জীববিজ্ঞান • জীবনীশক্তি

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

বিজ্ঞান মেলায় দশম শ্রেণির ছাত্র সাকিব দুটি থার্মোফ্লাস্ক 'ক' ও 'খ' নিয়ে একটি পরীক্ষা সাজাল। 'ক' ফ্লাস্কে কিছু সতেজ অঙ্কুরিত ছোলা এবং 'খ' ফ্লাস্কে একই পরিমাণ অঙ্কুরিত ছোলা 10% ফুটন্ত মারকিউরিক ক্লোরাইড দ্রবণে 10 মিনিট ডুবিয়ে রাখার পর নেওয়া হলো। দুটি ফ্লাস্কেই ছিদ্রযুক্ত কর্কের মধ্য দিয়ে থার্মোমিটার ঢুকিয়ে মুখ আটকে দেওয়া হলো। কয়েক ঘণ্টা পর সে দেখল একটি থার্মোমিটারের তাপমাত্রা বেড়েছে, অন্যটির অপরিবর্তিত আছে।

  1. ক)

    শ্বসনিক বস্তু কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    'খ' ফ্লাস্কের থার্মোমিটারের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকে কেন?

    (2)
  3. গ)

    কোন ফ্লাস্কের তাপমাত্রা বাড়বে এবং কেন? পরীক্ষাটির সিদ্ধান্তসহ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    পরীক্ষাটির সফলতার জন্য কী কী সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং উদ্দীপকের 'ক' ফ্লাস্কে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার কোন কোন বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ প্রভাবকের ওপর নির্ভর করবে— বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যেসব জৈব পদার্থ শ্বসনের সময় জারিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে, তাদের শ্বসনিক বস্তু বলে। যেমন: শর্করা, প্রোটিন, ফ্যাট ও জৈব এসিড।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর 'খ' ফ্লাস্কের ছোলাগুলো ফুটন্ত মারকিউরিক ক্লোরাইড দ্রবণে ডুবিয়ে রাখায় মরে গিয়ে নির্বীজ হয়ে যায়। মৃত বীজে শ্বসন প্রক্রিয়া চলে না। শ্বসন না হওয়ায় কোনো তাপশক্তি নির্গত হয় না। তাই 'খ' ফ্লাস্কের থার্মোমিটারের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর 'ক' ফ্লাস্কের থার্মোমিটারের তাপমাত্রা বাড়বে।

    কারণ: 'ক' ফ্লাস্কের অঙ্কুরিত ছোলাগুলো সজীব। সজীব কোষের সাইটোপ্লাজম ও মাইটোকন্ড্রিয়াতে ২৪ ঘণ্টাই শ্বসন চলে। শ্বসনের সময় শ্বসনিক বস্তু জারিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন হয়, যার একটি অংশ তাপরূপে মুক্ত হয়। ফ্লাস্কটি তাপ অপরিবাহী হওয়ায় এই তাপ ভেতরে জমে তাপমাত্রা বাড়ায়।

    সিদ্ধান্ত: এই পরীক্ষা প্রমাণ করে যে সজীব কোষে শ্বসনের সময় তাপ নির্গত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সতর্কতা: ১. বীজগুলো অবশ্যই সতেজ ও অঙ্কুরিত হতে হবে, নইলে শ্বসনের হার কম হবে। ২. থার্মোমিটারের পারদপূর্ণ অংশ বীজের মাঝখানে রাখতে হবে যাতে নির্গত তাপ সঠিকভাবে মাপা যায়।

    'ক' ফ্লাস্কে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার শ্বসনের হারের ওপর নির্ভর করবে। শ্বসনের প্রভাবকগুলো হলো:

    বাহ্যিক প্রভাবক:
    ১. তাপমাত্রা: 20° থেকে 45° সেলসিয়াস শ্বসনের জন্য উত্তম। 20° এর নিচে বা 45° এর উপরে শ্বসন হার কমে যায়, ফলে তাপ কম নির্গত হবে।
    ২. অক্সিজেন: ফ্লাস্কে অক্সিজেন কমে গেলে সবাত শ্বসন ব্যাহত হবে।
    ৩. পানি: পরিমিত পানি শ্বসন স্বাভাবিক রাখে; খুব কম বা বেশি পানি শ্বসন ব্যাহত করে।

    অভ্যন্তরীণ প্রভাবক:
    ১. খাদ্যদ্রব্য: কোষে শ্বসনিক বস্তুর পরিমাণ বেশি থাকলে শ্বসন হার বেশি হয়।
    ২. কোষের বয়স: অঙ্কুরিত বীজের কোষ অল্পবয়স্ক ও ভাজক প্রকৃতির, তাই এতে শ্বসন হার বেশি এবং তাপ বেশি নির্গত হয়।
    ৩. উৎসেচক: এনজাইমের ঘাটতি হলে শ্বসন কমে যায়।

    অতএব, সতেজ ও অঙ্কুরিত বীজ এবং উপযুক্ত তাপমাত্রা ও অক্সিজেন থাকলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার বেশি হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও