ভূগোল ১ম পত্র • প্রাকৃতিক ভূগোল
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা সোহেল সাহেব দেখলেন, প্রতি বছর বর্ষায় তাঁর গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয় এবং মাঝে মাঝে ঘূর্ণিঝড়ে ফসলের ক্ষতি হয়। স্থানীয় স্কুলের ভূগোল শিক্ষক গ্রামবাসীদের বোঝালেন, প্রাকৃতিক ভূগোল সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে এসব দুর্যোগের কারণ বোঝা যায় এবং ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। এরপর গ্রামবাসীরা উঁচু ভিটায় ঘর তুলতে ও আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহার করতে উদ্যোগী হলো।
- ক)(1)
আধুনিক প্রাকৃতিক ভূগোলের রূপকার কাকে বলা হয়?
- খ)(2)
পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশ মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের গ্রামবাসীদের উদ্যোগের সাথে প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠের গুরুত্ব কীভাবে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'একবিংশ শতাব্দীতে প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠের গুরুত্ব কমে যায়নি, বরং বেড়েছে'—উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোকে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর জার্মানির ভূগোলবিদ আলেকজান্ডার ভন হামবোল্টকে আধুনিক প্রাকৃতিক ভূগোলের রূপকার বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ভূপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করে কোনো অঞ্চলের জনবসতির ঘনত্ব। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান প্রয়োজন, আর এসব জলবায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। কৃষি, শিল্প, যোগাযোগ প্রভৃতি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ভূমিরূপ, জলবায়ু ও মৃত্তিকার ওপর নির্ভরশীল। এজন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের গ্রামবাসীরা প্রাকৃতিক ভূগোল সম্পর্কে ধারণা পেয়ে উঁচু ভিটায় ঘর তুলতে ও আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহার করতে উদ্যোগী হয়েছে। এটি প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠের গুরুত্বের একটি দিক প্রকাশ করে। প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠের মাধ্যমে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ, প্রকৃতি ও ফলাফল সম্পর্কে জানা যায়। এ জ্ঞান থাকলে দুর্যোগের পূর্বাভাস বুঝে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া যায়, নিরাপদ স্থানে বসতি গড়া যায় এবং জানমালের ক্ষতি কমানো যায়। এভাবে প্রাকৃতিক ভূগোলের জ্ঞান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহায়ক ভূমিকা রাখে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আমি উক্তিটির সাথে একমত। উদ্দীপকের গ্রামবাসীদের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, প্রাকৃতিক ভূগোলের জ্ঞান আজও মানুষের বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে অপরিহার্য। যুক্তিগুলো হলো: ১. দুর্যোগ মোকাবিলা: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের প্রবণতা বাড়ছে। এগুলোর কারণ ও গতিপ্রকৃতি জানতে প্রাকৃতিক ভূগোল জরুরি। ২. সম্পদের পরিকল্পিত ব্যবহার: মৃত্তিকা, পানি, বন, খনিজ ও সমুদ্রসম্পদের সঠিক ব্যবহার ও সংরক্ষণের জন্য ভূমিরূপ, জলবায়ু ও সমুদ্রবিজ্ঞানের জ্ঞান প্রয়োজন। ৩. পরিবেশ রক্ষা: পরিবেশ দূষণ, বনাঞ্চল ধ্বংস ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব বুঝতে এবং প্রতিকার খুঁজতে এ জ্ঞান সহায়তা করে। ৪. পরিকল্পনা ও উন্নয়ন: কৃষি, বসতি, রাস্তাঘাট ও বন্দর নির্মাণের স্থান নির্বাচনে ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু বিবেচনা করতে হয়। ৫. জীবনযাত্রা: খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান জলবায়ু ও ভূপ্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। এভাবে প্রাকৃতিক ভূগোল আজ মানুষের টিকে থাকা ও টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। অতএব প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠের গুরুত্ব কমেনি, বরং আরও বেড়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও