তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ও আমাদের বাংলাদেশ
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রশ্ন
বিজ্ঞান ক্লাবের আলোচনায় তিনা বলল, ‘১৮৯৫ সালে একজন বাঙালি বিজ্ঞানী অতিক্ষুদ্র তরঙ্গ ব্যবহার করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বার্তা পাঠিয়েছিলেন।’ রনি বলল, ‘কিন্তু পাঠ্যবইয়ে একজন ইতালীয় বিজ্ঞানীকেই বেতার যন্ত্রের আবিষ্কারক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।’ তিনা এ নিয়ে প্রশ্ন তুললে শিক্ষক বললেন, ‘বিষয়টির পেছনে একটি বিশেষ কারণ আছে।’
- ক)(1)
আধুনিক কম্পিউটারের জনক কাকে বলা হয়?
- খ)(2)
ম্যাক্সওয়েলের আবিষ্কার বিনা তারে বার্তা প্রেরণের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাঙালি বিজ্ঞানী কে? তাঁর আবিষ্কারটি কেন সার্বজনীন স্বীকৃতি পায়নি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ইতালীয় বিজ্ঞানীকে বেতার যন্ত্রের আবিষ্কারক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ইংরেজ প্রকৌশলী ও গণিতবিদ চার্লস ব্যাবেজকে আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল তড়িৎ চৌম্বকীয় বলের ধারণা প্রকাশ করেন। এই ধারণা থেকে বোঝা যায় যে তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ তার ছাড়াই শূন্য মাধ্যম বা বায়ুর মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে তারের সংযোগ ছাড়াই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সংকেত পাঠানো সম্ভব, এমন ভাবনার ভিত্তি তৈরি হয়। পরবর্তীতে এর ওপর ভিত্তি করেই বেতার যোগাযোগ বিকশিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত বাঙালি বিজ্ঞানী হলেন জগদীশচন্দ্র বসু। ১৮৯৫ সালে তিনি অতিক্ষুদ্র তরঙ্গ ব্যবহার করে বিনা তারে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তথ্য প্রেরণে সফল হন। বিনা তারে বার্তা প্রেরণে তিনিই প্রথম সফল হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর এই আবিষ্কার সে সময় প্রকাশিত হয়নি। কোনো আবিষ্কার বৈজ্ঞানিক সমাজে প্রকাশিত না হলে অন্যরা তা জানতে ও যাচাই করতে পারে না। এ কারণেই তাঁর আবিষ্কার সার্বজনীন স্বীকৃতি পায়নি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ইতালীয় বিজ্ঞানী হলেন গুগলিয়েলমো মার্কনি (১৮৭৪-১৯৩৭)। তাঁকে বেতার যন্ত্রের আবিষ্কারক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার যৌক্তিকতা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো। ১. বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে বিনা তারে বার্তা প্রেরণের কাজটি মার্কনি প্রথম প্রকাশ করেন। প্রকাশিত হওয়ায় বিজ্ঞানী সমাজ ও বিশ্ব তাঁর কাজের সঙ্গে পরিচিত হয় এবং তা সার্বজনীন স্বীকৃতি পায়। ২. ১৯৬৭ সালে ইনস্টিটিউট অফ ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (IEEE) তাঁকে স্বীকৃতি দেয় এবং রেডিও বিজ্ঞানের অগ্রপথিক ও অন্যতম আবিষ্কারক হিসেবে আখ্যায়িত করে। ৩. অন্যদিকে জগদীশচন্দ্র বসু আগে সফল হলেও তাঁর কাজ প্রকাশিত না হওয়ায় বিশ্ব তা জানতে পারেনি। সুতরাং প্রকাশ ও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির বিবেচনায় মার্কনিকে বেতার যন্ত্রের আবিষ্কারক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যৌক্তিক। তবে বিনা তারে বার্তা প্রেরণে প্রথম সফলতার কৃতিত্ব জগদীশচন্দ্র বসুরও প্রাপ্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও