রসায়ন • পর্যায় সারণি (Periodic Table)
রসায়ন প্রশ্ন
রসায়ন ক্লাবের সভায় সুমি মৌলগুলোকে শুধু পারমাণবিক ভরের ক্রমে সাজিয়ে একটি ছক তৈরি করল। ছকে আর্গন (ভর 40, পারমাণবিক সংখ্যা 18) ও পটাশিয়াম (ভর 39, পারমাণবিক সংখ্যা 19) এর অবস্থান নিয়ে সমস্যা দেখা দিল। তার বন্ধু অর্ণব বলল, ১৮৬৯ সালে মেন্ডেলিফও একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন। পরে ১৯১৩ সালে অন্য এক বিজ্ঞানী ভিন্ন একটি ভিত্তিতে মৌল সাজানোর প্রস্তাব দিয়ে সমস্যার সমাধান করেন।
- ক)(1)
IUPAC এর পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণির সাফল্য কী ছিল? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে সুমির ছকের সমস্যাটি ব্যাখ্যা করো এবং ১৯১৩ সালের প্রস্তাব অনুযায়ী Ar ও K এর সঠিক ক্রম দেখাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণি ও মোসলের প্রস্তাব অনুযায়ী সারণির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে কোনটি অধিক যৌক্তিক তা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর IUPAC এর পূর্ণরূপ International Union of Pure and Applied Chemistry।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণির একটি বড় সাফল্য হলো কিছু অনাবিষ্কৃত মৌলের অস্তিত্ব সম্পর্কে সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী। তখন মাত্র ৬৩টি মৌল আবিষ্কৃত হওয়ায় সারণির কিছু ঘর ফাঁকা থেকে যায়। মেন্ডেলিফ ওই ফাঁকা ঘরগুলোর জন্য যে মৌলের কথা বলেছিলেন, পরবর্তীকালে সেগুলো আবিষ্কৃত হয়ে সত্য প্রমাণিত হয়। এছাড়া এই সারণিতে একই কলামের মৌলগুলোর ধর্ম একই রকম এবং একই সারিতে ধর্মের ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন দেখানো সম্ভব হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সুমি শুধু পারমাণবিক ভর অনুযায়ী সাজালে যে মৌলের ভর কম সেটি আগে বসবে। এ নিয়মে K (ভর 39) আগে এবং Ar (ভর 40) পরে বসে। কিন্তু তখন একই গ্রুপের মৌলের ধর্মের মিল থাকে না। মেন্ডেলিফ ধর্মের মিল রাখার জন্য ভর বেশি হওয়া সত্ত্বেও Ar কে K এর আগে বসান, যা তাঁর সারণির একটি ত্রুটি ছিল।
১৯১৩ সালে মোসলে পারমাণবিক ভরের পরিবর্তে পারমাণবিক সংখ্যা অনুযায়ী মৌল সাজানোর প্রস্তাব দেন। এ অনুযায়ী Ar এর পারমাণবিক সংখ্যা 18 এবং K এর পারমাণবিক সংখ্যা 19। পারমাণবিক সংখ্যা কম হওয়ায় Ar আগে এবং K পরে বসবে। এভাবে পারমাণবিক সংখ্যার ক্রম না ভেঙেই ধর্মের মিল বজায় থাকে এবং ত্রুটিটি দূর হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মেন্ডেলিফের সারণি: ১৮৬৯ সালে মেন্ডেলিফ পর্যায় সূত্র দেন: মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলি তাদের পারমাণবিক ভর বৃদ্ধির সাথে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়। তিনি ৬৩টি মৌলকে ভর বৃদ্ধির ক্রমে ১২টি সারি ও ৪টি কলামে সাজান এবং কিছু অনাবিষ্কৃত মৌলের সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করেন। এটি তাঁর বড় সাফল্য। কিন্তু ভরই ক্রমের ভিত্তি হওয়ায় Ar (ভর 40) ও K (ভর 39) এর ক্ষেত্রে ভরের নিয়ম মানলে ধর্মের মিল থাকে না। ধর্মের মিল রাখতে গিয়ে ভর বেশি হওয়া সত্ত্বেও Ar কে K এর আগে বসাতে হয়, ফলে নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটে। এমন আরও অনেক ত্রুটি তাঁর সারণিতে ছিল।
মোসলের প্রস্তাব: ১৯১৩ সালে মোসলে পারমাণবিক সংখ্যা অনুযায়ী মৌল সাজানোর প্রস্তাব দেন। তখন Ar (18) স্বাভাবিকভাবেই K (19) এর আগে বসে, কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই। অন্য ত্রুটিগুলোও এতে সংশোধিত হয়। ধর্মগুলো পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়, যা বর্তমান আধুনিক পর্যায় সারণির ভিত্তি।
মূল্যায়ন: মেন্ডেলিফের সারণি পর্যায় সারণি তৈরির পথ দেখালেও তাতে ভরভিত্তিক ক্রমের ফলে ব্যতিক্রম থেকে গিয়েছিল। মোসলের পারমাণবিক সংখ্যাভিত্তিক ক্রমে কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই ধর্মের মিল ও ক্রম দুটোই রক্ষা পায়। তাই মোসলের প্রস্তাব অনুযায়ী সারণিই অধিক যৌক্তিক ও নির্ভুল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও