জীববিজ্ঞান • খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

পিত্তথলিতে পাথর হওয়ায় রহিম সাহেবের পিত্তথলি অস্ত্রোপচার করে বাদ দেওয়া হয়েছে। ডাক্তার তাকে চর্বিযুক্ত খাবার কম খেতে বলেছেন। অন্যদিকে তার ভাই করিমের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। ডাক্তার জানালেন, দেহের একটি মিশ্রগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের অভাবে এমন হয়েছে।

  1. ক)

    মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি কোনটি?

    (1)
  2. খ)

    পিত্তরসে কোনো এনজাইম না থাকা সত্ত্বেও এটি পরিপাকে সহায়তা করে কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    করিমের সমস্যার সাথে সম্পর্কিত গ্রন্থিটি পরিপাকে কীভাবে অংশ নেয়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রহিম সাহেবকে ডাক্তারের দেওয়া পরামর্শের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি হলো যকৃৎ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পিত্তরস সরাসরি খাদ্য পরিপাক করে না, কারণ এতে কোনো উৎসেচক নেই। তবে এটি ক্ষারীয় প্রকৃতির হওয়ায় ডিওডেনামে পাকস্থলী থেকে আসা খাদ্যের অম্লভাব প্রশমিত করে ক্ষারীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে, যা এনজাইমের কাজের অনুকূল। এছাড়া এটি চর্বিজাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে লাইপেজ এনজাইমের কাজে সহায়তা করে। এভাবে এটি পরোক্ষভাবে পরিপাকে অংশ নেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর করিমের সমস্যার সাথে সম্পর্কিত গ্রন্থিটি হলো অগ্ন্যাশয়, যা একটি মিশ্রগ্রন্থি এবং ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন নিঃসরণ করে।

    পরিপাকে অংশগ্রহণ: অগ্ন্যাশয় বহিঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয়রস তৈরি করে, যা অগ্ন্যাশয় নালি ও যকৃৎ-অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে ডিওডেনামে এসে পৌঁছে। এই রসে তিনটি এনজাইম থাকে:
    ১. অ্যামাইলেজ— শর্করা পরিপাকে সাহায্য করে।
    ২. ট্রিপসিন— আমিষ পরিপাকে সাহায্য করে।
    ৩. লাইপেজ— স্নেহজাতীয় খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে।

    এভাবে অগ্ন্যাশয়রস তিন ধরনের খাদ্যের পরিপাকেই অংশ নেয়। এছাড়া এটি অম্ল-ক্ষারের সাম্যতা ও পানির সাম্যতা নিয়ন্ত্রণ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রহিম সাহেবের পিত্তথলি বাদ দেওয়া হয়েছে। পিত্তথলির কাজ হলো যকৃৎ উৎপন্ন পিত্তরস জমা রাখা এবং প্রয়োজনে পিত্তনালির মাধ্যমে ডিওডেনামে পাঠানো।

    বিশ্লেষণ:
    ১. পিত্তরস যকৃতের কোষে তৈরি হয়, পিত্তথলিতে নয়। তাই পিত্তথলি বাদ গেলেও যকৃৎ পিত্তরস তৈরি করতে থাকে, তবে তা জমা থাকতে না পেরে অল্প অল্প করে ডিওডেনামে আসে।
    ২. পিত্তরস চর্বিজাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে, ফলে লাইপেজ এনজাইম সহজে কাজ করতে পারে। পিত্তথলিতে জমা না থাকায় একসাথে বেশি পিত্তরস পাওয়া যায় না।
    ৩. তাই বেশি চর্বিযুক্ত খাবার খেলে তা ঠিকমতো পরিপাক হবে না। এতে বদহজম, পেটে অস্বস্তি ও অন্যান্য সমস্যা হতে পারে।
    ৪. পিত্তরস খাদ্যের অম্লভাব প্রশমিত করে, তবে চর্বি কম খেলে পরিপাকের চাপ কমবে।

    সুতরাং ডাক্তারের চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়ার পরামর্শ সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও