বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের পরিবার কাঠামো ও সামাজিকীকরণ

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের মেঘনা সাংমা গারো সম্প্রদায়ের মেয়ে। তাঁদের পরিবারে সংসারের কর্তৃত্ব মায়ের হাতে থাকে। বিয়ের পর তাঁর বাবা মায়ের বাড়িতে এসেই বসবাস শুরু করেছিলেন। মেঘনাদের সন্তানরা মায়ের বংশপরিচয় পায় এবং সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় মেয়েরা। অন্যদিকে মেঘনার বান্ধবী নাজমার পরিবারের কর্তা তাঁর বাবা। বিয়ের পর নাজমার মা স্বামীর বাড়িতে এসে উঠেছিলেন। নাজমারা পিতার বংশমর্যাদার অধিকারী।

  1. ক)

    পিতৃসূত্রীয় পরিবার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মাতৃবাস পরিবার বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মেঘনার পরিবার কর্তৃত্ব, বংশমর্যাদা ও বিবাহোত্তর বসবাসের ভিত্তিতে কোন কোন ধরনের পরিবার? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মেঘনা ও নাজমার পরিবারের মধ্যে কোন কোন দিক থেকে পার্থক্য রয়েছে এবং কোন পরিবারটি বাংলাদেশের সমাজে অধিক প্রচলিত? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে পরিবারের সন্তান-সন্ততি পিতার বংশমর্যাদার অধিকারী ও সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়, তাকে পিতৃসূত্রীয় পরিবার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বিবাহের পর নবদম্পতি যখন স্ত্রীর পিতৃগৃহে গিয়ে বসবাস করে, তখন সেই পরিবারকে মাতৃবাস পরিবার বলে। এটি বিবাহোত্তর বসবাসের স্থানের ভিত্তিতে পরিবারের একটি ধরন। বাংলাদেশে গারোদের মধ্যে এ ধরনের পরিবার দেখা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কর্তৃত্বের ভিত্তিতে: উদ্দীপকে মেঘনার পরিবারে সংসারের সামগ্রিক ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব মায়ের হাতে থাকে। যে পরিবারে কর্তৃত্ব মায়ের হাতে থাকে তাকে মাতৃপ্রধান বা মাতৃতান্ত্রিক পরিবার বলে। বাংলাদেশের খাসিয়া ও গারোদের পরিবার এ ধরনের।

    বংশমর্যাদা ও সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে: মেঘনার পরিবারে সন্তানরা মায়ের বংশপরিচয় পায় এবং সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়। যে পরিবার মায়ের দিক থেকে বংশমর্যাদা ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার অর্জন করে, তা মাতৃসূত্রীয় পরিবার।

    বিবাহোত্তর বসবাসের ভিত্তিতে: বিয়ের পর মেঘনার বাবা মায়ের বাড়িতে এসে বসবাস করেছিলেন। বিবাহের পর নবদম্পতি স্ত্রীর পিতৃগৃহে থাকলে তাকে মাতৃবাস পরিবার বলে। অতএব মেঘনার পরিবার মাতৃপ্রধান, মাতৃসূত্রীয় ও মাতৃবাস পরিবার।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে মেঘনার পরিবার মাতৃপ্রধান, মাতৃসূত্রীয় ও মাতৃবাস। অন্যদিকে নাজমার পরিবার পিতৃপ্রধান, পিতৃসূত্রীয় ও পিতৃবাস পরিবার। দুটি পরিবারের পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।

    (১) কর্তৃত্বের দিক থেকে: মেঘনার পরিবারে কর্তৃত্ব মায়ের হাতে, আর নাজমার পরিবারে কর্তৃত্ব পিতার হাতে। পরিবারের সামগ্রিক ক্ষমতা পুরুষ সদস্যের হাতে থাকলে সেটি পিতৃপ্রধান পরিবার।

    (২) বংশমর্যাদা ও সম্পত্তির দিক থেকে: মেঘনার পরিবারে সন্তানরা মায়ের বংশপরিচয় পায় এবং মেয়েরা সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়। নাজমার পরিবারে সন্তানরা পিতার বংশমর্যাদা ও সম্পত্তির অধিকারী হয়।

    (৩) বিবাহোত্তর বসবাসের দিক থেকে: মেঘনার বাবা বিয়ের পর স্ত্রীর বাড়িতে এসে থেকেছেন, ফলে সেটি মাতৃবাস পরিবার। নাজমার মা স্বামীর বাড়িতে এসে উঠেছেন, তাই সেটি পিতৃবাস পরিবার।

    প্রচলন: মাতৃতান্ত্রিক ও মাতৃসূত্রীয় পরিবার বাংলাদেশে শুধু খাসিয়া ও গারোদের মতো ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু বাংলাদেশের সমাজে পিতৃতান্ত্রিক, পিতৃসূত্রীয় ও পিতৃবাস পরিবার ব্যবস্থা প্রচলিত, যা গ্রাম ও শহর উভয় স্থানেই দেখা যায়। তাই নাজমার পরিবারের মতো পরিবারই আমাদের দেশে অধিক প্রচলিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও