সাহিত্য পাঠ • ঐকতান
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
শহরের নামকরা কথাসাহিত্যিক তানভীর আহমেদ বছরের বেশিরভাগ সময় সাহিত্যসভা আর অভিজাত আড্ডায় কাটান। তাঁর উপন্যাসে মাঝি-কৃষকের কথা থাকলেও তা বইপড়া ধারণা থেকে লেখা। এক পাঠক চিঠিতে লেখেন, “আপনার লেখায় মাটির গন্ধ নেই।” কথাটি পড়ে তানভীর আহমেদ স্বীকার করেন, তিনি কখনো কৃষকের ঘরে রাত কাটাননি। এরপর থেকে তিনি প্রতি ছুটিতে চর এলাকায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে থাকেন, তাদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হন।
- ক)(1)
‘ঐকতান’ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
- খ)(2)
“বাধা হয়ে আছে মোর বেড়াগুলি জীবনযাত্রার”— কবি এ কথা বলেছেন কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের পাঠকের মন্তব্যে ‘ঐকতান’ কবিতার কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“কৃষাণের জীবনের শরিক যে জন, কর্মে ও কথায় সত্য আত্মীয়তা করেছে অর্জন”— উদ্দীপকের পরিবর্তিত তানভীর আহমেদ কি কবির প্রত্যাশিত এই কবির প্রতিনিধি? ‘ঐকতান’ কবিতার আলোকে বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘ঐকতান’ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জন্মদিনে’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। এটি ওই গ্রন্থের ১০ সংখ্যক কবিতা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সমাজের উচ্চ মঞ্চে অবস্থান করে জীবন কাটিয়েছেন। তাঁর জীবনযাত্রার গণ্ডি তাঁকে চাষি, তাঁতি, জেলের মতো শ্রমজীবী মানুষের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। মাঝে মাঝে তিনি তাদের পাড়ার প্রান্তে গেলেও ভেতরে প্রবেশের সুযোগ বা শক্তি পাননি। তাই প্রকৃতির ঐকতানে সবার সঙ্গে যোগ থাকলেও সর্বত্র প্রবেশের দ্বার তিনি পান না। এ কারণেই জীবনযাত্রার সীমাবদ্ধতাকে তিনি বেড়া বা বাধা বলেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের পাঠকের মন্তব্যে ‘ঐকতান’ কবিতার সাধারণ মানুষের জীবন থেকে বিচ্ছিন্নতার কারণে সৃষ্টিতে অপূর্ণতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। ‘ঐকতান’ কবিতায় কবি স্বীকার করেছেন, সমাজের উচ্চ মঞ্চে বসে সংকীর্ণ বাতায়ন দিয়ে তিনি জীবনকে দেখেছেন। কৃষক, জেলে, তাঁতির জীবনের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারায় তাঁর কবিতা সর্বগামী হয়নি। উদ্দীপকে তানভীর আহমেদ শহরের অভিজাত পরিবেশে থাকেন এবং মাঝি-কৃষকের জীবন সম্পর্কে কেবল পুঁথিগত ধারণা রাখেন। তাই পাঠক তাঁর লেখায় মাটির গন্ধ পান না। কবির আত্মোপলব্ধি ও পাঠকের এই মন্তব্য একই সত্যের প্রকাশ। দুটি ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগের অভাবে সৃষ্টি অপূর্ণ থেকে গেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের পরিবর্তিত তানভীর আহমেদকে কবির প্রত্যাশিত কবির পথের অনুসারী বলা যায়, তবে পূর্ণ প্রতিনিধি বলা চলে কি না তা বিচার সাপেক্ষ। ‘ঐকতান’ কবিতায় রবীন্দ্রনাথ এমন কবির আবির্ভাব প্রত্যাশা করেছেন, যিনি কৃষাণের জীবনের শরিক, কর্মে ও কথায় যিনি মানুষের সঙ্গে সত্য আত্মীয়তা অর্জন করেছেন এবং যিনি মাটির কাছাকাছি থাকেন। কবির মতে, জীবনে জীবন যোগ না করলে শিল্পীর সৃষ্টি কৃত্রিম পণ্য হয়ে ব্যর্থ হয়। উদ্দীপকে তানভীর আহমেদ নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করেছেন এবং চর এলাকায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে থেকে তাদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়েছেন। এটি কবির প্রত্যাশিত জনসম্পৃক্ততার দিক। আবার কবি চেয়েছেন অখ্যাত ও নির্বাক মানুষের মর্মবেদনা উদ্ধার করে সাহিত্যকে রসে পূর্ণ করতে। উদ্দীপকে তানভীরের লেখায় সেই রূপান্তর ঘটেছে কি না তা স্পষ্ট নয়; এখনো তিনি যাত্রা শুরু করেছেন মাত্র। তাই বলা যায়, তিনি কবির প্রত্যাশিত পথে সঠিক দিকে এগোচ্ছেন, কিন্তু আদর্শ কবির পূর্ণতা পেতে আরও সময় ও সাধনার প্রয়োজন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও