বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • সৌরজগৎ ও ভূমণ্ডল
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
একটি বিজ্ঞান ম্যাগাজিনে সৌরজগতের এক গ্রহ সম্পর্কে লেখা হয়েছে: 'গ্রহটির বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন নেই; কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রায় ৯৬ ভাগ। এর পৃষ্ঠে পৃথিবীর তুলনায় ৯০ গুণ বেশি বাতাসের চাপ এবং ঘন মেঘের কারণে অ্যাসিড বৃষ্টি হয়।' পাঠটি পড়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত বলল, 'আমাদের পৃথিবীতে মানুষ ব্যাপকভাবে গাছ কাটছে, কলকারখানার ধোঁয়া ও জ্বালানি পোড়ানো গ্যাস বাতাসে ছড়াচ্ছে। এভাবে চললে পৃথিবীরও ক্ষতি হবে।'
- ক)(1)
বায়ুমণ্ডল কাকে বলে?
- খ)(2)
ওজোন স্তরকে পৃথিবীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত গ্রহটি জীবের বসবাসের অনুপযোগী কেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নুসরাতের মন্তব্যটি কি যথার্থ? পৃথিবীতে জীবের টিকে থাকার শর্তসমূহের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পৃথিবীকে বেষ্টন করে থাকা অদৃশ্য গ্যাসীয় আবরণকে বায়ুমণ্ডল বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বায়ুমণ্ডলের ১২-১৬ কিলোমিটার গভীর একটি স্তরে ওজোন (O₃) গ্যাস রয়েছে, যাকে ওজোন স্তর বলে। এই স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে নেয়। ফলে সেই রশ্মি ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারে না এবং প্রাণিজগৎ সুরক্ষিত থাকে। এ কারণে ওজোন স্তর পৃথিবীকে প্রাণিজগতের বাস উপযোগী করেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বর্ণিত গ্রহটি জীবের বসবাসের অনুপযোগী হওয়ার কারণ:
১. অক্সিজেনের অভাব: সকল প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন অত্যাবশ্যক। গ্রহটির বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন নেই, তাই প্রাণী শ্বাস নিতে পারবে না।
২. কার্বন ডাই-অক্সাইডের আধিক্য: বায়ুমণ্ডলে প্রায় ৯৬ ভাগ কার্বন ডাই-অক্সাইড থাকায় পরিবেশ জীবনধারণের উপযোগী নয়।
৩. অতিরিক্ত বায়ুচাপ: পৃথিবীর চেয়ে ৯০ গুণ বেশি বাতাসের চাপ কোনো জীব সহ্য করতে পারে না।
৪. অ্যাসিড বৃষ্টি: কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘন মেঘের কারণে অ্যাসিড বৃষ্টি হয়, যা উদ্ভিদ ও প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর।অপরদিকে পৃথিবীতে অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন, প্রয়োজনীয় পানি এবং সহনীয় তাপমাত্রা (গড় ১৩.৯০° সেলসিয়াস) আছে। তাই এখানে জীব বসবাস করতে পারে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর নুসরাতের মন্তব্যটি যথার্থ।
পৃথিবীতে জীব টিকে থাকার প্রধান শর্তগুলো হলো প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও বিশুদ্ধ বায়ু, পানি, সহনীয় তাপমাত্রা এবং ওজোন স্তরের সুরক্ষা। এর মধ্যে বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা। এটি সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে প্রাণিকুলকে রক্ষা করে এবং অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড দিয়ে প্রাণী ও উদ্ভিদকে বাঁচিয়ে রাখে।
উদ্দীপকে নুসরাত যে কাজগুলোর কথা বলেছে:
• ব্যাপকভাবে গাছ কাটলে বায়ুতে কার্বন ডাই-অক্সাইড বাড়ে ও অক্সিজেন কমে।
• কলকারখানার ধোঁয়া এবং কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানো বিষাক্ত গ্যাস বায়ুমণ্ডলকে দূষিত করে।এভাবে বায়ুমণ্ডলের গঠন ও উপাদানের পরিবর্তন ঘটলে পৃথিবীও ক্রমে উদ্দীপকের গ্রহের মতো কার্বন ডাই-অক্সাইডপ্রধান হয়ে উঠতে পারে, যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব কঠিন হয়ে যাবে। তাই প্রাণীর অস্তিত্ব রক্ষার জন্য বায়ুমণ্ডলকে বিশুদ্ধ রাখা জরুরি। এ বিবেচনায় নুসরাতের আশঙ্কা যুক্তিসঙ্গত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও