ভূগোল ২য় পত্র • পরিবহন ও যোগাযোগ

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ব্যবসায়ী মিতু দেখেন, তাঁর এলাকার রাবনাবাদ চ্যানেলের তীরে একটি নতুন সমুদ্রবন্দর গড়ে উঠেছে। ২০১৭-১৮ সালে সেখানে ৯টি বিদেশি জাহাজ আসে এবং সিমেন্ট ও সারসহ ১.৭২ লক্ষ মেট্রিক টন পণ্য পরিবহন করা হয়। ২০২৩ সালের মধ্যে বন্দরটি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া কক্সবাজারের মাতারবাড়ি ও সোনাদিয়ায় আরও বন্দর গড়ে তোলা হচ্ছে।

  1. ক)

    পায়রা সমুদ্রবন্দর কোন চ্যানেলের তীরে অবস্থিত?

    (1)
  2. খ)

    গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলা বাংলাদেশের জন্য জরুরি কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত রাবনাবাদ চ্যানেলের তীরের বন্দরটি গড়ে তোলার উদ্দেশ্যগুলো ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে পায়রা বন্দরের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পায়রা সমুদ্রবন্দর পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় রাবনাবাদ চ্যানেলের তীরে অবস্থিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশে বর্তমানে গভীর সমুদ্রবন্দরের অভাব রয়েছে। ফলে বড় আকারের জাহাজ সরাসরি বন্দরে ভিড়তে পারে না। দেশের রপ্তানি বাণিজ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানি ক্রমেই বাড়ছে। এ বাড়তি বাণিজ্যের চাপ সামলাতে ও ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলা জরুরি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের বন্দরটি বাংলাদেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রা সমুদ্রবন্দর। ২০১৩ সালে 'পায়রা সমুদ্রবন্দর আইন' পাস করে এটি গড়ে তোলা হয়। এর উদ্দেশ্যগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।
    ১. রপ্তানি বাণিজ্যে প্রাণ সঞ্চার: দেশের রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধির অব্যাহত গতিকে সহায়তা করা এবং বিশেষ করে পোশাক রপ্তানি সহজ করা এর একটি প্রধান উদ্দেশ্য।
    ২. স্থানীয় পণ্যের রপ্তানি সুবিধা: কলাপাড়াসহ দক্ষিণাঞ্চলে উৎপাদিত পণ্য মিতুর মতো ব্যবসায়ীরা যেন সহজে বিদেশে পাঠাতে পারেন, তা নিশ্চিত করা।
    ৩. গভীর সমুদ্রবন্দরের অভাব পূরণ: বড় জাহাজ ভেড়ার উপযোগী গভীর সমুদ্রবন্দরের অভাব পূরণ করা এর আরেকটি উদ্দেশ্য।
    এই উদ্দেশ্যগুলো পূরণের মাধ্যমে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম গতিশীল করাই বন্দরটির লক্ষ্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে পায়রা সমুদ্রবন্দরের কথা বলা হয়েছে। বন্দরটির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিচে মূল্যায়ন করা হলো।
    বর্তমান অবস্থা: ২০১৬ সালের ১৯ আগস্ট বন্দরটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। ২০১৭-১৮ সালে মাত্র ৯টি বিদেশি জাহাজ আসে এবং ১.৭২ লক্ষ মেট্রিক টন পণ্য পরিবহন হয়। পশ্চাৎভূমি থেকে বন্দর পর্যন্ত সিমেন্ট ও সারের পরিবহন সীমিতভাবে চলছে। চট্টগ্রাম বন্দর যেখানে দেশের প্রায় ৯৭ ভাগ বাণিজ্য সামলায়, সেখানে এ বন্দরের কার্যক্রম এখনো খুবই সীমিত।
    ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা: ২০২৩ সালের মধ্যে বন্দরটি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল হলে এটি আমদানি-রপ্তানিতে পুরোপুরি সক্রিয় হবে। তখন পোশাকসহ রপ্তানি পণ্য পাঠানো সহজ হবে, চট্টগ্রাম বন্দরের চাপ কমবে এবং দক্ষিণাঞ্চলে শিল্প ও কর্মসংস্থান বাড়বে। মাতারবাড়ি ও সোনাদিয়ায় নতুন বন্দর যুক্ত হলে দেশে সমুদ্রবন্দর হবে পাঁচটি, ফলে বাণিজ্যের সক্ষমতা আরও বাড়বে।
    সুতরাং বর্তমানে সীমিত হলেও পায়রা বন্দরের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও