সাহিত্য পাঠ • প্রত্যাবর্তনের লজ্জা
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
শিমুল ও তার ছোট বোন তানিয়া একই কলেজে পড়ে। বিজ্ঞান মেলায় অংশ নিতে সকাল সাতটায় সবাইকে কলেজে পৌঁছাতে হবে। তানিয়া আগের রাতেই সব প্রস্তুত করে রাখে এবং সবার আগে কলেজে হাজির হয়। শিমুল সকালে ঘুম থেকে উঠে দেরি করে বের হয় এবং কলেজে পৌঁছে দেখে দলের সবাই তাদের প্রদর্শনী শুরু করে দিয়েছে। বন্ধুরা তাকে দেখে হাত নেড়ে ডাকলেও সে লজ্জায় মাথা নিচু করে এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকে।
- ক)(1)
কবির ভাইবোনদের মধ্যে কে কোথাও যাওয়ার কথা থাকলে আনন্দে ভাত পর্যন্ত খেতে পারে না?
- খ)(2)
“আমার ঘুম পেলো।”—কবির ঘুম পাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের তানিয়া ও শিমুলের মধ্যে কবির ভাইবোন এবং কবির কোন কোন বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ট্রেন হারানোর পর থেকে ঘরে ফিরে মাকে জড়িয়ে ধরা পর্যন্ত কবির মনোভাবের যে পরিবর্তন ঘটেছে, তা ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো। উদ্দীপকের শিমুলের মনোভাবের সঙ্গে তার পার্থক্যও দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবির ভাইবোনদের মধ্যে নাহারা কোথাও যাওয়ার কথা থাকলে আনন্দে ভাত পর্যন্ত খেতে পারে না।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শেষ ট্রেন ধরতে না পারার পর কবির মনে গভীর হতাশা ও অবসাদ নেমে আসে। সাত মাইল হেঁটে স্টেশনে পৌঁছেও গাড়ি না পাওয়ায় তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। যাদের সঙ্গে যাওয়ার কথা ছিল, তারা চলে গেছে। কিছু করার না থাকায় এই হতাশা ও ক্লান্তি থেকেই তাঁর ঘুম পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের তানিয়ার মধ্যে কবির ভাইবোনের সময়সচেতন ও সতর্ক প্রস্তুতির দিকটি এবং শিমুলের মধ্যে কবির অগোছালো ও দেরি করে পৌঁছানোর দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবি জানিয়েছেন, জাহানারা কোনোদিন ট্রেন ফেল করে না, ফরহাদ আধ ঘণ্টা আগেই স্টেশনে পৌঁছে যায়, লাইলী আগেই টিকিট কিনতে পাঠায় এবং নাহারা যাওয়ার আনন্দে ভাত খেতে পারে না। অর্থাৎ তারা সবাই সময়ের ব্যাপারে সতর্ক। তানিয়াও আগের রাতে প্রস্তুতি নিয়ে সবার আগে কলেজে হাজির হয়।
অন্যদিকে কবি গোছাতে গোছাতেই সময় হারিয়ে ট্রেন ফেল করেন। শিমুলও দেরি করে বের হয়ে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেনি। ফলে কবি ও শিমুল উভয়ের মধ্যেই লজ্জাবোধ কাজ করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় ট্রেন হারানোর পর থেকে ঘরে ফেরা পর্যন্ত কবির মনোভাবের ধাপে ধাপে পরিবর্তন ঘটেছে।
প্রথমে স্টেশনে পৌঁছে নীল আলোর সংকেত ও ছেড়ে যাওয়া গাড়ি দেখে কবি হতাশ হন। সহযাত্রীদের উৎকণ্ঠিত মুখ ও সান্ত্বনা তাঁকে আরও বিব্রত করে। তাঁর মনে পড়ে ভাইবোনদের সতর্ক প্রস্তুতির কথা। সেই তুলনায় নিজের ব্যর্থতা তাঁকে গভীর অবসাদে ডুবিয়ে দেয়, যা ‘নিঃস্বপ্ন নিদ্রায় নিহত’ হওয়ার চিত্রে ধরা পড়েছে।
এরপর কবি কল্পনা করেন কুয়াশা ও শিশিরের মধ্য দিয়ে ঘরে ফেরার কথা। সূর্য ওঠাকে তিনি ‘নির্লজ্জ’ এবং নিজের অবস্থাকে ‘পরাজিতের’ মতো মনে করেন। আটচালা ‘দারুণ ভয়ের মতো’ ভেসে ওঠে, অর্থাৎ ফিরে এসে সবার সামনে দাঁড়ানোর ভয় ও লজ্জা এখানে চরমে পৌঁছায়।
কিন্তু তিনি কল্পনা করেন, আব্বা একবার তাকিয়ে দেখে নিজের পাঠে মন দেবেন, আর আম্মা হেসে বলবেন, ‘ভালোই হলো তোর ফিরে আসা।’ মায়ের এই স্নেহে কবির ভয় কেটে যায় এবং তিনি মাকে জড়িয়ে ধরে লজ্জা মুছে ফেলেন। অর্থাৎ হতাশা ও ভয় থেকে কবি শেষে স্বস্তি ও নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে পৌঁছান।
উদ্দীপকের শিমুলও দেরি করে পৌঁছে লজ্জায় মাথা নিচু করে কোণে দাঁড়িয়ে থাকে। হতাশা ও লজ্জার প্রথম ধাপে সে কবির সঙ্গে মেলে। কিন্তু বন্ধুদের ডাক সত্ত্বেও তার লজ্জা কাটানোর মতো কোনো স্নেহময় আশ্রয়ের উল্লেখ নেই, ফলে কবির মতো সে স্বস্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। এখানেই কবি ও শিমুলের মনোভাবের পার্থক্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও