ভূগোল ১ম পত্র • জীবমণ্ডল
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
ভূগোল শিক্ষক তানভীর স্যার শ্রেণিকক্ষে দুটি অঞ্চলের তথ্যচিত্র দেখালেন। 'ক' অঞ্চলটি উষ্ণ ও আর্দ্র, সেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত অনেক বেশি এবং বিস্তীর্ণ বনভূমিতে অসংখ্য প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী বাস করে। 'খ' অঞ্চলটি সারা বছর বরফে ঢাকা, শুষ্ক ও শীতল; সেখানে গাছপালা ও প্রাণী খুবই কম। তথ্যচিত্রে আরও দেখানো হলো, একটি দ্বীপে এমন কিছু বানর ও কচ্ছপ রয়েছে যাদের পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।
- ক)(1)
জীববৈচিত্র্য কী?
- খ)(2)
আঞ্চলিক প্রজাতির সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'ক' অঞ্চলে জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বীপের বানর ও কচ্ছপের প্রজাতিগুলো বিলুপ্ত হলে বিশ্ব জীববৈচিত্র্যে কী প্রভাব পড়বে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ভূপৃষ্ঠে বসবাসকারী সকল প্রকার জীবের মধ্যে বিদ্যমান প্রজাতিগত, জিনগত ও বাস্তুতান্ত্রিক ভিন্নতাকে সম্মিলিতভাবে জীববৈচিত্র্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যেসব প্রজাতি শুধু একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে পাওয়া যায়, তাদের আঞ্চলিক প্রজাতি বলে। বিশ্বের অন্য কোথাও এসব প্রজাতি নেই বলে এদের কোনো একটি প্রজাতি সেই অঞ্চল থেকে বিলুপ্ত হওয়ার অর্থ হলো পুরো প্রজাতিটিই পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া। আবার আঞ্চলিক প্রজাতি বিবর্তন প্রক্রিয়ার এক চমৎকার নিদর্শন। তাই জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে এসব প্রজাতি ও তাদের আবাস সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের 'ক' অঞ্চলটি উষ্ণ ও আর্দ্র এবং অধিক বৃষ্টিপাতযুক্ত, যা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আর্দ্র অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য। এ অঞ্চলে জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ হওয়ার কারণগুলো নিম্নরূপ:
১. জলবায়ু: আর্দ্র ও উষ্ণমণ্ডলীয় এলাকায় অধিক বৃষ্টিপাত ও উষ্ণ আবহাওয়া উদ্ভিদ ও প্রাণীর বৃদ্ধি ও বংশবিস্তারে সহায়ক। জলবায়ু জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে বলে এখানে প্রজাতির সংখ্যা বেশি হয়।
২. ভৌগোলিক অবস্থা: নদী ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আর্দ্র আবহাওয়ায় পর্যাপ্ত পরিমাণ বনভূমি গড়ে ওঠে। বিস্তীর্ণ বনভূমি বহু প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাস ও খাদ্যের জোগান দেয়।
৩. ভৌগোলিক আয়তন: আয়তনে বড় ও বৈচিত্র্যময় পরিবেশযুক্ত এলাকায় বেশি সংখ্যক প্রজাতি বৃদ্ধি পায়।
অন্যদিকে 'খ' অঞ্চলের শীতল, শুষ্ক ও বরফাচ্ছন্ন পরিবেশে এসব সুবিধা নেই বলে সেখানে জীববৈচিত্র্য কম। সুতরাং জলবায়ু ও ভৌগোলিক অবস্থার অনুকূলতার কারণেই 'ক' অঞ্চল জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের দ্বীপের বানর ও কচ্ছপ হলো আঞ্চলিক বা Endemic প্রজাতি, কারণ পৃথিবীর অন্য কোথাও এদের পাওয়া যায় না। দ্বীপের এ প্রজাতিগুলো বিলুপ্ত হলে বিশ্ব জীববৈচিত্র্যে নিম্নরূপ প্রভাব পড়বে:
১. চিরতরে বিলুপ্তি: আঞ্চলিক প্রজাতি শুধু একটি স্থানেই থাকে। তাই দ্বীপ থেকে হারিয়ে গেলে সেই প্রজাতি পৃথিবী থেকেই চিরতরে বিলীন হবে এবং তা আর ফিরে পাওয়া যাবে না। এতে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য কমে যাবে।
২. বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য নষ্ট: বাস্তুতন্ত্রের জড় ও জীব উপাদানগুলো পরস্পর নিবিড়ভাবে নির্ভরশীল। একটি প্রজাতির বিনাশ হলে খাদ্যশৃঙ্খল ও অন্যান্য জীবের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়ে। ফলে দ্বীপের ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য ব্যাহত হবে।
৩. জিনগত ভিন্নতার ক্ষতি: প্রতিটি প্রজাতির নিজস্ব জিনগত বৈশিষ্ট্য আছে। প্রজাতি হারিয়ে গেলে সেই জিনগত সম্পদও হারিয়ে যাবে, যা জীববৈচিত্র্যের একটি অংশ।
৪. বিবর্তনের নিদর্শন হারানো: আঞ্চলিক প্রজাতি বিবর্তন প্রক্রিয়ার এক নিদর্শন। এদের বিলুপ্তিতে বিজ্ঞান ও গবেষণার বিশেষ উপাদান হারিয়ে যাবে।
অতএব, দ্বীপের আঞ্চলিক প্রজাতি বিলুপ্ত হলে বিশ্ব জীববৈচিত্র্য অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই এদের আবাসসহ সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও