সাহিত্য পাঠ • মৌসুম
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
টানা তিন মাস খরার পর আষাঢ়ের প্রথম দিনেই বৃষ্টি নামল। রহিম মিয়ার ঘরে চাল নেই, তবু সে মাঠে নেমে গান ধরল। সামনের ভাদ্র মাসে ফসল উঠবে—এই আশায় সে ধার করে বীজ কিনে এনে জমিতে বুনল। প্রতিবেশী বুড়ো আজমল বলল, ‘ফুর্তি পরে করিস, ঘরে ধান না থাকলে বর্ষার পর দাম চড়লে খাবি কী?’ রহিম হেসে বলল, ‘আগে ফসল তো হোক।’
- ক)(1)
‘খন্দ’ শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
ঘরে খাদ্য না থাকা সত্ত্বেও গল্পের কৃষকেরা আনন্দে মেতে ওঠে কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের রহিমের পরিস্থিতির আলোকে ‘মৌসুম’ গল্পে সখানাথের “মাথায় মৌসুমের দুশ্চিন্তা”-র কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“‘মৌসুম’ গল্পের নামকরণ কৃষক ও জমিদার—উভয় পক্ষের দিক থেকে অর্থবহ।”—উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘খন্দ’ শব্দের অর্থ ফসল বা শস্য; ফসলের মৌসুমও বোঝায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘মৌসুম’ গল্পে দীর্ঘ খরার পর বৃষ্টি নামলে কৃষকদের বুকে আশা জাগে। তারা বুঝতে পারে জমিতে নতুন ফসল ফলানো যাবে এবং ভাদ্রইয়া ফসল ঘরে উঠবে। তাদের ঘরে ধান-চাল নেই, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, তবু ফসলের স্বপ্ন তাদের কাছে বেঁচে থাকার ভরসা। নতুন মৌসুম পাওয়ার এই আনন্দে তাই তারা দুশ্চিন্তা ভুলে গান গেয়ে হাল চাষে নামে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘মৌসুম’ গল্পে সখানাথের মৌসুমের দুশ্চিন্তার কারণ হলো সময়মতো বৃষ্টি ও ফসলের ওপর তার এবং অন্যান্য কৃষকদের টিকে থাকার নির্ভরতা।
উদ্দীপকে রহিম মিয়ার ঘরে চাল নেই। সে ধার করে বীজ কিনে জমিতে বুনেছে, আর তার আশা ভাদ্র মাসের ফসলে। প্রতিবেশী আজমল তাকে মনে করিয়ে দেয় যে ঘরে ধান না থাকলে বর্ষার পর দাম বাড়লে কষ্ট হবে। গল্পের সখানাথদেরও একই অবস্থা। গত খন্দ ভালো হয়নি, চালের দর ত্রিশ টাকা, ঘরে কেউ ধান-চাল রাখেনি। বৃষ্টি না এলে ভাদ্রইয়া ফসল পাওয়া যাবে না—এ কথা সখানাথ জমিদার-কন্যাকে বলেছিল। বৃষ্টি এলেও ফসল ওঠা পর্যন্ত খাওয়ার ব্যবস্থা কী হবে, সেই ভাবনায় সবাই অস্থির। রহিমের মতোই সখানাথের দুশ্চিন্তা তাই বর্ষার ওপর ফসল, ফসলের ওপর জীবন নির্ভর করার অনিশ্চয়তা থেকে জন্ম নিয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর “‘মৌসুম’ গল্পের নামকরণ কৃষক ও জমিদার—উভয় পক্ষের দিক থেকে অর্থবহ”—মন্তব্যটি যথার্থ।
‘মৌসুম’ শব্দের আভিধানিক অর্থ ঋতু, বিশেষত বর্ষা ঋতু। কিন্তু গল্পে শব্দটি প্রতীকী অর্থেও ব্যবহৃত হয়েছে। খরার পর বর্ষার আগমন কৃষকের কাছে নতুন ফসল, নতুন জীবন ও নবচেতনার সম্ভাবনা। উদ্দীপকে রহিম মিয়া বৃষ্টি নামতেই ফসলের আশায় গান ধরে ও ধার করে বীজ বোনে। গল্পের সখানাথও শেষে প্রার্থনা করে, ‘আরও তীব্র মৌসুম এনে দাও ভগবান… আমাদের তৈরি ক্ষেতে আরও জাগুক নবজীবনতেজা অঙ্কুর।’ সেখানে মৌসুম কৃষকের জাগরণ ও মুক্তির আশার প্রতীক।
জমিদার দ্বারিকানাথের কাছেও মৌসুম আসে, কিন্তু ভিন্ন অর্থে। তিনি জানেন বর্ষা নামলে আকাল আসবে, তাঁর মজুত চালের দাম বাড়বে এবং প্রজারা তাঁর দুয়ারে মাথা কুটবে। তাই তিনি মনে মনে বলেন, ‘আমারও মৌসুম সমাগত।’ এখানে মৌসুম তাঁর শোষণ ও প্রতিশোধের সুযোগ। উদ্দীপকের আজমলের সতর্কবাণীর মধ্যেও আছে—বর্ষার পর দাম বাড়লে ঘরে ধান না থাকলে গরিব মানুষ বিপদে পড়বে; অর্থাৎ একই সময় একপক্ষের আশা, অন্যপক্ষের সুযোগ।
এভাবে একই মৌসুম দুই শ্রেণির কাছে দুই রকম তাৎপর্য নিয়ে আসে বলে নামটি ব্যঞ্জনাময় ও অর্থবহ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও