জীববিজ্ঞান • সমন্বয় (co-ordination)

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

পঞ্চাশ বছর বয়সী রহিম সাহেব একজন ব্যবসায়ী। তিনি দিনের বেশির ভাগ সময় দোকানে বসে কাটান এবং কোনো ব্যায়াম করেন না। ইদানীং তাঁর ঘন ঘন প্রস্রাব হচ্ছে, খুব পিপাসা লাগছে এবং ভালো খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমছে। ডাক্তার রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করে বললেন, তাঁর অগ্ন্যাশয় প্রয়োজনমতো একটি হরমোন তৈরি করছে না। তাঁর বাবারও একই সমস্যা ছিল।

  1. ক)

    ডায়াবেটিস মেলিটাস কী?

    (1)
  2. খ)

    ডায়াবেটিস রোগ সংক্রামক নয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রহিম সাহেবের রোগটির কারণগুলো ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রহিম সাহেবের রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য তিনটি 'D' মেনে চলা জরুরি— বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর অগ্ন্যাশয়ে প্রয়োজনমতো ইনসুলিন তৈরি না হওয়ায় রক্তে শর্করার পরিমাণ স্থায়ীভাবে বেড়ে গিয়ে প্রস্রাবের সাথে গ্লুকোজ নির্গত হওয়ার অবস্থাকে ডায়াবেটিস মেলিটাস বা বহুমূত্র বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ডায়াবেটিস কোনো জীবাণুর সংক্রমণে হয় না। এটি সাধারণত বংশগতি এবং পরিবেশের প্রভাবে সৃষ্টি হয়। অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স থেকে ইনসুলিন কম নিঃসৃত হলে বা না হলে এ রোগ দেখা দেয়। যেহেতু এর কোনো রোগজীবাণু নেই, তাই আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে বা তার জিনিস ব্যবহার করলে অন্যের এ রোগ হয় না। তাই এটি সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে রহিম সাহেবের লক্ষণ ঘন ঘন প্রস্রাব, অধিক পিপাসা ও ওজন কমে যাওয়া দেখে বোঝা যায় তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এ রোগের কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: ১. ইনসুলিনের ঘাটতি: অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স থেকে প্রয়োজনমতো ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যায়। উদ্দীপকে ডাক্তারও এ কথাই বলেছেন। ২. বংশগতি: যেহেতু এ রোগ বংশগত, তাই বাবা, মা, দাদা বা দাদির এ রোগ থাকলে সন্তানের হওয়ার আশঙ্কা বেশি। রহিম সাহেবের বাবারও এ রোগ ছিল। ৩. কায়িক পরিশ্রমের অভাব: যারা দিনের বেশির ভাগ সময় বসে কাজ করেন এবং ব্যায়াম করেন না, তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা বেশি। রহিম সাহেব এ ধরনের জীবনযাপন করেন। ৪. স্থূলতা ও অলস জীবনযাপনও এ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রহিম সাহেবের রোগটি ডায়াবেটিস। চিকিৎসা করে এ রোগ একেবারে নিরাময় করা যায় না, তবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এজন্য ডাক্তারদের মতে তিনটি 'D' অর্থাৎ Discipline, Diet ও Drug মেনে চলা অত্যাবশ্যক। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. শৃঙ্খলা (Discipline): সুশৃঙ্খল জীবনব্যবস্থা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য মহৌষধ। রহিম সাহেব বসে বসে দিন কাটান, তাঁকে নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে, দেহ ও বিশেষ করে পায়ের যত্ন নিতে হবে, নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা করতে হবে এবং জটিলতা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ২. খাদ্য নিয়ন্ত্রণ (Diet): এটি নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায়। মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার করে ডাক্তারের দেওয়া মেনু অনুযায়ী নিয়মিত ও সময়মতো পরিমিত খাবার খেতে হবে। ৩. ঔষধ সেবন (Drug): ডাক্তার রোগীর শারীরিক অবস্থা বুঝে ঔষধ বা ইনসুলিন নেওয়ার পরামর্শ দেন। তা নিয়মিত মানতে হবে। ঠিকমতো চিকিৎসা না করলে রক্তে গ্লুকোজ অস্বাভাবিকভাবে কমে বা বেড়ে গিয়ে রোগী বেহুঁশ হতে পারেন, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। সুতরাং এই তিনটি 'D' একসাথে মেনে চললেই রহিম সাহেব রোগটি নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও