সব ক্ষেত্রেই এর দৃষ্টান্ত আছে। আজ যেটি সত্য ও নির্ভুল মনে হচ্ছে, ভবিষ্যতে সেটি মিথ্যা বা আংশিক সত্য প্রমাণিত হতে পারে। তাই আজকের আদর্শ নিয়ে অহংকার করলে কাল তা লজ্জার কারণ হতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ঘটনা ও ডা. শামীমের বক্তব্যে মানুষের জ্ঞানের সংকীর্ণতা ও অসম্পূর্ণতার দিকটি ফুটে উঠেছে।
‘ভুলের মূল্য’ প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, মানুষের জ্ঞান অতি সংকীর্ণ; কোনটি ভুল ও কোনটি নির্ভুল তা নির্ধারণ করাই অনেক সময় কঠিন বা অসম্ভব হয়ে পড়ে। নতুন জ্ঞান আসার সাথে সাথে পুরনো জ্ঞানের অসম্পূর্ণতা ধরা পড়ে। ফলে আজ যা সত্য মনে হয়, ভবিষ্যতে তা মিথ্যা বা আংশিক সত্য প্রমাণিত হতে পারে।
উদ্দীপকে চিকিৎসকেরা আলসারের কারণ সম্পর্কে যা বিশ্বাস করতেন, পরে গবেষণায় তার অসম্পূর্ণতা ধরা পড়ে ও চিকিৎসাপদ্ধতি বদলে যায়। ডা. শামীমও বলেছেন আজকের নিশ্চিত সত্য ভবিষ্যতে পাল্টে যেতে পারে। এভাবে উদ্দীপকে প্রবন্ধের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার বক্তব্যই প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি উদ্দীপক ও প্রবন্ধ উভয়ের আলোকেই যুক্তিযুক্ত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আলসারের কারণ সম্পর্কে পুরনো বিশ্বাস ভুল বা অসম্পূর্ণ প্রমাণিত হওয়ার পর গবেষণার মাধ্যমে নতুন কারণ জানা গেছে এবং চিকিৎসাপদ্ধতি উন্নত হয়েছে। অর্থাৎ ভুল ধরা পড়ায় চিকিৎসাবিজ্ঞান এগিয়েছে।
‘ভুলের মূল্য’ প্রবন্ধে লেখকও একই কথা বলেছেন। তাঁর মতে, মানুষ ভুল করে এবং পরে সেই ভুল সংশোধন করেই সত্যের সন্ধান পায়। ভুল না করলে সত্যের রূপটি ধরা পড়ে না। ফুলকে যেমন নানা দিক থেকে দেখলে নতুন সৌন্দর্য চোখে পড়ে, তেমনি সত্যকেও নানা ঘটনার ভেতর দিয়ে পরখ করতে হয়; যে সত্যের যত বেশি ব্যতিক্রম চোখে পড়ে, তাকে আমরা ততই ভালো করে বুঝি। লেখক আরও বলেছেন, ভুল না থাকলে মানুষের সমস্ত প্রচেষ্টা ও অগ্রগতি রুদ্ধ হয়ে যেত এবং মানবসভ্যতার ইতিহাসে ভুলের কার্যকারিতা সত্যোদ্ঘাটনের প্রচেষ্টার চেয়েও বেশি কল্যাণপ্রসূ।
সুতরাং পুরনো সিদ্ধান্তের ভুল ধরা পড়া ও তার সংশোধনই অগ্রগতির সোপান—উদ্দীপক ও প্রবন্ধ উভয়ের আলোকে মন্তব্যটি সঠিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও