ভূগোল ১ম পত্র • বারিমণ্ডল

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

রংপুরের একটি গ্রামের শিক্ষক ছাত্রদের পানিচক্র বোঝাতে নিচের তথ্যটি দিলেন।

সমুদ্রস্থলভাগ
বাষ্পীভবনের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্প সরবরাহ৮৪%১৬%
বারিপাত৭৭%২৩%

ঐ গ্রামের এক পাশের বিস্তীর্ণ বন নির্বিচারে কেটে ফেলা হয়েছে। গ্রামবাসীরা লক্ষ করছে, গত কয়েক বছরে এলাকায় বৃষ্টি কমেছে, মাটি শুষ্ক হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় ছোট নদীটি শুকিয়ে যাচ্ছে।

  1. ক)

    প্রস্বেদন কী?

    (1)
  2. খ)

    ইন্টারসেপশন বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সারণি অনুযায়ী স্থলভাগে বাষ্পীভবনের চেয়ে বারিপাত বেশি হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ব পানিচক্রে মোট পানির পরিমাণ কীভাবে স্থির থাকে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে গ্রামবাসীদের লক্ষ করা পরিস্থিতি পরিবেশের ভারসাম্য ও জীবজগতের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে? পানিচক্রের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে পানি জলীয়বাষ্প আকারে বায়ুমণ্ডলে নির্গত হওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বৃষ্টির পানি ভূপৃষ্ঠে পতিত হওয়ার পথে উদ্ভিদের ডালপালা ও বৃক্ষপত্রে বাধাপ্রাপ্ত হওয়াকে ইন্টারসেপশন বলে। এভাবে বাধাপ্রাপ্ত পানি তিনটি পথে যেতে পারে। প্রথমত, পাতা থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে মাটিতে পড়ে (থ্রু ফল)। দ্বিতীয়ত, ডালপালা ও কাণ্ড বেয়ে ভূমিতে নামে (স্টেম ফ্লো)। তৃতীয়ত, পাতায় বাধা পেয়ে বাষ্পীভূত হয়ে সরাসরি বায়ুমণ্ডলে ফিরে যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সারণি অনুযায়ী স্থলভাগ থেকে বাষ্পীভবন ১৬% এবং বারিপাত ২৩%, অর্থাৎ বারিপাত ৭% বেশি। অন্যদিকে সমুদ্রে বাষ্পীভবন ৮৪% এবং বারিপাত ৭৭%, অর্থাৎ বারিপাত ৭% কম।
    এর কারণ হলো সমুদ্র থেকে বাষ্পীভূত পানির একটি অল্প অংশ (৭%) বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে স্থলভাগে এসে বৃষ্টি, তুষার বা শিলা আকারে পতিত হয়। স্থলভাগে এ অতিরিক্ত পানি ভূপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে প্রবাহ, নদীর প্রবাহ ও ভূগর্ভস্থ প্রবাহের মাধ্যমে আবার সমুদ্রেই ফিরে যায়।
    এভাবে সমুদ্রে যা ঘাটতি হয়, স্থলভাগ থেকে তা পূরণ হয়। ফলে মোট বাষ্পীভবন ও মোট বারিপাত সমান থাকে এবং পানিচক্রের মাধ্যমে মোট পানির কোনো ঘাটতি বা সংযোজন ঘটে না, আবর্তনশীল পানির পরিমাণ স্থির থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বন কেটে ফেলার ফলে প্রস্বেদন ও ইন্টারসেপশন কমে গেছে, যা পানিচক্রকে ব্যাহত করেছে। এর প্রভাব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
    ১. বায়ুমণ্ডলে প্রভাব: উদ্ভিদ কমে যাওয়ায় প্রস্বেদনের মাধ্যমে বায়ুতে জলীয়বাষ্প কম যাচ্ছে। ফলে মেঘ ও বৃষ্টি কমছে এবং বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা ও অনুকূল তাপমাত্রা বজায় থাকছে না।
    ২. বারিমণ্ডলে প্রভাব: বৃষ্টি কমায় ও মাটিতে পানির অনুপ্রবেশ ব্যাহত হওয়ায় নদীর উৎসস্থলে পানি সরবরাহ কমেছে। তাই নদীর প্রবাহ বজায় থাকছে না এবং নদী শুকিয়ে যাচ্ছে।
    ৩. শিলামণ্ডলে প্রভাব: মাটির আর্দ্রতা কমে মাটি শুষ্ক হয়েছে। পানিচক্র ভূপৃষ্ঠ ও অভ্যন্তরে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখে, কিন্তু তা ব্যাহত হওয়ায় ভূগর্ভের পানির স্তরও কমতে পারে।
    ৪. জীবমণ্ডলে প্রভাব: জীবদেহের প্রায় ৮০ ভাগ পানি এবং সকল বিপাকীয় ক্রিয়া, সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন পানির ওপর নির্ভরশীল। পানির সংকটে ফসল উৎপাদন কমবে, সুজলা-সুফলা পরিবেশ নষ্ট হবে এবং উদ্ভিদ, প্রাণী ও মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
    অতএব পানিচক্র ব্যাহত হলে পরিবেশের সকল উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভারসাম্য নষ্ট হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও