‍ইতিহাস ২য় পত্র • শিল্পবিপ্লব

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

নিচের সারণিতে ‘খ’ দেশের শিল্পায়নের পূর্বাপর কিছু তথ্য দেওয়া হলো।

বিষয়শুরুর বছরপরবর্তী সময়
পিগ লোহার উৎপাদন (টন)৬৮,০০০১৩,৪৭,০০০
কৃষিতে নিয়োজিত জনসংখ্যা৭৭%২৮%

এই সময়ে দেশটির কয়লা উৎপাদনও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। তবে কৃষিখাতে শ্রমিকের অভাব দেখা দেয় এবং জাতীয় আয়ে কৃষির অবদান কমে আসে।

  1. ক)

    ১৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটেনে পিগ লোহার উৎপাদন কত টন ছিল?

    (1)
  2. খ)

    শিল্পবিপ্লবের ফলে ব্রিটেনের কৃষিতে শ্রমিক সমস্যা দেখা দেয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সারণি অনুযায়ী পিগ লোহার উৎপাদন শুরুর বছরের তুলনায় কত গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শতকরা কত বৃদ্ধি পেয়েছে? হিসাব করে দেখাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে শিল্পবিপ্লব-পরবর্তী ব্রিটেনের অর্থনীতিতে সৃষ্ট পরিবর্তনের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটেনে পিগ লোহার উৎপাদন ছিল ৬৮,০০০ টন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শিল্পবিপ্লবের ফলে শিল্পখাত বর্ধিত জনসংখ্যার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে থাকে। ফলে গ্রামের কৃষি-জনসংখ্যা কাজের আশায় শহর ও শিল্পাঞ্চলে ভিড় করে। এতে কৃষিতে শ্রমিকের সংখ্যা কমে যায় এবং শ্রমিক সমস্যা দেখা দেয়। ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটেনে কৃষিতে ৭৭% লোক নিয়োজিত ছিল, যা ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে ২৮%-এ নেমে আসে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শুরুর বছরে পিগ লোহার উৎপাদন ছিল ৬৮,০০০ টন এবং পরবর্তী সময়ে ১৩,৪৭,০০০ টন। মোট বৃদ্ধি = ১৩,৪৭,০০০ - ৬৮,০০০ = ১২,৭৯,০০০ টন। কত গুণ হয়েছে = ১৩,৪৭,০০০ ÷ ৬৮,০০০ ≈ ১৯.৮১ গুণ, অর্থাৎ প্রায় ২০ গুণ। শতকরা বৃদ্ধি = (১২,৭৯,০০০ ÷ ৬৮,০০০) × ১০০ ≈ ১৮৮১%। সুতরাং পিগ লোহার উৎপাদন প্রায় ১৯.৮১ গুণ বা প্রায় ১৮৮১% বৃদ্ধি পেয়েছে। এই উৎপাদন বৃদ্ধি ব্রিটেনে ১৭৮৮ থেকে ১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দের শিল্পবিপ্লবকালীন লৌহশিল্পের দ্রুত অগ্রগতিকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের তথ্য শিল্পবিপ্লব-পরবর্তী ব্রিটেনের অর্থনীতিতে সৃষ্ট দ্বিমুখী পরিবর্তনকে তুলে ধরে। ইতিবাচক দিক: ১. উৎপাদন বৃদ্ধি: পিগ লোহার উৎপাদন ৬৮,০০০ টন থেকে ১৩,৪৭,০০০ টনে উন্নীত হয় এবং প্রায় চল্লিশ বছরে কয়লা উৎপাদন দশ গুণ বাড়ে। ২. বস্ত্রশিল্পের প্রসার: কাঁচা তুলা আমদানি সাড়ে এগার গুণ বেড়ে বস্ত্রশিল্পের উৎপাদনক্ষমতা বাড়ায়। ৩. আধুনিক অর্থনীতির জন্ম: আর. টি. গিলের মতে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধে ইংল্যান্ডেই আধুনিক অর্থনীতির জন্ম হয়। অধ্যাপক হফম্যানের মতে শিল্প উৎপাদন ৯০ বছরে ৭০ গুণের বেশি বৃদ্ধি পায়। নেতিবাচক দিক: ১. কৃষির অবনতি: কৃষিতে নিয়োজিত জনসংখ্যা ৭৭% থেকে ২৮%-এ নেমে আসায় কৃষিতে শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। ২. জাতীয় আয়ে কৃষির ভূমিকা হ্রাস: শিল্পের সম্প্রসারণের জন্য কৃষির উন্নয়ন ব্যাহত হয়। মূল্যায়ন: স্বল্পমেয়াদে কৃষির অবনতি সমস্যা সৃষ্টি করলেও শিল্প, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের বিপুল প্রসার ব্রিটেনকে প্রথম শিল্পোন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করে। তাই সামগ্রিকভাবে পরিবর্তনটি ব্রিটেনের জন্য ইতিবাচক ছিল, যদিও কৃষিখাতের ভারসাম্য রক্ষায় সতর্কতার প্রয়োজন ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও