জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তাল গাছের মতো দেখতে একটি উদ্ভিদ ছিল, যা বিশ্বের একমাত্র বন্য গাছ হিসেবে পরিচিত ছিল। গাছটি ২০১০ সালে ফুল ও ফল উৎপাদন করে এবং ২০১২ সালে মারা যায়। মৃত্যুর আগে উৎপন্ন ফল থেকে চারা করে দেশের বিভিন্ন স্থানে লাগানো হয়েছে। অন্যদিকে কক্সবাজারের একটি বনে বাংলাদেশের বাইরে পাওয়া যায় না এমন মাঝারি আকারের একটি বৃক্ষ পাওয়া গেছে, যার কাণ্ড কাটলে রক্তবর্ণের কস বের হয়। এর পুরুষ ও স্ত্রী বৃক্ষ পৃথক, কিন্তু এখনো কোনো স্ত্রী বৃক্ষ পাওয়া যায়নি।

  1. ক)

    এন্ডেমিক উদ্ভিদ কী?

    (1)
  2. খ)

    নেপথ্য বিলুপ্তি ও গণবিলুপ্তির মধ্যে পার্থক্য কী? লিখ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রথম উদ্ভিদটিকে শনাক্ত করে এর বৈজ্ঞানিক নাম, গোত্র ও উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য লিখ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় উদ্ভিদটি সংরক্ষণের জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় এবং কেন নেওয়া প্রয়োজন? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে সীমাবদ্ধ, অন্য কোথাও পাওয়া যায় না এমন উদ্ভিদকে ওই অঞ্চলের এন্ডেমিক উদ্ভিদ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বিভিন্ন কারণে সময়ের ব্যবধানে কিছু কিছু প্রজাতি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে এমনকি পৃথিবী থেকে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়; একে নেপথ্য বিলুপ্তি বলে। অন্যদিকে হঠাৎ করে পৃথিবীব্যাপী বিপুল সংখ্যক প্রজাতি একসাথে বিলুপ্ত হওয়াকে গণবিলুপ্তি (mass extinction) বলে। গণবিলুপ্তি পৃথিবীতে পাঁচবার ঘটেছে; প্রথমটি প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন বছর আগে এবং সর্বশেষটি প্রায় ৭০-৮০ মিলিয়ন বছর আগে ক্রিটাসিয়াস যুগে ঘটেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের প্রথম উদ্ভিদটি হলো তালিপাম। এর বৈজ্ঞানিক নাম Corypha taliera Roxb. এবং এটি Arecaceae (Palmae) গোত্রের অন্তর্গত। বৈশিষ্ট্য: ১. গাছটি দেখতে প্রায় তাল গাছের মতো, তাই এর নাম তালি বা তালিপাম। ২. এটি জীবনে মাত্র একবার ফুল ও ফল উৎপাদন করে, তারপর মারা যায়। ঢাকার গাছটিও ২০১০ সালে ফুল-ফল দিয়ে ২০১২ সালে মারা যায়। ৩. এটি বৃহত্তর বাংলার এন্ডেমিক উদ্ভিদ; বাংলার বাইরে এ গাছ নেই। ৪. ঢাকার গাছটি মারা যাওয়ার পর বিশ্বে আর কোথাও বন্য অবস্থায় এর খবর জানা নেই; তাই এটি বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ। ৫. মৃত্যুর আগে উৎপন্ন ফল থেকে চারা করে বন বিভাগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে লাগানো হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের দ্বিতীয় উদ্ভিদটি ক্ষুদে বড়লা (Knema bengalensis), যা Myristicaceae গোত্রের একটি এন্ডেমিক বৃক্ষ। ১৯৫৭ সালে ডুলাহাজরা বনাঞ্চল থেকে প্রথম সংগ্রহের পর ১৯৯৯ সালে আপার রিজু বনবিটের কাছে একটি গাছ পাওয়া যায়। কেবল পুরুষ বৃক্ষ পাওয়া গেছে, স্ত্রী বৃক্ষ না পাওয়ায় বীজ উৎপাদন ও বংশবিস্তার কঠিন, ফলে এটি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে আছে। সংরক্ষণের পদক্ষেপ: ১. আপার রিজু অঞ্চলে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে স্ত্রী বৃক্ষ আবিষ্কার করতে হবে। ২. স্ত্রী বৃক্ষ পাওয়া গেলে তা থেকে বীজ সংগ্রহ করে চারা উৎপাদনের মাধ্যমে সংখ্যা বাড়াতে হবে। ৩. স্ত্রী বৃক্ষ না পাওয়া গেলে বা বীজ কম হলে টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে চারা তৈরি করতে হবে। ৪. প্রাপ্ত গাছগুলো ইন-সিটু পদ্ধতিতে বনের নিজস্ব পরিবেশে সংরক্ষণ করতে হবে এবং চারা এক্স-সিটু পদ্ধতিতে বোটানিক্যাল গার্ডেনে লাগানো যেতে পারে। ৫. এদের নিজস্ব পরিবেশ ও বংশবিস্তার প্রক্রিয়া সম্পর্কে গবেষণা করে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। প্রয়োজনীয়তা: এটি বাংলাদেশের বাইরে কোথাও নেই, একবার বিলুপ্ত হলে আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। এছাড়া এর জিন ভবিষ্যতে কৃষি বা চিকিৎসা বিজ্ঞানে কাজে লাগতে পারে এবং প্রতিটি প্রজাতি বাস্তুতন্ত্রের একটি অংশ। তাই এর সংরক্ষণ জরুরি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও