ভূগোল ২য় পত্র • পরিবহন ও যোগাযোগ
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের সারণিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের দুই অর্থবছরের তথ্য দেওয়া হলো:
| অর্থবছর | যাত্রী পরিবহন (মিলিয়ন কিমি) | রাজস্ব আয় (কোটি টাকা) | রাজস্ব ব্যয় (কোটি টাকা) |
|---|---|---|---|
| ২০১২-২০১৩ | ৮২৫৩.০০ | ৮০৪.২৬ | ১৫৬২.৩৮ |
| ২০১৭-২০১৮ | ১২৯৯৩.৯১ | ১৪৮৬.১০ | ২৯১৮.০২ |
একজন গবেষক লক্ষ করলেন, যাত্রী পরিবহন অনেক বাড়লেও রেলওয়ের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। তিনি জানতে পারলেন, অনেক যাত্রী টিকিট না কেটে ভ্রমণ করে এবং রেললাইনের সরঞ্জাম প্রায়ই চুরি হয়।
- ক)(1)
Interlocking কী?
- খ)(2)
বিনা টিকিটে ভ্রমণ রেলের জন্য ক্ষতিকর কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সারণি থেকে দুই অর্থবছরের রাজস্ব ঘাটতি নির্ণয় করো এবং ঘাটতি বৃদ্ধির পরিমাণ উল্লেখ করো।
- ঘ)(4)
যাত্রী পরিবহন বৃদ্ধি সত্ত্বেও উদ্দীপকের রেলওয়ে লোকসানে থাকার কারণ ও তা থেকে উত্তরণের উপায় বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রেলওয়ের সিগনালিং সিস্টেম নিয়ন্ত্রণকে Interlocking বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যাত্রীদের টিকিট কাটা বাবদ প্রাপ্ত অর্থ রেলের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। যাত্রীরা যদি টিকিট না কেটে ভ্রমণ করে বা এক স্টেশনের টিকিট কেটে পরবর্তী স্টেশনে নামে, তাহলে রেল তার প্রাপ্য রাজস্ব পায় না। এতে রেলের আয় কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছায় না এবং প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এটি মানুষের নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতিফলনও বটে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রাজস্ব ঘাটতি = রাজস্ব ব্যয় - রাজস্ব আয়। ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে ঘাটতি = ১৫৬২.৩৮ - ৮০৪.২৬ = ৭৫৮.১২ কোটি টাকা। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ঘাটতি = ২৯১৮.০২ - ১৪৮৬.১০ = ১৪৩১.৯২ কোটি টাকা। ঘাটতি বৃদ্ধির পরিমাণ = ১৪৩১.৯২ - ৭৫৮.১২ = ৬৭৩.৮০ কোটি টাকা। সুতরাং পাঁচ বছরে রেলওয়ের রাজস্ব ঘাটতি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, অর্থাৎ ব্যয়ের তুলনায় আয় পর্যাপ্তভাবে বাড়েনি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে দেখা যায়, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যাত্রী পরিবহন ৮২৫৩ থেকে বেড়ে প্রায় ১২৯৯৪ মিলিয়ন কিমি হলেও ব্যয় আয়ের প্রায় দ্বিগুণ রয়ে গেছে। এই লোকসানের কারণ ও সমাধান নিচে বিশ্লেষণ করা হলো। কারণ: ১. বিনা টিকিটে ভ্রমণের কারণে যাত্রী বাড়লেও সেই অনুপাতে আয় বাড়ে না। ২. রেলগাড়ি, লাইন ও ওয়ার্কশপ থেকে যন্ত্রপাতি, তেল, স্লিপার ইত্যাদি চুরি হওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনঃক্রয়ের ব্যয় বাড়ে। ৩. পুরনো ট্র্যাক, ইঞ্জিন ও বগির অভাব এবং অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে পরিচালন ব্যয় বেশি হয়। উত্তরণের উপায়: ১. টিকিট পরীক্ষা কঠোর করে বিনা টিকিটে ভ্রমণ রোধ করতে হবে। ২. পর্যাপ্ত রেলপুলিশ নিয়োগ ও অপরাধীদের শাস্তির মাধ্যমে চুরি-ডাকাতি বন্ধ করতে হবে। ৩. সুষ্ঠু পরিকল্পনা, দক্ষ কর্মী নিয়োগ ও যন্ত্রপাতির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। ৪. প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিয়ে আধুনিক ইঞ্জিন, বগি ও সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করে যাত্রীসেবা উন্নত করতে হবে। এসব পদক্ষেপ নিলে ব্যয় কমবে, আয় বাড়বে এবং রেলওয়ে ঘাটতি কাটিয়ে লাভজনক খাতে পরিণত হতে পারবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও