সাহিত্য পাঠ • নবান্ন

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

হেমন্তের সকাল। সুফিয়া বেগম ঘর-উঠান লেপে ফুলের নকশা আঁকছেন। স্বামী আশরাফ আলী মাটির বড় ডোলটি মেরামত করেছেন, কারণ এবার কাটা ধান রাখার জায়গা লাগবে। ছেলেমেয়েরা নতুন জামার আশায় আনন্দে মাতোয়ারা। কিন্তু দুপুরে খবর আসে, রাতের আঁধারে কারা যেন জমির প্রায় সব পাকা ধান কেটে নিয়ে গেছে। আশরাফ আলী মাঠে দাঁড়িয়ে ভাবেন, উৎসবের সব আয়োজন এখন কার জন্য?

  1. ক)

    ‘মরাই’ শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    “আমি রোজ ভাবি— ফসলটা নাবি, আরও ক’টা দিন যাক্”— কবি এ কথা কেন ভেবেছিলেন?

    (2)
  3. গ)

    ‘নবান্ন’ কবিতায় কৃষকের বাড়িতে নবান্ন উৎসবের যে প্রস্তুতির বর্ণনা আছে তা উদ্দীপকের আলোকে লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    “আনন্দ ও বেদনার বৈপরীত্যই ‘নবান্ন’ কবিতার শিল্পসৌন্দর্যের মূল।”— উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘মরাই’ শব্দের অর্থ হোগলা, বেত ইত্যাদি দিয়ে তৈরি শস্য জমা রাখার বড় আধার বা ধানের গোলা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবিতায় কৃষক ফসল কাটার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে চেয়েছিলেন, যাতে ধান পুরোপুরি পেকে ওঠে। তিনি জানতেন যে ভরা অগ্রহায়ণে কোনো দেব-দুর্বিপাক বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটার আশঙ্কা নেই। তাই ফসল তুলতে তাড়াহুড়ো না করে ধানকে আরও পরিপক্ক হওয়ার সুযোগ দিতে চেয়েছিলেন। এই ভাবনায় কৃষকের নিশ্চিন্ততা ও আসন্ন সুখের প্রতি আস্থা প্রকাশ পেয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘নবান্ন’ কবিতায় অগ্রহায়ণে ফসল কাটার সময় সমাগত দেখে কৃষকের বাড়িতে উৎসবের নানা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাড়ায় পাড়ায় উৎসব শুরু হয়েছে এবং মাঠের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। আঙিনা লেপে মরাইয়ের পাশে আলপনা আঁকা হয়েছে, কৃষক নিজে মরাই-সারাই শেষ করে খামারে ধান তোলার আয়োজন করছিলেন। উদ্দীপকে সুফিয়া বেগম ঘর-উঠান লেপে নকশা আঁকছেন, যা কবিতার আঙিনা লেপে আলপনা দেওয়ার সঙ্গে মেলে। আশরাফ আলী ধান রাখার ডোল মেরামত করেছেন, কবিতায় যেমন মরাই-সারাই করা হয়েছে। কিন্তু দুই ক্ষেত্রেই সব আয়োজনের পর হঠাৎ ফসল নষ্ট হওয়ায় উৎসবের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে। এভাবে কবিতার উৎসব-প্রস্তুতির চিত্র উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর “আনন্দ ও বেদনার বৈপরীত্যই ‘নবান্ন’ কবিতার শিল্পসৌন্দর্যের মূল”— উক্তিটি যথার্থ। ‘নবান্ন’ কবিতার শুরুতেই কবি শুভ নবান্নের আনন্দ-উৎসবের চিত্র এঁকেছেন: ধানের ঘ্রাণে ভরা অগ্রহায়ণ, পাড়ায় পাড়ায় উৎসব, আঙিনায় আলপনা, মরাইয়ের পাশে প্রস্তুতি। লক্ষ্মীর চাষির ঘরে আসার স্বপ্নে কৃষক বিভোর। ঠিক তখনই কবিতায় আসে ভয়াবহ আঘাত— ‘কালকে হঠাৎ’ ক্ষেতভরা পাকা ধানে মই পড়ে যায়। উৎসবের আনন্দের সঙ্গে সর্বনাশের এই তীব্র বৈপরীত্য কবিতার বেদনাকে আরও গভীর ও মর্মস্পর্শী করেছে। কবিতার শেষে বন্ধুর অসহিষ্ণুতায় গল্প অসমাপ্ত থেকে যায়, ফলে বেদনার রেশ রয়ে যায়। উদ্দীপকেও একই বৈপরীত্য দেখা যায়: সকালে উঠান নকশায় সাজানো, ডোল মেরামত, শিশুদের নতুন জামার আনন্দ; আর দুপুরেই পাকা ধান চুরি হয়ে যাওয়ার সংবাদ। এই বৈপরীত্য উৎসবের আয়োজনকে অর্থহীন করে দেয় এবং আশরাফ আলীর বেদনাকে তীব্র করে। উভয় ক্ষেত্রেই আনন্দের বিপরীতে বিষাদের তীক্ষ্ণ আঘাতই রচনার মূল আবেদন সৃষ্টি করেছে। সুতরাং আনন্দ ও বেদনার বৈপরীত্যকে ‘নবান্ন’ কবিতার শিল্পসৌন্দর্যের মূল বলা যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও