কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • বাংলাদেশের কৃষি
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
সালমা একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। কৃষিশিক্ষা ক্লাসে সে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের গৃহপালিত পশুর সংখ্যার নিচের তথ্যটি সংগ্রহ করে।
| পশু | সংখ্যা (লাখে) |
|---|---|
| গরু | ২৩৭.৮৫ |
| ছাগল | ২৫৭.৫৬ |
| ভেড়া | ৩৩.৪৫ |
| মহিষ | ১৪.৭১ |
সালমার পরিবার ২টি গাভী ও ৪টি ছাগল পালন করে। গাভীর দুধ পরিবারের চাহিদা মেটানোর পর প্রতিবেশীদের কাছে বিক্রি করা হয় এবং গোবর জমিতে সার হিসেবে ব্যবহার হয়। সালমার মা ছাগল বিক্রির টাকা দিয়ে সংসারের খরচ চালান।
- ক)(1)
গবাদিপশু কী?
- খ)(2)
বসতবাড়ির আশেপাশে গৃহপালিত পশু পালন করা যায় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী ছাগল ও ভেড়ার মোট সংখ্যা গরু ও মহিষের মোট সংখ্যার চেয়ে কত লাখ বেশি, নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
সালমার পরিবারের মতো উদ্যোগ দেশের অর্থনীতি ও পুষ্টি পরিস্থিতিতে কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে, উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যেসব গৃহপালিত পশু দুধ, মাংস ও হালচাষের জন্য পালন করা হয়, যেমন গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, সেগুলোকে গবাদিপশু বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর গৃহপালিত পশুদের মধ্যে বেশিরভাগই হিংস্র নয়, তাই এদের মানুষের বসতবাড়ির আশেপাশে নিরাপদে লালনপালন করা যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বসতবাড়ির ভেতরেও এদের রাখা হয়। এতে পশুর নিয়মিত যত্ন নেওয়া সহজ হয় এবং পরিবারের সদস্যরা সহজেই দুধ ও মাংস পায়। অতিরিক্ত জায়গা বা আলাদা বড় খামারের প্রয়োজনও পড়ে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী,
ছাগল ও ভেড়ার মোট সংখ্যা = ২৫৭.৫৬ + ৩৩.৪৫ = ২৯১.০১ লাখ
গরু ও মহিষের মোট সংখ্যা = ২৩৭.৮৫ + ১৪.৭১ = ২৫২.৫৬ লাখ
পার্থক্য = ২৯১.০১ - ২৫২.৫৬ = ৩৮.৪৫ লাখ
অতএব, ছাগল ও ভেড়ার মোট সংখ্যা গরু ও মহিষের মোট সংখ্যার চেয়ে ৩৮.৪৫ লাখ বেশি। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে সালমার পরিবার গাভী ও ছাগল পালন করছে। এটি প্রাণিসম্পদ উপখাতের অন্তর্ভুক্ত। দেশের শতকরা ৮৩.৯ ভাগ পরিবার কোনো না কোনো প্রাণী বা পাখি পালন করে। সালমার পরিবারের মতো উদ্যোগ ব্যাপকভাবে গৃহীত হলে তা নিচের ভূমিকা রাখতে পারে।
১. পুষ্টি চাহিদা পূরণ: উদ্দীপকের পরিবারটি গাভীর দুধ নিজেরা পান করে। দুধ ও মাংস প্রাণিজ আমিষের প্রধান উৎস। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে ৯২.৮৩ লাখ মেট্রিক টন দুধ ও ৭১.৫৪ লাখ মেট্রিক টন মাংস উৎপাদিত হয়েছে, যা সুষম পুষ্টি জোগাচ্ছে।
২. আয় ও আত্মকর্মসংস্থান: সালমার পরিবার দুধ বিক্রি করছে এবং তার মা ছাগল বিক্রির টাকায় সংসার চালান। এভাবে পশু পালন গ্রামীণ পরিবারে বাড়তি আয় ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। দেশের প্রায় ২২ শতাংশ মানুষ সরাসরি এবং ৫০ শতাংশ পরোক্ষভাবে প্রাণিসম্পদ খাতের ওপর নির্ভরশীল।
৩. জমির উর্বরতা বৃদ্ধি: গোবর জমিতে জৈব সার হিসেবে ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা ও ফসলের উৎপাদন বাড়ে এবং রাসায়নিক সারের খরচ কমে।
৪. নারীর ক্ষমতায়ন: ছাগল বিক্রির টাকায় সালমার মা সংসার চালাচ্ছেন, অর্থাৎ নারী আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। এতে নারীর ক্ষমতায়ন ঘটে।
৫. জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান: ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জিডিপিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ছিল ১.৬৬%। পরিবারভিত্তিক এমন উদ্যোগ বাড়লে এ অবদান আরও বাড়বে এবং চামড়াশিল্পের মতো সংশ্লিষ্ট শিল্পের কাঁচামাল জোগান বাড়বে।
সুতরাং সালমার পরিবারের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোগ পুষ্টি উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও