জীববিজ্ঞান • জীবের প্রজনন (Reproduction)
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
শিক্ষক ক্লাসে বললেন, ব্যাকটেরিয়া একটি কোষ বিভাজিত হয়ে অল্প সময়ে অনেকগুলো নতুন কোষ তৈরি করে। অন্যদিকে পেঁপে গাছের একটি গাছে শুধু পুংফুল ও আরেকটি গাছে শুধু স্ত্রীফুল ফোটে এবং দুই ধরনের ফুলের জননকোষ মিলিত হয়ে বীজ তৈরি হয়। মানুষসহ উচ্চশ্রেণির প্রাণীতেও এভাবে দুই ধরনের জননকোষ মিলিত হয়।
- ক)(1)
ভিন্নবাসী উদ্ভিদ কাকে বলে?
- খ)(2)
অযৌন জননে বংশধরের মধ্যে বৈচিত্র্য খুব কম থাকে কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ব্যাকটেরিয়ার প্রজনন পদ্ধতিটি সরল জীবে আজও টিকে আছে কেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
যৌন জনন অযৌন জননের তুলনায় জটিল ও সময়সাপেক্ষ হওয়া সত্ত্বেও উদ্দীপকে উল্লিখিত পেঁপে ও মানুষের মতো জীবে এটিই প্রধান পদ্ধতি — বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যেসব উদ্ভিদে পুং জননকোষ ও স্ত্রী জননকোষ আলাদা আলাদা দেহে সৃষ্টি হয়, তাদের ভিন্নবাসী (dioecious) উদ্ভিদ বলে। যেমন: পেঁপে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর অযৌন জননে একটি মাত্র মাতৃজীব অংশগ্রহণ করে এবং এতে মিয়োসিস বিভাজন ও জননকোষের মিলন ঘটে না। ফলে জিনের নতুন সমন্বয় হয় না। অপত্য জীবগুলো মাতৃজীবের প্রায় হুবহু অনুরূপ হয়, তাই বৈচিত্র্য খুব কম থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ব্যাকটেরিয়ার মতো সরল জীব কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন জনন ঘটায়। এই পদ্ধতি এখনও টিকে থাকার কারণ: ১. এতে খুব কম সময়ে অধিকসংখ্যক জীব জন্ম নেয়, ফলে দ্রুত বংশবৃদ্ধি হয়। ২. কম শক্তি ব্যয় হয়, কারণ জননকোষ তৈরি বা সঙ্গী খোঁজার প্রয়োজন পড়ে না। ৩. সরল দেহগঠনের জন্য এই পদ্ধতিই এদের উপযোগী ও সহজ। তাই সরলতর জীবে অযৌন জনন আজও টিকে আছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পেঁপে ও মানুষ উচ্চশ্রেণির জীব এবং এরা যৌন জননের মাধ্যমে বংশধর সৃষ্টি করে। যৌন জনন জটিল ও শ্রমসাধ্য হলেও বিবর্তনের ধারায় এটি টিকে আছে, এর কারণ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. যৌন জননে জনন মাতৃকোষ মিয়োসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়ে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক (n) করে জননকোষ গঠন করে। ২. পুং ও স্ত্রী জননকোষ মিলিত হয়ে জাইগোট গঠন করলে ক্রোমোজোম সংখ্যা আবার পূর্বের মতো (2n) হয়ে যায়। ফলে প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্থির থাকে। ৩. মিয়োসিস ও দুই ভিন্ন জীবের জননকোষের মিলনের ফলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রচুর জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়। ৪. এই বৈচিত্র্য প্রতিকূল পরিবেশে প্রজাতিকে টিকে থাকতে ও অভিযোজিত হতে সহায়তা করে, যা অযৌন জননে সম্ভব নয়। ৫. জাইগোট মাইটোসিসের মাধ্যমে বারবার বিভাজিত হয়ে নতুন জীবদেহ গঠন করে। এসব সুবিধার কারণে জটিল হওয়া সত্ত্বেও পেঁপে ও মানুষের মতো উচ্চশ্রেণির জীবে যৌন জনন প্রধান পদ্ধতি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও