জীববিজ্ঞান • জীবের প্রজনন (Reproduction)
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
একটি সপুষ্পক উদ্ভিদের পরাগধানীর পরাগ মাতৃকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা ২৪। এই পরাগ মাতৃকোষ বিভাজিত হয়ে পরাগরেণু তৈরি করে। একই উদ্ভিদের গর্ভাশয়ের ডিম্বকে অবস্থিত ভ্রূণপোষক কলার একটি বড় কোষ থেকেও ক্রমান্বয়ে একটি পরিণত ভ্রূণথলি গঠিত হয়।
- ক)(1)
নালিকোষ কাকে বলে?
- খ)(2)
পরাগরেণুকে পুং গ্যামেটোফাইটের প্রথম কোষ বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের পরাগ মাতৃকোষ থেকে পুংজননকোষ সৃষ্টির ধাপগুলো প্রতি ধাপে ক্রোমোজোম সংখ্যাসহ দেখাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ভ্রূণথলি গঠনের প্রক্রিয়াটি ক্রোমোজোম সংখ্যাসহ বিশ্লেষণ কর এবং এই ভ্রূণথলির সঙ্গে পুংজননকোষ মিলিত হলে গঠিত সস্যকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা নির্ণয় কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পরাগরেণুর নিউক্লিয়াস মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হলে যে দুটি কোষ সৃষ্টি হয়, তাদের মধ্যে বড় কোষটিকে নালিকোষ (Tube cell) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পরাগ মাতৃকোষ (2n) মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) পরাগকোষ সৃষ্টি করে। এই হ্যাপ্লয়েড কোষই পরাগরেণু। পরাগরেণু অঙ্কুরিত হয়ে মাইটোসিসের মাধ্যমে নালিকোষ ও জেনারেটিভ কোষ গঠন করে এবং শেষে পুংজননকোষ উৎপন্ন করে। অর্থাৎ পুং গ্যামেটোফাইট দশার সূচনা পরাগরেণু থেকেই হয়, তাই একে পুং গ্যামেটোফাইটের প্রথম কোষ বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ধাপসমূহ: ১. পরাগ মাতৃকোষ (2n = ২৪) মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে চারটি অপত্য পরাগকোষ (n = ১২) সৃষ্টি করে। ২. প্রতিটি পরাগকোষ পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়ে পরাগরেণুতে পরিণত হয়। এর নিউক্লিয়াস মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়ে একটি বড় নালিকোষ (n = ১২) ও একটি ক্ষুদ্র জেনারেটিভ কোষ (n = ১২) সৃষ্টি করে। ৩. নালিকোষ বড় হয়ে পরাগনালিতে পরিণত হয়। ৪. জেনারেটিভ কোষ মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়ে দুটি পুংজননকোষ (প্রতিটিতে n = ১২) উৎপন্ন করে। এ বিভাজন পরাগরেণুতে অথবা পরাগনালিতে ঘটতে পারে। সুতরাং একটি পরাগ মাতৃকোষ থেকে ক্রোমোজোম সংখ্যা ২৪ থেকে অর্ধেক হয়ে ১২ হয় এবং সব পুংজননকোষে ১২টি ক্রোমোজোম থাকে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ভ্রূণথলি গঠন (Megasporogenesis): ১. ডিম্বকের ভ্রূণপোষক কলায় ডিম্বকরন্ধ্রের কাছে একটি বড় স্ত্রী রেণু মাতৃকোষ (2n = ২৪) থাকে। ২. এটি মিয়োসিস বিভাজনে চারটি হ্যাপ্লয়েড কোষ (n = ১২) সৃষ্টি করে। সর্বনিম্ন কোষটি ছাড়া বাকি তিনটি বিনষ্ট হয়। ৩. অবশিষ্ট কোষটি বড় হয়ে ভ্রূণথলিতে পরিণত হয়। এর নিউক্লিয়াস (n = ১২) মাইটোসিসে বিভক্ত হয়ে দুটি নিউক্লিয়াস গঠন করে, যারা দুই মেরুতে অবস্থান নেয়। ৪. প্রতিটি নিউক্লিয়াস পরপর আরও দুবার বিভক্ত হয়ে মোট আটটি নিউক্লিয়াস (প্রতিটি n = ১২) সৃষ্টি করে, প্রতি মেরুতে চারটি করে। ৫. ডিম্বকরন্ধ্রের দিকের তিনটি কোষ গর্ভযন্ত্র গঠন করে: একটি ডিম্বাণু ও দুটি সহকারী কোষ (প্রতিটি n = ১২)। বিপরীত মেরুর তিনটি কোষ প্রতিপাদ কোষ (n = ১২)। ৬. দুই মেরু থেকে একটি করে নিউক্লিয়াস কেন্দ্রে এসে মিলিত হয়ে গৌণ নিউক্লিয়াস গঠন করে, যার ক্রোমোজোম সংখ্যা 2n = ২৪। নিষেকের সময় একটি পুংজননকোষ (n = ১২) গৌণ নিউক্লিয়াসের (২৪) সঙ্গে মিলিত হয়ে সস্যকোষ গঠন করে। তাই সস্যকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা = ২৪ + ১২ = ৩৬, অর্থাৎ ট্রিপ্লয়েড (3n)। অপর পুংজননকোষ ডিম্বাণুর (১২) সঙ্গে মিলে জাইগোট (২৪) গঠন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও