বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের নদ-নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

একটি নদী সিকিমের পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন হয়ে ভারতের জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং-এর মধ্য দিয়ে নীলফামারী জেলায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। অতীতে নদীটি অন্য একটি বড়ো নদীতে মিশত, কিন্তু একটি প্রবল বন্যার পর সে গতিপথ বদলে ফেলে। প্রায় তিন দশক আগে নদীটির ওপর একটি ব্যারেজ নির্মাণ করা হয়। রংপুর অঞ্চলের কৃষক ফারুক আশা করেছিলেন ব্যারেজ থেকে সারা বছর সেচের পানি পাবেন, কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে তিনি প্রায়ই হতাশ হন।

  1. ক)

    ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি কোথায়?

    (1)
  2. খ)

    তিস্তা নদী বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের নদীটির গতিপথ পরিবর্তনের বিবরণ দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    ফারুকের হতাশার কারণ বিশ্লেষণ করো এবং উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও জনজীবনে এ নদীর গুরুত্ব মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি তিব্বতের মানস সরোবরে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় তিস্তা নদীর ভূমিকা সর্বাধিক। তিস্তা ব্যারেজের মাধ্যমে এ অঞ্চলে পানি সংরক্ষণ, নিষ্কাশন, সেচ ও বন্যা প্রতিরোধের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ নদীর পানিতে রংপুর, বগুড়া ও দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষ সুবিধা পাচ্ছে। তাই তিস্তা উত্তরাঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের নদীটি হলো তিস্তা। এটি সিকিমের পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন হয়ে ভারতের জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং-এর মধ্য দিয়ে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

    গতিপথ পরিবর্তন: ১৭৮৭ সালের প্রবল বন্যায় তিস্তা তার আগের গতিপথ ছেড়ে দেয়। আগে এটি গঙ্গা নদীতে মিলিত হতো। বন্যার পর এটি ব্রহ্মপুত্রের একটি পরিত্যক্ত গতিপথে প্রবাহিত হতে শুরু করে। বর্তমানে নদীটির দৈর্ঘ্য ১৭৭ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩০০ থেকে ৫৫০ মিটার।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফারুকের হতাশার কারণ: উদ্দীপকের তিস্তা ব্যারেজ ১৯৯৭-৯৮ সালে নির্মিত হয়। এটি সেচ, পানি সংরক্ষণ ও বন্যা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখার কথা, কিন্তু নানা কারণে বাংলাদেশ এর পূর্ণ উপযোগিতা এখনো পায়নি। তিস্তার উৎস ভারতে হওয়ায় উজানে বাঁধ ও পানি প্রত্যাহারের কারণে শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানির প্রবাহ খুব কমে যায়। ফলে ব্যারেজে সেচের জন্য যথেষ্ট পানি থাকে না। এছাড়া পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হওয়া এবং নাব্যতা কমে যাওয়াও সমস্যা বাড়ায়। তাই ফারুক সারা বছর সেচের পানি পান না।

    নদীর গুরুত্ব: তিস্তা ব্যারেজের পানিতে রংপুর, বগুড়া ও দিনাজপুর অঞ্চলের সেচ সম্ভব হয়, যা কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা বাড়ায়। নদীটি উত্তরাঞ্চলের পানি নিষ্কাশনে সর্বাধিক ভূমিকা রাখে এবং বন্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে। এ নদীকে কেন্দ্র করে মাছ ধরা, চাষাবাদ ও যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষের কর্মসংস্থান হয়।

    উপসংহার: তিস্তা উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি ও জনজীবনের প্রাণ। তাই এর পূর্ণ সুফল পেতে নদী খনন, প্রবাহ বজায় রাখা এবং উজানের দেশের সঙ্গে পানি বণ্টনের ন্যায্য ব্যবস্থা জরুরি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও