সাহিত্য পাঠ • অর্ধাঙ্গী
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
মিনা বেগম একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ভাইয়ের সহায়তায় গোপনে লেখাপড়া শিখে তিনি পরে নিজের গ্রামের মেয়েদের জন্য ‘আলোকিত নারী সংঘ’ গড়ে তোলেন। সেখানে মেয়েদের লেখাপড়ার পাশাপাশি অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা হয়। মিনা বেগম বলেন, “নিজের ধর্ম ও সমাজ ত্যাগ করার দরকার নেই; রান্না-সেলাই শিখুক, কিন্তু নিজের পায়ে দাঁড়ানোর শিক্ষাও তাদের চাই।”
- ক)(1)
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- খ)(2)
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ‘আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের মিনা বেগমের কাজের সঙ্গে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জীবনের কোন দিকটির মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মিনা বেগমের উক্তিটি ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের লেখকের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে কতটা সংগতিপূর্ণ? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রোকেয়ার সাহিত্যচর্চা ও কর্মজীবনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি মুসলমান নারীসমাজের জাগরণ ঘটানো। সেকালে নারীরা শিক্ষা ও অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নারীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি ১৯১৬ সালে এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের মিনা বেগমের কাজের সঙ্গে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের নারীশিক্ষা বিস্তার ও নারীজাগরণের প্রচেষ্টার মিল পাওয়া যায়। রোকেয়া সেকালের প্রতিকূল পরিবেশেও বড়ভাই, বোন ও স্বামীর সহায়তায় বাংলা ও ইংরেজি শিখেছিলেন। পরে ১৯১১ সালে কলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল এবং ১৯১৬ সালে ‘আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম’ প্রতিষ্ঠা করে তিনি নারীদের শিক্ষিত ও সচেতন করতে চেয়েছিলেন। উদ্দীপকে মিনা বেগমও ভাইয়ের সহায়তায় শিক্ষা অর্জন করে ‘আলোকিত নারী সংঘ’ গড়ে মেয়েদের শিক্ষা ও অধিকার-সচেতনতার কাজ করেছেন। তাই উভয়ের কাজের লক্ষ্য ও ধরন অভিন্ন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মিনা বেগমের উক্তি ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের লেখকের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ। উক্তিটিতে দুটি বিষয় আছে—ধর্ম ও সমাজ ত্যাগ না করা এবং রান্না-সেলাইয়ের পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীলতার শিক্ষা।
প্রবন্ধে রোকেয়া স্পষ্ট বলেছেন, তিনি নারীদের ধর্মবন্ধন বা সমাজবন্ধন ছিন্ন করে উন্মুক্ত প্রান্তরে বের করতে চান না। হিন্দুকে হিন্দুত্ব বা খ্রিস্টানকে খ্রিস্টানি ছাড়তে হবে না; নিজ সম্প্রদায়ের পার্থক্য রক্ষা করেই মনকে স্বাধীনতা দেওয়া যায়। একইভাবে তিনি বলেছেন, তিনি রন্ধন ও সূচিকর্ম শিক্ষার বিরোধী নন, কারণ অন্নবস্ত্র জীবনের প্রধান প্রয়োজন; তবে জীবনকে শুধু রান্নাঘরে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। শিক্ষার অভাবেই নারীরা অবনত হয়েছে—এই উপলব্ধি থেকে তিনি নারীর মানসিক উন্নতি চেয়েছেন। মিনা বেগমের বক্তব্যেও এই দুটি দিকের ভারসাম্য রয়েছে। সুতরাং তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি প্রবন্ধের লেখকের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও