ভূগোল ১ম পত্র • জীবমণ্ডল

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

রিমা একটি তথ্যচিত্রে দেখল, একটি পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে ঘেরা দ্বীপে হাজারো প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী বাস করে। অথচ কাছাকাছি একটি শুষ্ক ও ছোট অঞ্চলে হাতে গোনা কয়েকটি প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী দেখা যায়। দ্বীপের একটি বিশেষ প্রজাতির ব্যাঙ পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। বনাঞ্চল কেটে ফেলার কারণে ব্যাঙটি এখন বিলুপ্তির পথে।

  1. ক)

    জীববৈচিত্র্য কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মানবজীবনে জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দুটি অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যে ভিন্নতার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ব্যাঙটিকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন — যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পৃথিবীর নির্দিষ্ট অঞ্চলে বিভিন্ন প্রকার জীবের বৈচিত্র্যময় জীবন ব্যবস্থাকেই জীববৈচিত্র্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মানুষ বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী থেকে খাদ্য, বস্ত্র, ওষুধ, জ্বালানি ও বাসস্থান তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহ করে। বিভিন্ন ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া মৃত জীবদেহ পচিয়ে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। এছাড়া মানুষের অর্থনীতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জীববৈচিত্র্যের ওপর নির্ভরশীল। তাই মানবজীবনে জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব অনেক বেশি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে দ্বীপে প্রজাতির প্রাচুর্য থাকলেও শুষ্ক অঞ্চলে প্রজাতির সংখ্যা খুব কম। এটি জীববৈচিত্র্যের স্থানিক ভিন্নতা। এর কারণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: ১. ভৌগোলিক অবস্থা: পর্বত, উপদ্বীপ, দ্বীপ ও উঁচুভূমি ইত্যাদি অবস্থানভেদে উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রজাতি ভিন্ন হয়। পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে ঘেরা দ্বীপে জীবের বসবাস ও খাদ্যের সুযোগ বেশি। ২. সীমানা ও আয়তন: কোনো অঞ্চলের ভৌগোলিক সীমা ও আয়তন সেখানকার প্রজাতির সংখ্যাকে প্রভাবিত করে। বড় ও বৈচিত্র্যময় আবাসস্থলে বেশি প্রজাতি টিকে থাকতে পারে। ৩. জলবায়ু: জলবায়ুই স্থানিক ভিন্নতার মূল কারণ। আর্দ্র ও পরিমিত তাপমাত্রার অঞ্চলে উদ্ভিদ ও প্রাণী সমৃদ্ধ হয়, আর শুষ্ক অঞ্চলে প্রতিকূল জলবায়ুর কারণে খুব অল্প প্রজাতি অভিযোজিত হতে পারে। এছাড়া পরিবেশগত ও বংশগত ভিন্নতার কারণেও প্রজাতির বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়। এসব কারণেই দুই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ভিন্ন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যাঙটি একটি আঞ্চলিক প্রজাতি, কারণ এটি কেবল ঐ দ্বীপেই পাওয়া যায়। বনাঞ্চল ধ্বংসের ফলে প্রজাতিটি এখন বিলুপ্তির মুখে। আমার মতে ব্যাঙটিকে অবশ্যই সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। যুক্তিগুলো নিম্নরূপ: ১. পুনরুদ্ধারের অসম্ভাব্যতা: নির্দিষ্ট অঞ্চলের এ প্রজাতিটি বিলুপ্ত হলে বিশ্বের অন্য কোথাও একে আর পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ ঐ অঞ্চলে বিলুপ্তির অর্থ সম্পূর্ণ প্রজাতির বিলুপ্তি। ২. জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য: একটি প্রজাতি হারিয়ে গেলে তার ওপর নির্ভরশীল অন্যান্য জীব এবং খাদ্য-সম্পর্কের ক্ষতি হয়, ফলে ঐ অঞ্চলের পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। ৩. মানবকল্যাণ: জীববৈচিত্র্য থেকে মানুষ খাদ্য, ওষুধ ও অর্থনৈতিক সুবিধা পায়। বিলুপ্ত প্রজাতির সম্ভাব্য উপকার থেকে মানুষ চিরতরে বঞ্চিত হবে। ৪. আবাসস্থল রক্ষা: ব্যাঙটির বিলুপ্তির কারণ বনাঞ্চল ধ্বংস। বন রক্ষা করলে শুধু ব্যাঙ নয়, দ্বীপের অন্যান্য হাজারো প্রজাতিও রক্ষা পাবে। সুতরাং বন কাটা বন্ধ করে ও আঞ্চলিক প্রজাতি সংরক্ষণ করে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও