সাহিত্য পাঠ • ছবি

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

ডিসেম্বর মাসে একাদশ শ্রেণির ছাত্র তানভীর বাবার সঙ্গে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যায়। সেখানে অসংখ্য মানুষ নীরবে ফুল দিচ্ছে। বাবা তাকে বলেন, “এই দেশের প্রতিটি ধুলিকণা শহীদদের রক্তে ভেজা। তাঁদের আত্মদানের বিনিময়েই আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি।” তানভীর ভাবে, এ দেশ শুধু একটি ভূখণ্ড নয়, এ যেন বহু প্রাণের বিনিময়ে গড়া এক অমূল্য সৃষ্টি।

  1. ক)

    ‘ছবি’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?

    (1)
  2. খ)

    “শিল্প মানেই নকল নয় কি?”—কবি কেন এ কথা বলেছেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের তানভীরের ভাবনায় ‘ছবি’ কবিতার কবির কোন মনোভাব ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকে ‘ছবি’ কবিতার ভাবের আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে।”—মন্তব্যটির পক্ষে বা বিপক্ষে তোমার যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘ছবি’ কবিতাটি আবু হেনা মোস্তফা কামালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘আপন যৌবন বৈরী’ থেকে সংকলিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বহু তাত্ত্বিকের মতে সাহিত্য ও শিল্প জীবন বা ঘটনার অনুকরণ। এ অর্থেই কবি শিল্পকে ‘নকল’ বলেছেন। শিল্পীর আঁকা ছবিতে বাস্তবের প্রতিলিপি থাকে, বাস্তবতা নিজে থাকে না। কবি এর বিপরীতে বাংলাদেশ নামক ছবিটিকে অকৃত্রিম বোঝাতে চেয়েছেন, কারণ এ ছবি শহীদদের রক্ত ও আত্মদানে সত্যিকারভাবে সৃষ্টি হয়েছে। তাই শিল্পের নকলের সঙ্গে এর পার্থক্য দেখাতেই কবি প্রশ্নটি তুলেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের তানভীরের ভাবনায় ‘ছবি’ কবিতার কবির স্বদেশের প্রতি গভীর মমত্ববোধ ও শহীদদের আত্মদানের প্রতি শ্রদ্ধার মনোভাব ফুটে উঠেছে। ‘ছবি’ কবিতায় কবি স্বাধীন বাংলাদেশকে এক মহান ছবি হিসেবে কল্পনা করেছেন। তাঁর মতে ত্রিশ লক্ষ শহীদের দীর্ঘ নয় মাসের আত্মত্যাগে এই ছবি সৃষ্টি হয়েছে। উদ্দীপকে তানভীরের বাবা বলেন, এ দেশের প্রতিটি ধুলিকণা শহীদদের রক্তে ভেজা এবং তাঁদের আত্মদানের বিনিময়ে স্বাধীনতা এসেছে। তানভীরও দেশকে বহু প্রাণের বিনিময়ে গড়া অমূল্য সৃষ্টি মনে করে। কবিতার কবিও দেশকে শহীদের রক্তে সৃজিত সৃষ্টিরূপে দেখেছেন। সুতরাং শহীদদের আত্মদানে গড়া দেশের প্রতি শ্রদ্ধা ও গর্বের মনোভাব উভয় ক্ষেত্রেই প্রকাশ পেয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর “উদ্দীপকে ‘ছবি’ কবিতার ভাবের আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে”—মন্তব্যটির পক্ষে আমি যুক্তি দিচ্ছি। উদ্দীপকে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশের প্রতি শ্রদ্ধা ও গর্বের কথা আছে। স্মৃতিসৌধে মানুষের নীরব শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তানভীরের দেশকে অমূল্য সৃষ্টি ভাবা কবিতার মূল ভাবের একটি অংশের সঙ্গেই মেলে। কিন্তু কবিতাটির পরিসর আরও বিস্তৃত। কবি স্বাধীন বাংলাদেশকে ‘ছবি’ রূপকে উপস্থাপন করেছেন। তিনি পর্যটন দপ্তরের কর্মকর্তার ভঙ্গিতে বিদেশিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ডলার, স্টার্লিংয়ের বিনিময়ে পাওয়া ড্যালাস বা ক্যালিফোর্নিয়ার আয়োজনকে ‘শিশুতোষ’ বলে তিনি এ ছবির শ্রেষ্ঠত্ব বুঝিয়েছেন। ভ্যান গগের গাঢ় রঙের চেয়েও এ ছবির রঙ গাঢ়—এ কথার মাধ্যমে শিল্পের সঙ্গে তুলনা টেনেছেন। ত্রিশ লক্ষ কারিগর, নরমুণ্ডের থিম ইত্যাদি প্রতীকের ব্যবহারে এবং শ্লেষ-ব্যঞ্জনায় আত্মত্যাগের গৌরব ও বেদনা একসঙ্গে ফুটেছে। উদ্দীপকে এই রূপক, বিদ্রূপাত্মক বক্তৃতার ভঙ্গি, শিল্পের অনুকরণ-সংক্রান্ত ভাবনা বা প্রতীকের কোনো প্রকাশ নেই। তাই উদ্দীপকে কবিতার ভাব শুধু আংশিকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে—মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও