বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • রাষ্ট্র, নাগরিকতা ও আইন

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

বেগমগঞ্জ ইউনিয়নে সরকারি উদ্যোগে একটি মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে শিশুদের বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হয়। এছাড়া ইউনিয়নের ৬০ বছরের বেশি বয়সী দরিদ্র মানুষেরা প্রতি মাসে বয়স্কভাতা পান এবং স্কুলের ছাত্রীরা উপবৃত্তি পায়।

  1. ক)

    রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কাজ কাকে বলা হয়?

    (1)
  2. খ)

    রাষ্ট্র কেন শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্ব দেয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত কার্যক্রমগুলো রাষ্ট্রের কোন কোন কল্যাণমূলক কাজের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘যে রাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে যত উন্নত, তার ঐচ্ছিক কার্যাবলি তত বিস্তৃত’ উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোকে উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জনকল্যাণ ও উন্নয়নে রাষ্ট্র যেসব কাজ করে থাকে, যেগুলো না করলে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিপন্ন হয় না, সেগুলোকে রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক বা কল্যাণমূলক কাজ বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শিক্ষিত জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড়ো সম্পদ। শিক্ষিত নাগরিক নিজের অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হন। এজন্য রাষ্ট্র বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, নারী শিক্ষা ও বয়স্ক শিক্ষার ব্যবস্থা করে এবং নিরক্ষরতা দূর করতে কার্যক্রম পরিচালনা করে। এভাবে শিক্ষা সুযোগ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের কার্যক্রমগুলো রাষ্ট্রের তিনটি কল্যাণমূলক কাজের অন্তর্ভুক্ত।
    ১. স্বাস্থ্য সুরক্ষা: মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র স্থাপন ও শিশুদের বিনামূল্যে টিকা প্রদান জনস্বাস্থ্য রক্ষার কাজ। রাষ্ট্র হাসপাতাল, মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র ও প্রতিষেধক টিকার মাধ্যমে নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়।
    ২. সামাজিক নিরাপত্তা: দরিদ্র বয়স্কদের বয়স্কভাতা প্রদান সামাজিক নিরাপত্তার অংশ। দরিদ্র, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের আর্থিক সুবিধা দেওয়া রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক দায়িত্ব।
    ৩. শিক্ষা বিস্তার: ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদান নারী শিক্ষা উৎসাহিত করে এবং শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। কারণ ঐচ্ছিক কাজ সম্পাদনে প্রচুর অর্থ ও সম্পদের প্রয়োজন হয়।
    উদ্দীপকে মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র স্থাপন, বিনামূল্যে টিকা, বয়স্কভাতা ও উপবৃত্তির মতো কর্মসূচি পরিচালনা করতে বিপুল ব্যয় লাগে। যে রাষ্ট্রের আয় বেশি, সে এসব কার্যক্রমের পরিধি বাড়াতে পারে। যেমন বেকার ভাতা, পেনশন, শিল্পজোন প্রতিষ্ঠা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও গবেষণায় বিনিয়োগ সম্ভব হয়।
    পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, বর্তমানে রাষ্ট্রের ভূমিকা শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও কর আদায়ে সীমাবদ্ধ নয়। নাগরিকদের নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য কল্যাণমূলক ভূমিকা নিতে হয়। জনগণের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশেও ঐচ্ছিক কাজের পরিধি দিন দিন বাড়ছে।
    তবে অর্থনৈতিক সামর্থ্য কম হলেও রাষ্ট্র সীমিত আকারে এসব কাজ করে। কিন্তু সামর্থ্য বাড়লে কাজের পরিধি ও মান দুটিই বাড়ে। সুতরাং উক্তিটি সঠিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও