বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রশাসন ব্যবস্থা

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

একটি মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের পদবি হলো— সহকারী সচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব, উপসচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জনাব তারেক সাহেব উপসচিব পদে কর্মরত। তাঁর বিভাগের একটি প্রস্তাব মন্ত্রীর কাছে পাঠানোর প্রয়োজন হলে তিনি সরাসরি মন্ত্রীর কাছে না পাঠিয়ে ধাপে ধাপে উপরের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পাঠান। মন্ত্রী প্রস্তাবটি অনুমোদন করলে সিদ্ধান্তটি আবার নিচের দিকে প্রেরিত হয়।

  1. ক)

    সচিবালয় কী?

    (1)
  2. খ)

    সচিবালয়কে শাসনব্যবস্থার স্নায়ুকেন্দ্র বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মকর্তাদের পদবিগুলো পদসোপানে যে ক্রমে অবস্থান করে তা লেখো এবং জনাব তারেকের উপরের ও নিচের পদের নাম উল্লেখ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জনাব তারেকের প্রস্তাব পাঠানোর পদ্ধতির যৌক্তিকতা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও তার বিভাগসমূহের অফিসগুলোকে যৌথভাবে সচিবালয় বলে। এটি বাংলাদেশের প্রশাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রে অবস্থিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মানবদেহে স্নায়ুকেন্দ্র যেমন সব অঙ্গকে নিয়ন্ত্রণ করে, সচিবালয়ও তেমনি প্রশাসনের সব অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে। সরকারি যাবতীয় সিদ্ধান্ত সর্বপ্রথম সচিবালয়ে গৃহীত হয়। এখান থেকেই সিদ্ধান্ত ক্রমান্বয়ে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনে প্রেরিত হয়। সকল বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থা সচিবালয়ের কাছে দায়ী থাকে। এ কারণে সচিবালয়কে শাসনব্যবস্থার স্নায়ুকেন্দ্র বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রশাসনে পদসোপান অনুযায়ী সর্বনিম্ন স্তরের কর্মকর্তা সহকারী সচিব। উদ্দীপকের পদগুলোর নিম্ন থেকে উচ্চ ক্রম হলো: সহকারী সচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব, উপসচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব। এর উপরে রয়েছেন সিনিয়র সচিব এবং সবার উপরে মন্ত্রী। জনাব তারেক উপসচিব পদে কর্মরত। পদসোপানে তাঁর ঠিক উপরের পদ যুগ্ম সচিব এবং নিচের পদ সিনিয়র সহকারী সচিব। সিদ্ধান্ত বা নির্দেশ এই কাঠামোর মধ্য দিয়েই উপর থেকে নিচের দিকে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জনাব তারেক প্রস্তাব সরাসরি মন্ত্রীর কাছে না পাঠিয়ে পদসোপানের ধাপ অনুসরণ করেছেন। এটি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের নিয়মের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
    ১. পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পদসোপানের কাঠামোর মধ্য দিয়েই বাস্তবায়িত হয়। তাই ধাপ অনুসরণ করা নিয়মসম্মত।
    ২. সচিব মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং মন্ত্রণালয়ের যাবতীয় কাজের ভার তাঁর ওপর ন্যস্ত। সচিবের পরামর্শ ছাড়া কোনো বিভাগীয় প্রধান সরাসরি মন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব বা সুপারিশ পাঠাতে পারেন না।
    ৩. মন্ত্রী একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি। তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে সচিবের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরামর্শ নেন। ধাপে ধাপে যাচাইয়ের ফলে প্রস্তাবটি অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের পর্যালোচনার সুযোগ পায়।
    ৪. এতে প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও দায়িত্বের স্পষ্ট বণ্টন বজায় থাকে এবং প্রশাসনিক শিথিলতা এড়ানো যায়।
    অতএব, জনাব তারেকের পদ্ধতিটি যুক্তিযুক্ত, কারণ এটি কেন্দ্রীয় প্রশাসনের পদসোপান, দায়বদ্ধতা ও শৃঙ্খলা রক্ষা করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও