ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • বাংলায় কোম্পানি ও ঔপনিবেশিক শাসন
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
নদীতীরবর্তী ফিরোজপুর গঞ্জে বহু বছর আগে একদল বিদেশি বণিক এসে বসতি গড়ে তোলে। তারা স্থানীয়দের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করে, বিদেশ থেকে নতুন নতুন ফল ও ফসল এনে চাষ শুরু করে এবং ঘরোয়া জিনিসপত্রের বেশ কিছু নতুন নাম এখানকার ভাষায় চালু করে। কিছুকাল পর তারা শক্তিমত্তার জোরে মানুষকে জোর করে ধর্মান্তরিত করতে থাকে, মানুষ কিনে বিদেশে চালান দেয় এবং লুটতরাজে লিপ্ত হয়। ফলে শাসকের আদেশে তাদের কঠোর হাতে উচ্ছেদ করা হয়।
- ক)(1)
ভাস্কো-দা-গামা কত খ্রিস্টাব্দে ভারতের কালিকট বন্দরে উপস্থিত হন?
- খ)(2)
বাংলায় পর্তুগিজরা কীভাবে স্থায়ী কুঠি স্থাপনের অধিকার লাভ করে? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রথম অংশে পর্তুগিজদের কোন কোন অবদানের ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শেষ অংশে বর্ণিত পরিণতির আলোকে বাংলা থেকে পর্তুগিজদের বিতাড়নের কারণগুলো বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ভাস্কো-দা-গামা ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে ভারতের পশ্চিম উপকূলের কালিকট বন্দরে উপস্থিত হন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ষোড়শ শতকের শুরুতে পর্তুগিজরা গোয়াকে ঘাঁটি করে মৌসুমি বায়ুর সাহায্যে বাংলায় বাণিজ্য করতে আসত এবং অস্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তুলত। বাংলার স্বাধীন সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ (১৫৩৩-১৫৩৮ খ্রি.) তাদের চট্টগ্রাম ও সাতগাঁও বন্দরে প্রচুর জমি দান করেন এবং স্থায়ী কুঠি স্থাপনের অধিকার দেন। শেরশাহের আক্রমণ প্রতিহত করতে মাহমুদ শাহের পর্তুগিজদের সামরিক সাহায্য প্রয়োজন ছিল, ফলে তিনি এই সুবিধা দিতে সম্মত হন। এভাবেই তারা বাংলায় স্থায়ী বাণিজ্যকুঠি স্থাপনের অধিকার পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের প্রথম অংশে বিদেশি বণিকদের বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন, নতুন ফল-ফসল প্রবর্তন এবং ভাষায় নতুন শব্দের অনুপ্রবেশের কথা বলা হয়েছে, যা বাংলায় পর্তুগিজদের অবদানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। পর্তুগিজরা বাংলায় স্থায়ী বসতি স্থাপন করে বিবাহসূত্রে অনেকেই বাঙালি সমাজের অংশ হয়ে যায়। কৃষিক্ষেত্রে তারা উত্তর আমেরিকা থেকে গোলআলু ও তামাক, ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে পেঁপে, আনারস, কামরাঙা ও পেয়ারা প্রভৃতি এনে এদেশে চালু করে। ভাষা-সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও তাদের প্রভাব স্পষ্ট; বালতি, ছবি, সাবান, তোয়ালে, আলপিন, বারান্দা, জানালা প্রভৃতি পর্তুগিজ শব্দ বাংলা ভাষায় ঢুকে পড়ে। এছাড়া বাংলা গদ্যে প্রথম বই এবং বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ ও অভিধান পর্তুগিজদের রচনা। তাই উদ্দীপকের প্রথম অংশ পর্তুগিজদের সামাজিক, কৃষিগত ও ভাষাগত অবদানকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের শেষ অংশে বিদেশিদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ, দাস ব্যবসা ও লুটতরাজের কারণে শাসকের আদেশে উচ্ছেদের কথা বলা হয়েছে, যা বাংলা থেকে পর্তুগিজদের বিতাড়নের ঘটনাকে নির্দেশ করে। বাংলা থেকে পর্তুগিজদের বিতাড়নের কারণগুলো নিম্নরূপ। ১. মুঘলবিরোধিতা: পর্তুগিজরা শুরু থেকেই মুঘলবিরোধী ছিল এবং মুঘলদের শত্রু আরাকান রাজ্যের সাথে তাদের মিত্রতা ছিল। ফলে সম্রাট শাহজাহান তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। বলা হয়, তারা সম্রাজ্ঞী মমতাজ মহলের কয়েকজন দাসীকে অপহরণ করেছিল। ২. রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ: প্রভাব-প্রতিপত্তি বেড়ে যাওয়ায় তারা রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা চালাতে ভয় পেত না। ৩. জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ: তারা দেশবাসীকে জোর করে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করত, যা জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। ৪. দাস ব্যবসা ও দস্যুবৃত্তি: তারা দেশি মানুষকে দাস হিসেবে কিনে বিদেশে চালান করত এবং দস্যুবৃত্তি ছিল তাদের অন্যতম পেশা। এসব কারণে সম্রাট শাহজাহান সুবাদার কাসিম খানকে তাদের তাড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কাসিম খান ১৬৩২ খ্রিস্টাব্দে এক ভীষণ যুদ্ধে পর্তুগিজদের পরাজিত করে হুগলি দখল করেন। বাণিজ্য, উপনিবেশ স্থাপন ও দাস ব্যবসা নিষিদ্ধ হলে তারা দেশ ছাড়তে শুরু করে এবং সপ্তদশ শতকের মাঝামাঝি বাংলা থেকে সম্পূর্ণ বিদায় নেয়। সুতরাং তাদের নিজেদের অপকর্ম ও মুঘলবিরোধী অবস্থানই বিতাড়নের মূল কারণ ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও