সাহিত্য পাঠ • প্রত্যাবর্তনের লজ্জা

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

গ্রামের ছেলে মাসুদ ঢাকায় এক গার্মেন্টস অফিসে চাকরি নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শহরের তাড়াহুড়া, যানজট আর কৃত্রিম সম্পর্কের মাঝে সে নিজেকে বারবার অপ্রস্তুত ও অসহায় বোধ করত। তার সহকর্মীরা সহজেই শহরের জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। শেষ পর্যন্ত চাকরি ছেড়ে সে গ্রামে ফিরে আসে। বাড়ি ফেরার পর সে বলল, ‘এতদিন মনে হতো আমি ব্যর্থ, কিন্তু এখানে এসে মনে হচ্ছে আমি আমার জায়গায় ফিরেছি।’

  1. ক)

    আল মাহমুদ কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?

    (1)
  2. খ)

    “দারুণ ভয়ের মতো ভেসে উঠবে আমাদের আটচালা।”—কেন?

    (2)
  3. গ)

    ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ নামকরণের যথার্থতা উদ্দীপকের মাসুদের ঘটনার আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “নাগরিক জীবনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারার ব্যর্থতা নয়, বরং গ্রামীণ জীবনের টানই কবিতা ও উদ্দীপক উভয়ের মূল সুর।”—বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আল মাহমুদ ২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ট্রেন হারিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফেরার কারণে কবির মনে লজ্জা ও সংকোচ কাজ করছে। বাড়ি ফিরে বাবা-মা ও ভাইবোনদের মুখোমুখি হতে হবে, এই ভাবনা তাঁকে ভীত করে তোলে। তাই যে আটচালা তাঁর পরিচিত আশ্রয়, তা-ই তাঁর কাছে তখন ভয়ের মতো মনে হয়। এখানে কবির মনের অস্থিরতা ও আত্মগ্লানি প্রকাশ পেয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ নামকরণটি কবিতার মূল ভাবকে যথার্থভাবে ধারণ করেছে, যা মাসুদের ঘটনার আলোকেও স্পষ্ট হয়।

    কবিতায় কবি শেষ ট্রেন ধরতে না পারায় শহরে যেতে ব্যর্থ হয়ে ঘরে ফিরতে বাধ্য হন। এই ফিরে আসাকে তিনি লজ্জার সঙ্গে যুক্ত করেছেন, কারণ তাঁর ভাইবোনরা সবসময় সফলভাবে গন্তব্যে পৌঁছায়। কিন্তু শেষে মায়ের স্নেহে সেই লজ্জা মুছে যায়।

    উদ্দীপকে মাসুদ শহরের জীবনে খাপ খাওয়াতে না পেরে গ্রামে ফিরে এসেছে। প্রথমে সে নিজেকে ব্যর্থ মনে করলেও বাড়ি ফিরে স্বস্তি পেয়েছে। কবিতার কবির মতো তারও ফেরার সঙ্গে ব্যর্থতার অনুভূতি জড়িত, আবার ঘরে ফেরার মধ্যেই আশ্রয় রয়েছে। ফেরা ও তার সঙ্গে জড়িত লজ্জাবোধ এই দুটি বিষয়ই কবিতার কেন্দ্রে থাকায় নামকরণ যথার্থ হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। কবিতা ও উদ্দীপক উভয়ে নাগরিক জীবনে অসফলতার অনুভূতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত গ্রামীণ জীবনের প্রতি গভীর টানই মূল সুর হয়ে উঠেছে।

    কবিতায় কবি শহরে যাবার শেষ ট্রেন হারিয়ে পরাজিতের মতো বাড়ি ফেরেন। তাঁর ভাইবোনেরা যেখানে সহজেই শহরযাত্রার জন্য প্রস্তুত, সেখানে তিনি অগোছালো ও পিছিয়ে। এটি শহরমুখী জীবনযাত্রায় খাপ খাওয়াতে না পারার ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু ফেরার পথে পরিচিত নদী, গ্রাম, বক, আটচালা ও কলাবাগান এবং বাবা-মায়ের স্নেহ তাঁকে স্বস্তি দেয়। মাকে জড়িয়ে ধরে তিনি লজ্জা মুছে ফেলেন, অর্থাৎ গ্রামীণ জীবন ও মাতৃতুল্য প্রকৃতিই তাঁর প্রকৃত আশ্রয়।

    উদ্দীপকের মাসুদও শহরের তাড়াহুড়া ও কৃত্রিমতায় অস্বস্তি বোধ করে এবং সহকর্মীদের মতো মানিয়ে নিতে পারে না। কিন্তু গ্রামে ফিরে সে বলে, ‘আমি আমার জায়গায় ফিরেছি।’ এতে বোঝা যায়, তার ব্যর্থতাবোধ শেষে শিকড়ের প্রতি টানে রূপ নিয়েছে।

    এভাবে উভয় ক্ষেত্রে ব্যর্থতার অনুভূতি প্রাথমিক হলেও শেষ পর্যন্ত গ্রামীণ জীবন ও শেকড়ে ফেরার শান্তিই মূল সুর হিসেবে ফুটে উঠেছে। তাই উক্তিটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও