সাহিত্য পাঠ • কারবালা-প্রান্তর
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
গ্রামের বৈশাখী মেলার কুস্তির আসরে নামার আগেই পালোয়ান মিঠু বড়াই করে প্রতিদ্বন্দ্বী হাবিবকে বলল, “তোর শরীরে কত শক্তি দেখি, আগে আমাকে ধরে দেখা। না পারলে তোর চেয়ে দুর্বল কাউকে আসরে পাঠাব।” হাবিব শান্ত গলায় বলল, “কথা বাড়িয়ে লাভ নেই, আসরে নামো।” প্রথম প্যাঁচেই মিঠু মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। দর্শকদের হাসির মুখে সে লজ্জায় আসর ছাড়তে চাইল, হাবিব তবু বলল, “আগে ফল ভোগ করো, তারপর যাও।”
- ক)(1)
আবদুর রহমান কে?
- খ)(2)
“অস্ত্রই বল পরীক্ষার প্রধান উপকরণ!” — ইমাম হোসেন কেন এ কথা বলেছিলেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
আবদুর রহমান যুদ্ধক্ষেত্রে পলায়নের উপক্রম করেছিল কেন? উদ্দীপকের মিঠুর পরিণতির আলোকে ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
“আচরণের দিক থেকে হোসেন ও হাবিবের মধ্যে মিল যেমন আছে, অমিলও তেমনি আছে।” — ‘কারবালা-প্রান্তর’ গদ্যাংশ ও উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আবদুর রহমান এজিদপক্ষের সর্বশ্রেষ্ঠ যোদ্ধা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আবদুর রহমান হোসেনকে শোকে-তাপে কাতর ও দুর্বল বলে বিদ্রূপ করে অনেক বাগাড়ম্বর করছিল এবং আগে আঘাত করার আহ্বান জানাচ্ছিল। হোসেন বুঝিয়ে দিলেন, বীরের পরিচয় মুখের কথায় নয়, অস্ত্রের পরীক্ষায়। বাক্যব্যয়ে সময় নষ্ট না করে যুদ্ধই বল প্রমাণের একমাত্র উপায়, এই বিশ্বাস থেকেই তিনি ওই কথা বলেন। এতে তাঁর আত্মবিশ্বাস ও যুদ্ধের প্রতি দৃঢ়তা প্রকাশ পেয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আবদুর রহমান নিজের বলের গর্বে হোসেনকে দুর্বল বলে বিদ্রূপ করে ‘লক্ষ টাকা’ মূল্যের মস্তকে ভীম তরবারি চালিয়েছিল। কিন্তু হোসেনের বর্মে আঘাত লেগে কেবল অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বের হলো, হোসেনের কোনো ক্ষতি হলো না। বিপরীতে তার অহংকার ধূলিসাৎ হলো এবং সে লজ্জিত হয়ে পলায়নের উপক্রম করল। উদ্দীপকেও মিঠু আসরে নামার আগে বড়াই করেছিল, কিন্তু প্রথম প্যাঁচেই পরাজিত হয়ে লজ্জায় আসর ছাড়তে চেয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই অহংকারী বাগাড়ম্বরকারী প্রতিপক্ষ বাস্তব বলের পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে লজ্জা ও ভয়ে পালাতে চেয়েছে। তাই আবদুর রহমানের পলায়নের কারণ তার অসার দম্ভ ও হোসেনের প্রকৃত শক্তির কাছে হেরে যাওয়া।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর হোসেন ও হাবিবের আচরণে মিল-অমিল দুটিই বিদ্যমান। মিলের দিক হলো, দুজনই প্রতিপক্ষের বাগাড়ম্বরকে উপেক্ষা করে কাজে বল প্রমাণের কথা বলেছেন। হাবিব বলেছে, “কথা বাড়িয়ে লাভ নেই, আসরে নামো।” আর হোসেনও বলেছেন, “এ কথার প্রয়োজন নাই... অস্ত্রই বল পরীক্ষার প্রধান উপকরণ।” দুজনই আত্মবিশ্বাসী, এবং প্রতিপক্ষের পলায়নের উপক্রমে হোসেন বলেছেন, “অগ্রে সহ্য কর, শেষে পলায়ন করিস”, হাবিবও বলেছে, “আগে ফল ভোগ করো”। অমিলের দিক হলো, হাবিবের লড়াই কেবল মেলার খেলাধুলার প্রতিযোগিতা, ফলে তার কাছে এটি ব্যক্তিগত শক্তি প্রদর্শনের ব্যাপার। কিন্তু হোসেনের লড়াই জীবন-মরণ যুদ্ধ, যেখানে তিনি জাতিবধ, ভ্রাতৃপুত্র ও পুত্রহারা বেদনা এবং এজিদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে লড়ছেন। হাবিব বিজয়ী হয়ে কেবল খ্যাতি পাবে, কিন্তু হোসেনের বিজয়ের পরও তাঁর কাছে জল ও জয় নয়, স্বজনের শোকই প্রধান থাকে; তিনি জয়ের পরেও ফোরাতের জল ত্যাগ করে অস্ত্র ফেলে দেন। তাই সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দেশ্য, গভীরতা ও পরিণতিতে হোসেন বহুগুণে ব্যাপক ও ট্র্যাজিক চরিত্র।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও