ভূগোল ১ম পত্র • বারিমণ্ডল

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

রাফি একটি ছকে সমুদ্রের তলদেশের তিনটি গভীর অংশের তথ্য সংগ্রহ করেছে:

খাতঅবস্থানগভীরতা (কি.মি.)দৈর্ঘ্য (কি.মি.)
মারিয়ানাপ্রশান্ত মহাসাগর১১.০২২৫০
জাভাভারত মহাসাগর৭.৫৪৫০০
পোর্টারিকোআটলান্টিক মহাসাগর৮.৪১৫৫০

সে আরও জানতে পারল, পৃথিবীর অধিকাংশ এ ধরনের গভীর খাত একটি নির্দিষ্ট মহাসাগরেই কেন্দ্রীভূত।

  1. ক)

    সামুদ্রিক খাত কী?

    (1)
  2. খ)

    সামুদ্রিক ক্যানিয়ন কীভাবে সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের গভীরতম খাতটি যে মহাসাগরে অবস্থিত তার বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের তথ্য ও পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো, কেন সামুদ্রিক খাতের অধিকাংশই একটি নির্দিষ্ট মহাসাগরে অবস্থিত।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সমুদ্রের তলদেশের সবচেয়ে গভীরতম অংশ, যা সংকীর্ণ ও অত্যন্ত ঢালযুক্ত এবং গভীর সমুদ্রের সমভূমির প্রান্তে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, তাকে সামুদ্রিক খাত (Trench) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মহীপ্রান্ত অনেক স্থানে বিরাট আকারের গিরিখাত দ্বারা কর্তিত, যাকে সামুদ্রিক ক্যানিয়ন বলে। অনেকের মতে কর্দমযুক্ত ঘোলা পানির স্রোত বা টারবিডিটি স্রোতের (turbidity currents) দ্বারা এগুলো কর্তিত হয়ে সৃষ্টি হয়েছে। এ স্রোত ঘন কর্দম ও পলিমিশ্রিত পানির স্রোত, যা তলদেশের ঢাল বেয়ে নিচের দিকে প্রবাহিত হয়ে ক্ষয়সাধন করে। আবার কেউ কেউ হিমবাহ যুগে সমুদ্র সমতলের উত্থান-পতনের সাথেও এর সৃষ্টিকে সম্পৃক্ত করেন। গঙ্গা, হাডসন, কলম্বিয়া ও সিন্ধু প্রভৃতি নদীর মোহনায় এমন ক্যানিয়ন দেখা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের গভীরতম খাতটি মারিয়ানা (১১.০ কি.মি.), যা প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত। প্রশান্ত মহাসাগরের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: ১. আয়তন ও গভীরতায় এটি পাঁচটি মহাসাগরের মধ্যে সর্ববৃহৎ। এর গড় গভীরতা ৪,২৮০ মিটার। ২. এখানে অনেকগুলো গভীর গিরিখাত রয়েছে, যার গভীরতা গড়ে প্রায় ১১,০০০ মিটার। ৩. এর উপকূলভাগ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্প অধ্যুষিত এবং সক্রিয় পর্বত গঠনকারী অঞ্চল। উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের গোলাকৃতি উপকূলে অনেক আগ্নেয়গিরি থাকায় একে 'আগ্নেয় মেখলা' (Ring of Fire) বলে। ৪. তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক নদী এ মহাসাগরে পতিত হয়, ফলে মহাদেশের প্রভাব কম। ৫. এর দক্ষিণ ও পশ্চিম প্রান্তে অসংখ্য দ্বীপ ও দ্বীপপুঞ্জ রয়েছে, যার অধিকাংশ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী তিনটি মহাসাগরের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা খাত সর্বাধিক গভীর (১১.০ কি.মি.)। এটি জাভা খাতের (ভারত মহাসাগর) চেয়ে 11.0−7.5=3.511.0 - 7.5 = 3.5 কি.মি. এবং পোর্টারিকো খাতের (আটলান্টিক মহাসাগর) চেয়ে 11.0−8.4=2.611.0 - 8.4 = 2.6 কি.মি. বেশি গভীর। পাঠ্যবই অনুযায়ী অধিকাংশ সামুদ্রিক খাত প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত; আটলান্টিকে মাত্র দুটি ও ভারত মহাসাগরে একটি রয়েছে। এর কারণ বিশ্লেষণ: ১. প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূল ও এর পশ্চিম প্রান্ত সক্রিয় পর্বত গঠনকারী অঞ্চল। এখানে মহাদেশ-মহাসাগর সীমানায় ঘন ঘন ভূআন্দোলন, ভূমিকম্প ও আগ্নেয়োৎপাত ঘটে। ২. এ অঞ্চলে বক্রাকারে সজ্জিত দ্বীপবলয় ও তার ভেতরের দিকের আগ্নেয়গিরিগুলো গভীর খাতের সাথে সম্পৃক্ত। দ্বীপবলয় প্রশান্ত মহাসাগরে সবচেয়ে বেশি, আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগরে কম। ৩. প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে দশ হাজারেরও বেশি আগ্নেয়গিরি রয়েছে, যার অধিকাংশ ক্রিয়া সমুদ্রখাতের প্রান্তের নিকটে সংঘটিত হয়। ৪. ফলে এই মহাসাগরে সংকীর্ণ ও অত্যন্ত ঢালযুক্ত গভীর খাতগুলো গড়ে উঠেছে, যার অনেকটি প্রায় ১১,০০০ মিটার গভীর। সুতরাং ভূগাঠনিক সক্রিয়তা ও আগ্নেয় কার্যকলাপের আধিক্যের কারণেই প্রশান্ত মহাসাগরে সামুদ্রিক খাতের সংখ্যা ও গভীরতা সবচেয়ে বেশি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও