জীববিজ্ঞান • গ্যাসীয় বিনিময়
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
নবম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। এক গরমের রাতে সে উঠানের বিশাল বটগাছটির নিচে খাট পেতে ঘুমাল। ভোররাতে তার দমবন্ধ লাগা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হলে সে ঘুম থেকে উঠে যায়। দাদু বললেন, ‘দিনের বেলা এই গাছের নিচে বসলে এমন হয় না, কিন্তু রাতে হয়।’
- ক)(1)
লেন্টিসেল কী?
- খ)(2)
উদ্ভিদের গ্যাসীয় বিনিময়ে স্টোমাটার ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনাটি দিনের বেলা না ঘটে রাতে ঘটার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সাব্বিরের জন্য রাতে বটগাছের নিচে ঘুমানো কি উচিত ছিল? উদ্ভিদের গ্যাসীয় বিনিময়ের আলোকে যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পরিণত উদ্ভিদের কাণ্ডের বাকলে অবস্থিত যে ক্ষুদ্র ছিদ্রের মাধ্যমে গ্যাসীয় আদান-প্রদান ঘটে, তাকে লেন্টিসেল বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্ভিদের পাতার ত্বকে অসংখ্য ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে, যাদের স্টোমাটা বা পত্ররন্ধ্র বলে। সালোকসংশ্লেষণের জন্য উদ্ভিদ এই ছিদ্র দিয়ে বায়ু থেকে CO₂ গ্রহণ করে এবং O₂ ত্যাগ করে। আবার শ্বসনের জন্য এই ছিদ্র দিয়েই O₂ গ্রহণ করে এবং CO₂ ত্যাগ করে। এভাবে স্টোমাটার মাধ্যমে পাতায় গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর দিনের বেলা পর্যাপ্ত আলো থাকায় সালোকসংশ্লেষণের হার বেশি হয়। এ সময় গাছ শ্বসনে উৎপন্ন CO₂-এর কিছু অংশ সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহার করে এবং O₂ ত্যাগ করে। ফলে আদান-প্রদানকৃত O₂ ও CO₂-এর পরিমাণ প্রায় সমান থাকে এবং গাছের নিচে কোনো অসুবিধা হয় না।
কিন্তু রাতে আলো না থাকায় সালোকসংশ্লেষণের আলোক পর্যায় বন্ধ থাকে, তাই O₂ উৎপন্ন হয় না। অথচ শ্বসন প্রক্রিয়া দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চলে, ফলে গাছ O₂ গ্রহণ করে এবং CO₂ ত্যাগ করতেই থাকে। এতে গাছের নিচে CO₂-এর পরিমাণ বেড়ে যায় ও O₂-এর পরিমাণ কমে যায়। সাব্বির এই পরিবেশে ঘুমানোয় তার শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছিল। তাই ঘটনাটি রাতে ঘটেছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সাব্বিরের জন্য রাতে বটগাছের নিচে ঘুমানো উচিত হয়নি। যুক্তি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
১. দিনে ও রাতে গ্যাস বিনিময়ের পার্থক্য: দিনের বেলা সালোকসংশ্লেষণে গাছ CO₂ নেয় ও O₂ ছাড়ে, শ্বসনে O₂ নেয় ও CO₂ ছাড়ে। দুটি প্রক্রিয়া একসাথে চলায় বাতাসে O₂ ও CO₂-এর ভারসাম্য থাকে।
২. রাতের অবস্থা: রাতে আলো না থাকায় সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ থাকে, কিন্তু শ্বসন চলতেই থাকে। ফলে গাছ কেবল O₂ গ্রহণ করে ও CO₂ ত্যাগ করে।
৩. মানুষের ওপর প্রভাব: গাছের ঘন পাতার নিচে বায়ু চলাচল কম থাকে। ফলে সেখানে CO₂ জমে এবং O₂ কমে যায়। ঘুমন্ত মানুষ ওই বাতাসে শ্বাস নিলে দেহে প্রয়োজনীয় O₂ কম পৌঁছায়, তাই শ্বাসকষ্ট হয়। সাব্বিরের ক্ষেত্রে তাই হয়েছে।
৪. সিদ্ধান্ত: দেহে ৩-৪ মিনিটের বেশি O₂ সরবরাহ বন্ধ থাকলে মৃত্যুঝুঁকি দেখা দেয়। তাই রাতে বড় গাছের নিচে ঘুমানো অনুচিত; সাব্বিরের উচিত ছিল খোলা ও বায়ু চলাচলযুক্ত স্থানে ঘুমানো।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও