সাহিত্য পাঠ • গন্তব্য কাবুল
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
শরতের শেষরাতে ঘুম ভেঙে গেল সাবিহার। জানালার বাইরে শিউলি গাছ থেকে ফুল ঝরছে, তার মৃদু সুবাসে ঘর ভরে গেছে। দূরে নদীর ধার থেকে ভেসে আসছে মাঝির ভাটিয়ালি গান। সুরের সঙ্গে ফুলের গন্ধ মিলে এমন এক অনুভূতি তৈরি হলো যে সাবিহা অনেকক্ষণ চুপ করে শুয়ে রইল। সে বুঝতে পারল না, কোনটা বেশি সুন্দর, সুর নাকি সৌরভ।
- ক)(1)
লেখক ডাকবাংলায় কীসে শুয়ে পড়লেন?
- খ)(2)
নালার উজানে দিনের বেলায় বাঁধ দিয়ে জল বন্ধ করা হয়েছিল কেন?
- গ)(3)
ডাকবাংলায় শেষরাতে লেখক যে দৃশ্য ও অনুভূতির সম্মুখীন হয়েছিলেন, রচনা অবলম্বনে তা বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
“সৌন্দর্যবোধে সীমান্তের ভেদ নেই।”- উদ্দীপকের সাবিহার অনুভূতির সঙ্গে রচনার লেখকের অনুভূতির তুলনা করে মন্তব্যটির যথার্থতা দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর লেখক ডাকবাংলায় চারপাই আনিয়ে তাতে শুয়ে পড়লেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর লেখক দেখেন, দিনের বেলা যে নালা শুকনো ছিল, ভোরে সেটি জলে ভরে দুই কূল ছাপিয়ে নারগিসের পা ধুয়ে দিয়ে ছুটে চলেছে। এর কারণ হলো, নালার উজানে দিনের বেলায় বাঁধ দিয়ে জল আটকে রাখা হয়েছিল, কারণ জলের ভাগ-বাটোয়ারার একটি নিয়ম ছিল। ভোরের আজানের সময় নালার বাগানের পালা পড়ে, তাই তখনই বাঁধ খুলে দেওয়া হয়। এভাবেই নারগিস বাগান জল পেয়ে সতেজ হয়ে উঠেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ডাকবাংলায় চারপাইয়ে শুয়ে থাকা লেখকের ঘুম ভাঙে শেষরাতে এক অপূর্ব মাধুরীর মাঝখানে। নিতান্ত কানের কাছে জলের কুলকুল শব্দ আর সর্বাঙ্গ জড়িয়ে ধরা এক অজানা সৌরভ, যেন কোনো সুন্দরীর মধুর নিঃশ্বাস।
আধা আলো-অন্ধকারে তিনি দেখেন, দিনের শুকনো নালা জলে ভরে উঠে দুই কূল ছাপিয়ে নারগিসের পা ধুয়ে দিয়ে ছুটে চলেছে। সেই জলের স্পর্শে নারগিস যেন নয়ন মেলে তাকিয়েছে। এভাবে জলের গান আর ফুলের সৌরভ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। আর চিনার গাছ মাথা তুলে প্রভাতসূর্যের প্রথম রশ্মির জন্য অপেক্ষা করছে, দেখতে দেখতে সে সোনার মুকুট পরে নেয়।
লেখক এই সংগীত বহুবার শুনেছেন, কিন্তু তার সঙ্গে এমন সৌরভ-সোহাগ জীবনে আর কখনো পাননি। এই অভিজ্ঞতায় তাঁর মন মুগ্ধ ও পরিতৃপ্ত হয়েছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সাবিহা ও ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনার লেখক ভিন্ন ভিন্ন স্থান ও পরিবেশে একইরকম সৌন্দর্যের অনুভূতি লাভ করেছেন, তাই মন্তব্যটি যথার্থ।
সাবিহা বাংলার শরতের শেষরাতে শিউলির সুবাস ও ভাটিয়ালির সুর একসঙ্গে অনুভব করে মুগ্ধ হয়েছে। লেখকও আফগানিস্তানের এক ডাকবাংলায় নারগিসের সৌরভ আর নালার জলের কুলকুল ধ্বনির মিলনে বিস্মিত হয়েছেন। দুজনের অনুভূতির মূলে আছে সুর ও সৌরভের সম্মিলিত আবেদন।
তবে পার্থক্যও আছে। সাবিহার অভিজ্ঞতা নিজের দেশের পরিচিত পরিবেশের। লেখকের অভিজ্ঞতা বিদেশের, যেখানে তিনি আগের দিনের সরাইয়ের অস্বস্তিকর পরিবেশ পার হয়ে এসেছেন। তাই তাঁর কাছে এই সৌরভ ও সংগীত আরও গভীরভাবে এসেছে। লেখক নিজেই তুলনা করেছেন, যমুনার কুলকুল শব্দ আর শিউলির সৌরভ আলাদাভাবে তিনি আগে পেয়েছেন, কিন্তু এমন মিলিত রূপ আর পাননি। অর্থাৎ নিজের দেশের সৌন্দর্যের স্মৃতি দিয়েই তিনি বিদেশের সৌন্দর্যকে বুঝেছেন।
এই সাদৃশ্য প্রমাণ করে, প্রকৃতির সৌন্দর্য মানুষকে দেশ-কালের সীমা পেরিয়ে একই আনন্দে মুগ্ধ করে। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও