জীববিজ্ঞান • জীবের প্রজনন (Reproduction)
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
গর্ভবতী রুবিনা বেগম নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন। চিকিৎসক আল্ট্রাসনোগ্রাম দেখে জানালেন, জরায়ুর প্রাচীরে সংযুক্ত একটি ডিম্বাকার ও রক্তনালিসমৃদ্ধ অস্থায়ী অঙ্গ ঠিকমতো গঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে রুবিনার রক্ত থেকে সন্তানের জন্য প্রয়োজনীয় পদার্থ পৌঁছাচ্ছে এবং সন্তানের দেহের বর্জ্য সরে যাচ্ছে। চিকিৎসক আরও বললেন, প্রায় চার সপ্তাহ বয়সী ভ্রূণের হৃৎস্পন্দন শুরু হয়েছে।
- ক)(1)
ব্লাস্টোসিস্ট কাকে বলে?
- খ)(2)
ভ্রূণ সংস্থাপন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অস্থায়ী অঙ্গটি কীভাবে গঠিত হয় এবং ভ্রূণের সাথে কোন নালির মাধ্যমে যুক্ত থাকে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের অস্থায়ী অঙ্গটি ভ্রূণের জন্য একই সাথে ফুসফুস, বৃক্ক ও গ্রন্থির মতো কাজ করে— বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কোষ বিভাজনের শেষ পর্যায়ে ডিম্বনালি থেকে জরায়ুতে পৌঁছানো গঠনমুখ ভ্রূণকে ব্লাস্টোসিস্ট বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ব্লাস্টোসিস্ট পর্যায়ের ভ্রূণ জরায়ুতে পৌঁছে পরবর্তী পর্যায়গুলো সম্পন্ন করার জন্য জরায়ুর প্রাচীরে সংলগ্ন হয়। জরায়ুর প্রাচীরে ভ্রূণের এই সংযুক্তিকে ভ্রূণ সংস্থাপন বা গর্ভধারণ বলে। ভ্রূণ জরায়ুতে পৌঁছানোর ৪-৫ দিনের মধ্যে সংস্থাপন সম্পন্ন হয়। এরপর ভ্রূণটি বাড়তে বাড়তে ধীরে ধীরে মানবশিশুতে পরিণত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত অস্থায়ী অঙ্গটি হলো অমরা বা গর্ভফুল। ক্রমবর্ধমান ভ্রূণের কিছু কোষ এবং মাতৃ জরায়ুর অন্তঃস্তরের কিছু কোষ মিলিত হয়ে ডিম্বাকার ও রক্তনালিসমৃদ্ধ এই অমরা তৈরি করে। নিষেকের ১২ সপ্তাহের মধ্যে অমরা গঠিত হয়। এভাবে ভ্রূণ ও মাতৃ জরায়ুর অন্তঃস্তরের মধ্যে একটি অবিচ্ছেদ্য অস্থায়ী অঙ্গ তৈরি হয়। অমরা আমবিলিক্যাল কর্ড বা নাড়ি দ্বারা ভ্রূণের নাভির সাথে যুক্ত থাকে। এই নালির ভেতর দিয়ে মাতৃদেহ ও ভ্রূণের মধ্যে বিভিন্ন পদার্থের বিনিময় ঘটে। প্রসবের সময় অমরা দেহ থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের অস্থায়ী অঙ্গটি হলো অমরা। এটি ভ্রূণের জন্য নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ফুসফুসের মতো কাজ: অমরার মাধ্যমে ভ্রূণ মায়ের রক্ত থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং ভ্রূণ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড মায়ের রক্তে চলে যায়। এভাবে এটি গ্যাসীয় বিনিময় ঘটায়, যা ফুসফুসের কাজের অনুরূপ।
২. বৃক্কের মতো কাজ: ভ্রূণের বিপাকের ফলে উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থ অমরার মাধ্যমে ভ্রূণের দেহ থেকে অপসারিত হয়। তাই অমরাকে বৃক্কের সাথে তুলনা করা হয়।
৩. পুষ্টি সরবরাহ: শর্করা, আমিষ, স্নেহ, পানি ও খনিজ লবণ অমরার মাধ্যমে মায়ের রক্ত থেকে ভ্রূণের রক্তে প্রবেশ করে। এতে ভ্রূণের বৃদ্ধি সম্ভব হয়।
৪. হরমোন তৈরি: অমরা গোনাডোট্রপিন ও প্রোজেস্টেরনের মতো গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিঃসরণ করে। এগুলো ডিম্বাশয়ের অনালগ্রন্থিকে উত্তেজিত করে, স্তনগ্রন্থির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে এবং ভ্রূণের রক্ষণাবেক্ষণ ও স্বাভাবিক গঠনে সাহায্য করে। এ হরমোন মাতৃদুগ্ধ উৎপাদন ও প্রসব সহজ করতেও সহায়তা করে।
অতএব, অমরা একই সাথে ফুসফুস, বৃক্ক ও অনালগ্রন্থির কাজ সম্পাদন করে ভ্রূণকে বাঁচিয়ে রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও