ভূগোল ২য় পত্র • পরিবহন ও যোগাযোগ

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

রফিক সাহেব ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানে করে দুবাই যান। তাঁর ভাই একজন পোশাক রপ্তানিকারক, যিনি পণ্য জাহাজে করে ইউরোপে পাঠান। রফিক সাহেব লক্ষ করেন, ঢাকা থেকে সড়কপথে বাসে কেবল কলকাতা ও আগরতলায় যাওয়া যায়, অন্য কোনো দেশে নয়।

  1. ক)

    বাংলাদেশে কয়টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশ বিমান একসময় অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সড়কপথে শুধু ভারতের সাথেই যোগাযোগের কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের যোগাযোগ রক্ষায় উদ্দীপকের জাহাজ ও বিমান- এই দুই মাধ্যমের ভূমিকার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশে বর্তমানে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশ বিমান জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা হলেও এর বিমানবহর সীমিত এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর পাশাপাশি পরিচালনাগত ত্রুটির কারণে প্রতিষ্ঠানটি সঠিকভাবে লাভজনক হতে পারেনি। এ ত্রুটিগুলোর ফলে এটি ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। তবে সরকারি পদক্ষেপের ফলে সংস্থাটি ক্ষতির মাত্রা কাটিয়ে উঠছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানই সড়কপথে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের প্রধান অন্তরায়। বাংলাদেশের তিনদিকে ভারত এবং একদিকে বঙ্গোপসাগর। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে মায়ানমারের সাথে যে সামান্য সীমান্ত আছে, তা পর্বতসংকুল ও দুর্গম। ফলে সড়কপথে ভারত ছাড়া অন্য কোনো দেশের সাথে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে ওঠেনি। উদ্দীপকে তাই ঢাকা থেকে কেবল কলকাতা ও আগরতলায় বাস চলে। এই কারণে ঢাকা-যশোর-বেনাপোল-কলকাতা এবং ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-আখাউড়া-আগরতলা, এই দুটি প্রধান সড়ক রুট ব্যবহৃত হয়। প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়ের সাথে যুক্ত হলে ভবিষ্যতে আরও দেশের সাথে যোগাযোগ সম্ভব হবে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের দুটি মাধ্যম দেখা যায়: রফিক সাহেবের ভ্রমণে বিমানপথ এবং তাঁর ভাইয়ের পণ্য রপ্তানিতে সমুদ্রপথ। দুটি মাধ্যমের ভূমিকা তুলনা করা হলো।
    ১. পণ্য বনাম যাত্রী: বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ৭৫ ভাগ সমুদ্রপথে সম্পন্ন হয়। সমুদ্রপথ আরামদায়ক ও খরচ সাশ্রয়ী, তবে সময় বেশি লাগে বলে বর্তমানে আন্তর্জাতিক জলপথে যাত্রী পরিবহন প্রায় নেই। অন্যদিকে বিমানপথ বিশ্বব্যাপী যাত্রী পরিবহনে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও দ্রুততম মাধ্যম।
    ২. অবকাঠামো: সমুদ্রপথে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর আছে, যার মাধ্যমে ভারত, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু দেশের বন্দরের সাথে যোগাযোগ রয়েছে। আকাশপথে হযরত শাহজালাল, শাহ আমানত ও ওসমানী এই তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সিঙ্গাপুর, দুবাই, রোম, ম্যানচেস্টারসহ বহু গন্তব্যে যোগাযোগ চলে।
    ৩. সীমাবদ্ধতা: সমুদ্রপথে ভারী ও বিপুল পণ্য পরিবহন সহজ। বিমানপথে খরচ বেশি হলেও গতি ও পচনশীল পণ্য পরিবহনের সুবিধা রয়েছে।
    সুতরাং ভারী পণ্য রপ্তানি-আমদানিতে সমুদ্রপথ এবং দ্রুত যাত্রী ও পচনশীল পণ্য পরিবহনে আকাশপথ অধিক কার্যকর; দুটি মাধ্যম পরস্পর পরিপূরক হয়ে বাংলাদেশের বৈশ্বিক যোগাযোগ রক্ষা করছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও