সাহিত্য পাঠ • অর্ধাঙ্গী
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
আধুনিক ভাবনার দাবিদার জনাব কামাল সাহেব বন্ধুদের কাছে নিজেকে প্রগতিশীল প্রমাণ করতে চান। তাই তিনি তাঁর স্ত্রী নাজমাকে বোরকা ছাড়া একটি পার্টিতে নিয়ে যান। নাজমা কী পরবেন, কার সঙ্গে কথা বলবেন—সবই ঠিক করে দেন কামাল সাহেব। পার্টি শেষে ঘরে ফিরে নাজমা আবার আগের মতোই সংসারের কাজে ডুবে যান। নিজের কোনো মত প্রকাশ বা বই পড়ার সুযোগ তাঁর হয় না।
- ক)(1)
‘পার্সি’ শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
“ইহাতে রমণীকুলের বাহাদুরি কী?”—লেখক এ কথা কেন বলেছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের নাজমা ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের কোন নারীদের প্রতিনিধিত্ব করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“কেবল পর্দা মোচনই নারীমুক্তি নয়”—প্রবন্ধ ও উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘পার্সি’ শব্দের অর্থ পারস্য দেশের অর্থাৎ ইরানি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পার্সি পুরুষেরা অন্ধভাবে বিলাতি সভ্যতার অনুকরণ করতে গিয়ে নারীদের পর্দার বাইরে এনেছিল। নারীরা নিজেদের বুদ্ধি-বিবেচনা বা ইচ্ছায় বের হয়নি; পুরুষ যখন চেয়েছে তখনই তারা ‘নাকের দড়ি’ ধরে টানা পুতুলের মতো বাইরে এসেছে। এতে নারীর নিজস্ব জীবনশক্তি বা চেতনার কোনো পরিচয় পাওয়া যায় না। তাই লেখক বলেছেন, এতে নারীসমাজের কোনো কৃতিত্ব নেই।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের নাজমা ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে বর্ণিত পার্সি মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব করে। প্রবন্ধে রোকেয়া দেখিয়েছেন, পার্সি পুরুষেরা বিলাতি সভ্যতার অন্ধ অনুকরণে স্ত্রীদের পর্দার বাইরে এনেছে, কিন্তু তাঁদের মানসিক দাসত্ব ঘোচেনি। পুরুষ যখন অন্তঃপুরে রেখেছে তাঁরা সেখানে ছিলেন, যখন বাইরে এনেছে তখন বাইরে এসেছেন। উদ্দীপকে কামাল সাহেব নিজেকে প্রগতিশীল দেখানোর জন্য নাজমাকে পার্টিতে নিয়ে গেছেন। নাজমার নিজস্ব ইচ্ছা, মত বা বিবেচনার কোনো স্থান সেখানে নেই; সবই স্বামীর নির্দেশে চলে। তাই বাহ্যিক পর্দা মোচন হলেও নাজমার মানসিক দাসত্ব রয়ে গেছে। এদিক থেকে নাজমা প্রবন্ধের পার্সি মহিলাদের প্রতিনিধি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। রোকেয়া ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে স্পষ্ট করেছেন যে তাঁর আলোচ্য বিষয় অবরোধ প্রথা নয়, নারীর মানসিক দাসত্ব (enslaved মন)। তিনি দেখিয়েছেন, পার্সি মহিলাদের পর্দা মোচন হয়েছে, কিন্তু তাঁদের স্বকীয় বুদ্ধি-বিবেচনার পরিচয় পাওয়া যায় না; পুরুষের ইচ্ছাতেই তাঁরা ঘরে থেকেছেন, আবার পুরুষের ইচ্ছাতেই বাইরে এসেছেন। অর্থাৎ বাইরের বাধা সরলেও মনের শৃঙ্খল না ভাঙলে মুক্তি আসে না।
উদ্দীপকের নাজমার ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। বোরকা ছাড়া পার্টিতে যাওয়ায় তাঁর বাহ্যিক পর্দা সরেছে, কিন্তু কী পরবেন, কার সঙ্গে কথা বলবেন, তা তিনি নিজে ঠিক করতে পারেন না। বই পড়া বা মত প্রকাশের সুযোগও তাঁর নেই। ফলে তাঁর জীবনে স্বাধীন চিন্তার বিকাশ ঘটেনি। এ থেকে বোঝা যায়, শিক্ষা, আত্মবিশ্বাস ও নিজস্ব বিচার-বুদ্ধির চর্চা ছাড়া কেবল পর্দা সরানো নারীকে মুক্ত করে না। সুতরাং প্রবন্ধ ও উদ্দীপক উভয়ের আলোকেই উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও